মুক্তিপণ আদায়: ২ পুলিশ, ১ নারী গ্রেফতার



সেন্ট্রাল ডেস্ক ২

  • Font increase
  • Font Decrease
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় অভিনব কায়দায় ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), এক কনস্টেবল ও এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সদর মডেল থানা পুলিশের এএসআই রফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম এবং সদর উপজেলার বেতবাড়িয়ার আল আমিনের স্ত্রী আঁখি আক্তার। গ্রেফতারের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে অপহƒত ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ভুঁইয়া বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় ওই মামলা করেন বলে জানান ওই থানার ওসি নবীর হোসেন। তিনি বলেন, গত সোমবার দুপুরে শহরের মসজিদ রোড পূবালী ব্যাংকের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন ব্যবসায়ী জাকির হোসেন। এ সময় আঁখি অসুস্থতার ভান করে তার গায়ে ধাক্কা খেয়ে তাকে রিকশায় উঠিয়ে দিতে বলেন। রিকশা উঠিয়ে দিলে আঁখি তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। জাকির হোসেনের বরাত ওসি নবীর হোসেন বলেন, মানবিক কারণে জাকির তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে রাজি হন। আঁখির কথামতো তার বাড়িতে প্রবেশ করলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা এএসআই রফিকুল ও কনস্টেবল শরীফুল জাকিরকে শব্দ করতে না করেন, করলে হত্যা করা হবে বলে ভয় দেখান। এরপর তার পকেট থেকে ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন এবং আরো ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন দুই পুলিশ সদস্য। জাকির তার মোবাইল ফোন থেকে আত্মীয় স্বজনকে টাকা পাঠাতে বললে ০১৭৭২৬২২০০৫ ও ০১৯৯৩৭৮৯১৬৯ নম্বরে ১১ দফায় ৯৩ হাজার টাকা পাঠানো হয়। ওসি নবীর হোসেন বলেন, “আরও টাকার জন্য জাকির আরেক আত্মীয়কে ফোন দিয়ে বিকাশ নম্বর দিলে ওই আত্মীয় ঘটনাটি আমাকে জানান। পরে প্রযুক্তির ব্যবহার করে জানা যায়, বিকাশ নম্বরটি শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ‘মা জেনারেল স্টোর অ্যান্ড টেলিকমের’।” বিষয়টি অপহরণকারীরা জানতে পেরে জাকিরকে মারধর করে অটোরিকশায় তুলে শহরের পুনিয়াউট এলাকায় ফেলে দিয়ে যায়। এরপর জাকির থানায় এসে পুরো ঘটনা জানালে রাতেই এএসআই রফিকুল ও কনস্টেবল শরীফুলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ওসি। আঁখিকে গ্রেপ্তার করা হয় মঙ্গলবার সকালে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা নবীর হোসেন।