Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আষাঢ়ের প্রথম দিনে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি

আষাঢ়ের প্রথম দিনে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি
রাজধানীতে বৃষ্টির পাশাপাশি বিদ্যুৎ চমকানোর দৃশ্য, ছবি: সুমন শেখ
শাদরুল আবেদীন
নিউজরুম এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

"আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে--
আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে।
এই পুরাতন হৃদয় আমার আজি
পুলকে দুলিয়া উঠিছে আবার।"

আষাঢ় নিয়ে কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন এমন অসংখ্য কবিতা।

তার কবিতার মতোই মেঘের গর্জন আর বৃষ্টি দিয়ে আজ শনিবার (১৫ জুন) বর্ষাকালের আগমন ঘটল। কারণ, আজ ১৪৩৬ বঙ্গাব্দের বর্ষা ঋতুর প্রথম দিন এবং আষাঢ়ের ১ তারিখ।

বর্ষার এ সময়ে প্রকৃতি নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে নেয়। কদম ফুলের ঘ্রাণ যেন মুগ্ধ করে সবাইকে। বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা বর্ষাকে সেকেন্ড সামার বলে থাকেন। কারণ, বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জনজীবন। তবে মৌসুমি বায়ু প্রবাহের কারণে যখন বৃষ্টিপাত হয়, তখন প্রকৃতি ভিন্ন সাজে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। তবুও বর্ষাকে ঋতুর রাণী বলা হয়ে থাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560583782220.jpg

শনিবার ভোর ৬ টা থেকে রাজধানীর আকাশে মেঘ জমতে থাকে। এরপর আকাশে কালো মেঘের সৃষ্টি, এমন সময় নামল বৃষ্টি। ধীরে ধীরে পুরো রাজধানী জুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়। তবে এই বৃষ্টি কিছু সময়ের মধ্যে থেমে গেলেও আকাশ এখন কালো। সঙ্গে রয়েছে মেঘের গর্জনও। তবে কিছু জায়গায় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে গত শুক্রবার (১৪জুন) থেকে বৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বার্তা ২৪.কমকে জানান, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পূর্ববঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমমৌসুমী বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ অতিক্রম করে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। আজ সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ স্থানে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশের এখনও মেঘ আছে। শুক্রবারও দেশের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হয়েছে।

 https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560584411327.jpg

তিনি আরও জানান, মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী পাঁচদিনে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাপমাত্রাও কিছুটা কমবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে কয়েকদিন পর পর টানা বৃষ্টি থাকবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় আর রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560584437251.jpg

অপরদিকে, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কিছু কিছু এলাকা থেকে তা প্রশমিত হতে পারে।

এদিকে, গ্রীষ্মকে বিদায় জানাতে আষাঢ়ের প্রথম দিনেই প্রাণ জুড়ানো বৃষ্টির ফোঁটায় অনেকে হয়ত নিজেকে ভিজিয়ে নিবেন। কেউবা মনের ভুলে গেয়ে উঠবেন (বর্ষার প্রথম দিনে/ ঘনকালো মেঘ দেখে/ আনন্দে যদি কাঁপে তোমার হৃদয়/ সেদিন তাহার সাথে কর পরিচয়....। কিংবা এসো ঝর ঝর বৃষ্টিতে, জল ভরা দৃষ্টিতে...।)

আপনার মতামত লিখুন :

বোর্ড সেরার মুকুট চট্টগ্রাম কলেজের

বোর্ড সেরার মুকুট চট্টগ্রাম কলেজের
এইচএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থীরা

গৌরব আর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবারও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সেরা কলেজের মুকুট অর্জন করেছে চট্টগ্রাম কলেজ। ঘোষিত ফলাফলে সর্বাধিক জিপিএ-৫ পাওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞান শাখায় শতাধিক পাশের কৃতিত্ব দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান। এরপরে স্ব স্ব কলেজের ফল প্রকাশিত হয়। দুপুর ২টা নাগাদ চট্টগ্রাম কলেজের ফল পাওয়া যায়।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৮৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে শতাধিক পাশের সাথে ৫৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৯৩ শিক্ষার্থী। এছাড়া মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া ২৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬২ জন শিক্ষার্থী।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563367361242.jpg
ফল জানার পরে কলেজ ক্যাম্পাসে বন্ধু আর সহপাঠিদের নিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আনন্দে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ।

মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী তানজিয়া বিনতে কবির এক প্রতিক্রিয়ায় বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এমন মুহূর্তকে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আম্মু, ভাইয়া আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে আকাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করেছি।

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তানজিয়া। অপরদিকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করা শিক্ষার্থী ইরতিসাম উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন শেষে দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেন বলে জানান।

সন্তানদের এমন অর্জনে অভিভাবকরা খুশি। নুরুল আবছার নামে এক অভিভাবক বলেন, মেয়েটা গতকাল থেকে চিন্তায় খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। রাত দিন অনেক পরিশ্রম করেছে, আজ ভালো রেজাল্ট পেয়ে অনেক খুশি।

অভিভাবক, শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে এমন ফল ধরা দিয়েছে বলে জানালেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল হাসান। তিনি বলেন, শিক্ষক, অভিভাবক আর আমার সহকর্মীদের কারণে এমন ফল অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। একটি চারাগাছকে সঠিকভাবে নার্সিং না করলে সেটি মারা যাবে। আমিও চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের চেষ্টার মূল্যায়ন করার।

এদিকে সেরা কলেজের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মহসিন কলেজের ১ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার মধ্যে ৫৩৪ জন জিপিএ-৫, তৃতীয় স্থানে থাকা সিটি কলেজের ২ হাজার ১৫৪ জনের মধ্যে ৩২১ জন, চতুর্থ স্থানে থাকা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের ৯৫৩ জনের মধ্যে ২৫০ জন, পঞ্চম থানে থাকা সরকারি মহিলা কলেজের ১ হাজার ২৮০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

ঢাকায় ‘এডুকেশন ইউএসএ’ প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন

ঢাকায় ‘এডুকেশন ইউএসএ’ প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশন
ওরিয়েন্টেশনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার, ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বুধবার (১৭ জুলাই) আমেরিকান সেন্টারে শিক্ষার্থীদের জন্য ২০১৯ ‘এডুকেশন ইউএসএ’ প্রি-ডিপারচার ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গত শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪.৯ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৪৯৬ জন হয়েছে। ২০১৮ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময় বিষয়ক ‘ওপেন ডোরস’ রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির হার আন্তর্জাতিক গড় ১.৫ শতাংশকে পেছনে ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দেশের একটি। যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যার দিক থেকেও এখন বাংলাদেশ বিশ্বে নবম স্থানে রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল ১০ লাখেরও বেশি। এবার এ সংখ্যা ১১ লাখ, যা একটি রেকর্ড। পরিসংখ্যান আরও বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি টানা ১২ বছরের মতো অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানে ‘এডুকেশন ইউএসএ’র পরামর্শ সেবা ও রেফারেন্স সামগ্রী পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে বারিধারায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আমেরিকান সেন্টার, ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টার ফর পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড দ্য আর্টস এবং চট্টগ্রামের আমেরিকান কর্নার। এসব স্থানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা দলভিত্তিক তথ্য সেশন পরিচালনা করেন এবং শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মায়েদের পরামর্শ দেন। এছাড়া সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর আমেরিকান কর্নারেও এডুকেশন ইউএসএ’র রেফারেন্স লাইব্রেরি এবং পরামর্শ সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র