Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

যে কারণে পিছিয়ে ময়মনসিংহের নারী ক্রিকেট

যে কারণে পিছিয়ে ময়মনসিংহের নারী ক্রিকেট
অনুশীলন করছে কিশোরী ক্রিকেটাররা, ছবি: বার্তা২৪.কম
উবায়দুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

কলসিন্দুর, নামটা উচ্চারণ করতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক ঝাঁক নারী ফুটবলারের মুখ! গারো পাহাড়ের পাদদেশে নিভৃত একটি গ্রামের নাম কলসিন্দুর। যাকে বলা হয় বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের আঁতুরঘর।


ময়মনসিংহ জেলার এই এলাকা থেকে উঠে এসেছেন মারিয়া, তহুরা, মার্জিয়া, সানজিদাসহ একদল নারী ফুটবলার। যারা জাতীয় দলের হয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ব্রহ্মপুত্র পাড়ের এ জেলায় ফুটবলে নারীরা যতটা এগিয়ে, ঠিক ততটাই পিছিয়ে ক্রিকেটে। পর্যাপ্ত সুযোগ ‍সুবিধার অভাব আর লোকলজ্জার ভয়ে তৃণমূল থেকে উঠে আসছে না নারী ক্রিকেটার।

পাশাপাশি খেলার মাঠের অভাব, নিরাপত্তাহীনতা আর আর্থিক দৈনতার কারণে বাড়ছে না নারী ক্রিকেটারের সংখ্যা- বললেন ময়মনসিংহের নারী ক্রিকেটার তৈরির কারিগর শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের নারী দলের কোচ এস এম মুখলেছুর রহমান।

tes
অনুশীলন করছে কিশোরী ক্রিকেটাররা, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

তিনি বলেন, মেয়েদের ক্রিকেটে আসার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হচ্ছে পরিবার। আবার সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তো রয়েছেই। যারা আসে তাদের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা। রয়েছে খেলার মাঠের অভাব৷ আলাদাভাবে অনুশীলন করার জন্য কোনো মাঠই নেই ময়মনসিংহে। মহিলা ক্রীড়া সংস্থার একটি মাঠ আছে, কিন্তু সেটি অনুশীলনের জন্য উপযুক্ত না। জেলা প্রশাসক যদি সেখানে সুব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে মেয়েরা প্রতিবন্ধকতা দূর করে অনুশীলন করতে পারবে। কারণ বাইরে অনেকেই বিরক্ত করে তাদের। অনেক কষ্ট করে আমরা অভিভাবকদের কাছ থেকে মেয়েদের নিয়ে আসি। এরপর যদি রাস্তাঘাটে তাদের কটূক্তি শুনতে হয়, তাহলে তো মেয়েরা আসবে না।

মুখলেছুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহে অনেক সম্ভবনাময় নারী ক্রিকেটার আছে। তাদের ঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে এখান থেকেই অনেক মেয়ে বড় জায়গায় যেতে পারবে এবং তাদের দেখে অনেক মেয়েই অনুপ্রাণিত হবে। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে।

te
অনুশীলন করছে কিশোরী ক্রিকেটাররা, ছবি: বার্তা২৪.কম

পাশাপাশি নারী ক্রিকেটারের সঙ্কট কাটাতে বিসিবির কাছে মেয়েদের প্রতি সু-নজর দেওয়ার তাগিদ কোচ মুখলেছুর রহমানের।

সম্প্রতি জেলার রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়াম মাঠে দেখা মেলে অনুশীলনে ব্যস্ত স্বর্ণ, লাকী, লাবিবাসহ একদল কিশোরী। তাদের চোখে-মুখে স্বপ্ন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে একদিন জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতাবে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলে জায়গা করে নিতে নিজেদের প্রস্তুত করছে তারা।

স্বর্ণলতা স্বর্ণ নামে এক কিশোরী ক্রিকেটারের মতে, প্রতিটি জেলাতেই একটি নারী একাডেমি থাকা দরকার, যেটি নেই। বিভিন্ন সরঞ্জামাদি সরকারিভাবে দেওয়া উচিত আগ্রহী নারীদের। একই সঙ্গে যারা অনুশীলন করবে তাদের জন্য জেলা ভিত্তিক নিয়মিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে পারলে অনেক খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে।

a
অনুশীলন করছে কিশোরী ক্রিকেটাররা, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

সব প্রতিবন্ধকতা দূরে ঠেলে মেয়েদের ক্রিকেটে আসা উচিত বলে মনে করে আরেক কিশোরী ক্রিকেটার সাবিহা লাবিবা। তার ভাষায়, কে কি বলল সেটা কানে না নিয়ে নিজের আগ্রহ ও ইচ্ছা শক্তিকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

জাতীয় দলের সালমা-জাহানারাদের হাত ধরে এসেছে টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারী ক্রিকেটকে আরো এগিয়ে নিতে সাকিব-তামিমদের মতো যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে উদীয়মান নারী ক্রিকেটারদের।

আপনার মতামত লিখুন :

ভারতে গ্রেফতার গোদাগাড়ীর জঙ্গি শাহীন

ভারতে গ্রেফতার গোদাগাড়ীর জঙ্গি শাহীন
জঙ্গি শাহীন। ছবি: সংগৃহীত

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদ বাংলাদেশের (জেএমবি) চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ একটি দল। মঙ্গলবার (২৫ জুন) তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে- তারা স্লিপার সেলের সদস্য হিসেবে কাজ করত। কলকাতায় তারা বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে দুই বাংলার প্রশাসন এখন তৎপর।

কলকাতায় গ্রেফতার চার জঙ্গির মধ্যে তিনজনই বাংলাদেশি। এর মধ্যে আল-আমিন ওরফে শাহীন (২৩) রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ছেলে। শাহীনের বাবা পৌর এলাকার বুজরুক রাজারামপুর গ্রামের রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম।

শাহীন ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও নেই বলে জানিয়েছেন তার মা।

শাহীনের মা সাহের বানু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গতবছরের (২০১৮ সাল) জুন মাসের দিকে শাহীনকে ধরতে বাড়িতে পুলিশ আসে। কিন্তু আমার ছেলে ওই সময় বাড়িতে ছিল না। পরে তারা শাহীনের মোবাইল নম্বর ও ছবি নিয়ে যায়।’

সাহের বানু বলেন, ‘পুলিশ বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর আমরা তাকে মোবাইলে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ পাইনি। পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার বন্ধু-বান্ধব বা যাদের সঙ্গে সে মিশত, তারাও কেউ শাহীনের খোঁজ দিতে পারেনি।’

শাহীনের মা জানান, তার ছেলে গোদাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও গোদাগাড়ী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। পরে সে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়। নিখোঁজের সময় শাহীন তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল।

শাহীনের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৭ সালে রাজারামপুর গ্রামের আমিজুল ইসলাম রনিকে ক্রসফায়ারে দেয় পুলিশ। রনির সঙ্গে আমার ছেলে মিশত। তবে রনি এবং আমার ছেলে কোনো খারাপ কাজে জড়িত ছিল কিনা তা জানি না। রনি মারা যাওয়ার পর শাহীনও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এক বছর হল শাহীনের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই।’

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শাহীনকে গ্রেফতার করতে আমরা তার বাড়ি এবং ওই এলাকায় কয়েক দফা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছি। তবে সে খুব চতুর। বড় কোনো পর্যায়ে তার যোগাযোগ ছিল। আগে থেকে সে সরে পড়ত।’

ওসি আরও বলেন, ‘গত এক বছর ধরে তার আর কোনো সন্ধান মিলছিল না। মূলত সে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) সে কলকাতায় গ্রেফতার হয় বলে শুনেছি।’

প্রসঙ্গত, ভারতের শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং এলাকা থেকে মঙ্গলবার জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন এবং মামুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে আল-আমিন ওরফে শাহীন এবং রবিউল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দুই বাংলাদেশি জঙ্গি জিয়াউর রহমানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং মামুনুর রশিদের বাড়ি রংপুরে।

বার্তা২৪.কমে খবর প্রকাশ: সরকারি গাছ কাটা বন্ধ করলেন ইউএনও

বার্তা২৪.কমে খবর প্রকাশ: সরকারি গাছ কাটা বন্ধ করলেন ইউএনও
গাছ পরিদর্শনে ফারহানা করিম, ছবি: বার্তা২৪.কম

মাল্টিমিডিয়া অনলাইন নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার জেলখানা মোড় এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারকে উক্ত এলাকার সরকারি গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারহানা করিম।

সোমবার (২৪ জুন) বার্তা২৪.কমে ‘সরকারি গাছ কাটছে এমডি ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশন’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় গাছ কাটার ঘটনা তদন্ত করতে যান। খবর পেয়ে  গাছ কাটার শ্রমিকরা ও করাতকলের মালিক ইজ্জত আলী পালিয়ে যান।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকারি গাছ কাটার অনুমতিপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান এমডি ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার বাপ্পীদের ছোট ভাই কোনো ধরনের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাছকাটা বন্ধের নির্দেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা করিম বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অনুমতি না থাকায় গাছকাটা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র