Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নানা রংয়ের ফুলের মেলা বনানীতে

নানা রংয়ের ফুলের মেলা বনানীতে
রাজধানীর বনানী কাঁচা বাজারের পাশের ফুলের দোকান। ছবি: বার্তা২৪.কম
রা‌কিবুল ইসলাম
স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলায় ফু‌লের ঋতু হচ্ছে বসন্ত। বসন্তের আগমন হ‌লে ফু‌লের বার্তা পৌঁছায় বাঙালির হৃদ‌য়ে। ত‌বে বিভিন্ন সময়ে ফু‌লের প্রয়োজন হয়। তাইতো দে‌শি-বি‌দে‌শি হ‌রেক রক‌মের রং বে-রংয়ের ফুলের পসরা সা‌জি‌য়ে ব‌সে থা‌কেন দোকানিরা।

এম‌নিভা‌বে জমকা‌লো রং‌য়ের নানা প্রজা‌তির ফুল নি‌য়ে রাজধানীর বনানী কাঁচা বাজা‌র ঘেঁষে ব‌সে আছেন ব্যবসায়ীরা। এখা‌নে ছোট-বড় মি‌লে একসঙ্গে প্রায় ১০টির মতো ফু‌লের দোকান রয়েছে।

ব্যবসায়ী‌দের সঙ্গে কথা ব‌লে জানা যায়, ফুল‌ প্রেমী ক্রেতাদের চা‌হিদা মাথায় রে‌খে এখা‌নে দে‌শি-বি‌দে‌শি নানা প্রকা‌রের ফুল সংগ্রহে রে‌খে‌ছেন তারা। এসব দোকা‌নে পাওয়া যায় দেশি গোলাপ, লাল গোলাপ, হল‌ুদ গোলাপ, কমলা গোলাপ, সাদা গোলাপ, চায়না গোলাপ, কাঠ গোলাপ, রজনীগন্ধা, ‌দোলন চাঁপা, লি‌লি, গাঁদা, ডালিয়া, দিঘলদী, মাধবপাশা, আইছতলা, বেলি, জিপসি, জারবেরা, কাঠমাল‌তি, চন্দ্রম‌ল্লিকা, গো‌ল্ডেন স্টিকসহ নানা প্রজা‌তির ফুল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/16/1560668068577.jpg

অনে‌কের ম‌তে, প্রিয়জন‌কে খু‌শি কর‌তে কিংবা উপহার দি‌তে সব‌চে‌য়ে ভা‌লো উপহার হ‌চ্ছে ফুল।

ক্রেতারা জানান, নবীন বরণ কিংবা প্রবীণদের বিদায়, পদোন্নতি কিংবা স্থানান্তর, বি‌য়ে কিংবা জন্ম‌দিন, বি‌শেষ কিছু অর্জনে স্বাগত জানা‌তে ফুল ছাড়া যেন কল্পনা‌ই করা যায় না। এমনকি মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানা‌তেও ব্যবহৃত হয় ফুল। সব মি‌লি‌য়ে নিত্যদি‌নের এক অবি‌চ্ছেদ্য অংশ হ‌য়ে দাঁড়ি‌য়ে‌ছে ফুল।

বাংলা‌দে‌শের যেসব জাতীয় দিব‌সে ফু‌লের চা‌হিদা বে‌ড়ে যায় তার ম‌ধ্যে র‌য়ে‌ছে ‌বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, মাতৃভাষা দিবস, বু‌দ্ধিজী‌বী দিবস, শোক দিবস অন্যতম।

এর বা‌ইরেও প‌হেলা বৈশাখ, ভ্যালেন্টাইন ডে, মাদার্স ডে কিংবা বন্ধ‌ু দিব‌সেও জনম‌নের অন্যরকম খোরাক জোগায় এসব ফুল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/16/1560668087770.jpg

রোববার (১৬ জুন) রোমানা না‌মে এক বেসরকারি কর্মকর্তা বার্তা২৪.কম‌কে বলেন, ‘অফি‌সে নতুন বস আস‌বেন। তা‌কে বরণ কর‌তে ফুল কিন‌তে এসেছি। বনানীর এ অঞ্চ‌লের মানু‌ষের ফু‌লের চা‌হিদা মেটায় এসব দোকান। এখানে প্রায় সব ধর‌নের ফুল পাওয়া‌ যায়।’

ত‌বে ফু‌লের ব্যবসায় লোকসা‌নের শঙ্কা সব সময়ই থা‌কে ব‌লে জানান বি‌ক্রেতারা। বি‌ভিন্ন সামা‌জিক বা জাতীয় দিব‌সে ফু‌লের চা‌হিদা বে‌ড়ে গে‌লেই কেবল বাড়তি উপার্জন করা সম্ভব হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/16/1560668125160.jpg

ওই এলাকার দোলন চাঁপা ফ্লাওয়ার স্টো‌রের বি‌ক্রেতা সে‌লিম বার্তা২৪.কম‌কে জানান, ফু‌লের চা‌হিদা বছর জু‌ড়ে একই রকম থা‌কে। কিছু কিছু দিব‌সে ফু‌লের দাম কিছুটা বে‌ড়ে যায়। কারণ এ সময় চারদি‌কে প্রচুর ফু‌লের চা‌হিদা থা‌কে। ফ‌লে খামা‌রিরাও দাম বা‌ড়ি‌য়ে দেন। এক সঙ্গে অনেক ফুল আন‌তে গি‌য়ে নষ্টও হ‌য়ে যায়। তাছাড়া ফুল‌ সংগ্রহ করে রাখা যায় না। তাই তাদের হাতেও কিছু থা‌কে না। তবুও লোকসান মে‌নে নি‌য়ে ব্যবসা করেন।

ত‌বে দে‌শে ফু‌লের চা‌হিদার জোগান দি‌তে এবং আর্থিকভা‌বে লা‌ভবান হ‌তে ফুল চা‌ষের পরামর্শও দেন তি‌নি।

আপনার মতামত লিখুন :

'ইন্টারনেটমুখী হয়ে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম'

'ইন্টারনেটমুখী হয়ে বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম'
খুলনা সিটি কর্পোরেশনর মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জ্ঞান চর্চার জন্য বইয়ের বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্ম অতিমাত্রায় ইন্টারনেটমুখী হওয়ায় বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে পুস্তক পাঠের আগ্রহ সৃষ্টি করে জ্ঞানভিত্তিক ও মননশীল সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তাহলে আজকের প্রজন্ম আগামী দিনে সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে উল্লেখ করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনর মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে নগরীর বিএমএ মিলনায়তনে বার্ষিক গ্রন্থ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তিনি ফিতা কেটে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ গঠনের উদ্দেশ্য একাডেমিক ও গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা ও পাঠকের কাছে তা সহজলভ্য করে তোলার লক্ষ্যে প্রকাশনা সংস্থা 'ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)' এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সিটি মেয়র নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করার জন্য শিক্ষক, অভিভাবকসহ সুধীজনদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।  

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সাধন রঞ্জন ঘোষ এবং স্বাগত বক্তৃতা করেন ইউপিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন। অন্যান্যদের মধ্যে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি খুলনা শাখার সভাপতি মোঃ আলমগীরসহ সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকাশনা সংস্থাটি খুলনায় তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।

ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে নারী সংহতির মানববন্ধন

ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে নারী সংহতির মানববন্ধন
নারী সংহতি মিরপুর অঞ্চলের মানববন্ধন

রাজধানীর ওয়ারীতে ৭ বছরের শিশু সায়েমাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে, ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে এবং সারা দেশে নারী-শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ করেছে নারী সংহতি-মিরপুর অঞ্চল।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে মিরপুর ১২ নম্বরের প্রিন্স প্লাজার সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারী সংহতি-মিরপুর অঞ্চলের আহ্বায়ক মুন্নী মৃ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মিরপুর অঞ্চলের সদস্য জেরিন সেতু। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কানিজ ফাতেমা ও সুলেখা রহমান এবং মিরপুর অঞ্চলের সংগঠক লুৎফুন্নাহার সুমনা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি ওয়ারিতে ৭ বছরের শিশু সায়মাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। অব্যাহতভাবে দেশে একের পর এক নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংস নিপীড়ন-ধর্ষণ-যৌননিপীড়ন-হত্যার ঘটনা ঘটে চলছে। গত ৬ মাসে ২০৮৩ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আগে সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে সাধারণত ক্ষমতাসীনেরা যুক্ত থাকলেও এখন ক্ষমতাহীন ব্যক্তিদেরও এসব ঘটনা ঘটাতে দেখা যাচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিত্যনতুন সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। দেশে নিরাপত্তাহীনতা এমন অবস্থায় গেছে যে, কে কখন, কোথায় সহিংসতার শিকার হবে তা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563544922280.jpg
বক্তারা বলেন, পুরুষেরা নারীর শত্রু নয়। কিন্তু যে পুরুষ নারী-শিশুদের ধর্ষণ-নিপীড়ন করে, হত্যা করে সে কারও বন্ধু হতে পারে না। একটি ছেলেশিশু শৈশব থেকেই পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে, মিডিয়ায়, চলচ্চিত্রে এবং সংস্কৃতিতে নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে চিনতে শেখে, দেখে তখন বড় হয়ে সে ধর্ষক হয়ে ওঠে। যে সমাজ-সংস্কৃতি ধর্ষক, নিপীড়ক, অমানুষ তৈরি করে, তাদের মানসিকতা বদলের জন্য রাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। সায়মার ধর্ষক হারুনকে আমরা রাতারাতি গ্রেপ্তার হতে দেখেছি। হয়তো তার বিচার হবে, শাস্তিও হবে। তবে কেবল শাস্তি নিশ্চিত হলেই ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন বন্ধ হবে না। সমাজ নারীদের পুরুষের সামনে ভোগ্যপণ্য হিসেবে হাজির করেছে। এ কারণে একজন নিপীড়ক পুরুষ মনে করে সে যা খুশি তা ই করতে পারে। পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার বলেই পুরুষ ধর্ষণের মতো অপরাধ করে।

বক্তারা আরও বলেন, একটা দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার বলে কিছু না থাকলে ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে যায়। আমরা এমন রাষ্ট্রে বাস করছি যেখানে নাগরিক হিসেবে নারীর পূর্ণ অধিকার নাই, সম্পত্তিতে সমানাধিকার নাই, অভিভাবকত্বে সমানাধিকার নাই, রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা নাই। ঘরে থেকেও শিশু-নারীরা আজ নিরাপদ নয়।

তারা বলেন, আমাদের ফেনীর নুসরাতে কাছ থেকে সাহস নিতে হবে, শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হবে। দেশের এই অনিরাপদ অবস্থাকে প্রশ্ন করতে হবে এবং এ থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ লড়াই ছাড়া এই দুঃশাসন থেকে বের হওয়ার আর কোনো পথ নেই। নারী-শিশুর জন্য, সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ এবং মর্যাদা সম্পন্ন সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিচারহীনতা, ধর্ষণ-যৌন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে পাড়ায়-মহল্লায়-প্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানায় নারী সংহতি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র