Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় হতাশ রংপুরবাসী

বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় হতাশ রংপুরবাসী
ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে `সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শীর্ষক ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করা হয়েছে। বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বাজেটে রংপুরে গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে দারিদ্র নিরসন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পোশাক ও কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়তে বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় হতাশা রংপুরবাসী।

এদিকে, জনকল্যাণমূলক ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বাজেটকে বাস্তবমুখী বলছেন অনেকে। তবে উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে ও জেলার উন্নয়নে আঞ্চলিক বা বিশেষ বরাদ্দের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন চেম্বার নেতাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560598292859.jpg

রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘বিগত সময়ের মতো এবারের বাজেটেও অবহেলিত রংপুরকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এই বাজেটে রংপুর বিভাগের শিল্পায়নে আলাদা ঋণ, কর ও ভ্যাট নীতি প্রণয়ন, বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া কৃষকদের বিশেষ প্রণোদনা, রংপুরে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও আইটি পার্ক স্থাপন, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে ‘নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি গঠনের বিষয়ে কিছুই বলা নেই। রংপুর বিভাগের মানুষ বারবার উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ছাড়া এই বিভাগের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘এই বাজেটে রংপুর বিভাগের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। এই অঞ্চলের দারিদ্র্য নিরসন ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাজেটে বিশেষ কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/15/1560598313558.jpg

তিনি আরও বলেন, 'এ অঞ্চলের পাঁচ জেলার এক কোটি ২০ লাখ মানুষের জন্য যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, অন্য জেলায় ১০ লাখ মানুষের জন্য তার দ্বিগুণ বরাদ্দ রাখা হয়। এরকম বৈষম্যমূলক বাজেট আমরা অনেক দেখেছি। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে বৈষম্য দূর করতে রংপুরের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা জরুরি।'

কৃষক নেতা আবদুল কুদ্দুস বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ জনগণের কষ্ট বাড়বে। বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাস্তবে সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া তামাকনির্ভর রংপুর অঞ্চলের কয়েক লাখ শ্রমিক ও চাষিদের কথা বিবেচনা করে বিড়ি শিল্পকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণা হোক।' এ সময় সংশোধিত বাজেটে তামাক পণ্যের ওপর যৌক্তিক হারে করারোপেরও পরামর্শ দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্ত্রীকে যৌন হয়রানি, গ্রেফতার ৩

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও স্ত্রীকে যৌন হয়রানি, গ্রেফতার ৩
গ্রেফতারকৃত তিন যুবক, ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী্কে যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সহকারী অধ্যাপক রাশিদুল ইসলামের উপর হামলা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর সোনাদিঘী মোড় থেকে তাদের আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা।

পরে তাদের মহানগর পুলিশের পশ্চিম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আমির জাফরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানেই দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আটককৃতদের। পরে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়। তাদের মধ্যে একজন জাতীয় দৌঁড়বিদও রয়েছেন।

এদিকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘তিনজনকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আমাদের থানায় সোপর্দ করেছেন।’

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার মোল্লাপাড়া এলাকার মুসতাকের ছেলে বকুল আহমেদ (১৯), রাজপাড়া থানার আলিরমোড় এলাকার দুলালের ছেলে শাহানুর হোসেন খোকন (১৯) ও নগরীর বোয়ালিয়া থানার কাদিরগঞ্জ এলাকার শহিদুলের ছেলে রিপন মন্ডল (১৮)

জানা যায়, গত ১০ আগস্ট রুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম (প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্বর্ণপদক প্রাপ্ত) তার স্ত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় একদল বখাটের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর ওই শিক্ষক ফেসবুকে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন। যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের আশ্বাসে গত ১৬ আগস্ট শিক্ষক রাশিদুলের স্ত্রী এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জন যুবককে আসামি করা হয়। পুলিশ গুরুত্বসহকারে মামলাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন, রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে কিশোরীকে অপহরণ

অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে কিশোরীকে অপহরণ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে কিশোরী অপহরণ, ছবি প্রতীকী

রাজশাহীর দুর্গাপুরে অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে এক কিশোরীকে অপহরণ করেছে একদল বখাটে। মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বখাটেদের বাধা দেওয়ায় কিশোরীর মাকেও মারধর করা হয়। ভয়-ভীতি দেখিয়ে বাড়ির স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থও লুট করে নিয়ে যায় বখাটে দল।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামের মন্ডলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত কিশোরী কয়ামাজমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। কিশোরীর পরিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের।

পরিবার সূত্র জানায়, গত এক বছর ধরে টুটুল নামে স্থানীয় এক যুবক উত্যক্ত করে আসছিল। বখাটেদের হাত থেকে রেহাই পেতে কিশোরীর বিয়ে ঠিক করে পরিবার। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর তার বিয়ের দিন ঠিক করা হয়।

অপহৃত কিশোরীর বাবা তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মায়ের বরাত দিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা ছিলেন। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে দু'টি মোটরসাইকেলযোগে ৪/৫ জন যুবক তার বাড়িতে আসেন । প্রথমে তারা অস্ত্রের মুখে কিশোরীর মা ও দাদিকে জিম্মি করে। পরে তার ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে। পরে মেয়েকে নিয়ে যেতে উদ্যত হলে তার স্ত্রী চিৎকার দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তার স্ত্রীকে মারপিট করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

কিশোরীর বাবা বলেন, 'যারা বাড়িতে এসেছিল, তাদের একজনের হাতে পিস্তল ও একজনের হাতে ধারালো অস্ত্র (চাকু) ছিল। বাড়ির বাইরে পাহারায় ছিল আরও ২ থেকে ৩ জন।'

কিশোরীর বাবা জানান, প্রায় এক বছর ধরে কায়ামাজমপুর গ্রামের ফেরদৌস আলীর ছেলে টুটুল তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে কয়েকবার তার বাবাকে অভিযোগও করা হয়। তাতে কোন কাজ হয়নি। টুটুলের বাবা ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে ভয়ে তিনি পুলিশকে অভিযোগও করতে যাননি। বাধ্য হয়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিলেন। এক সপ্তাহ আগে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার আশীর্বাদ হয়েছে।

জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খুরশিদা বানু কনা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে নেমেছে।’

তিনি আরও বলেন, 'আমরা আশেপাশের সকল থানায়ও বার্তা পাঠিয়েছি। সবার আগে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।' পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন, রাজশাহীতে দিনে নারী-শিশু নির্যাতনের ১২ মামলা

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র