Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রকৃত মৎস্যজীবীরা হাওর লিজ নিতে পারছে না

প্রকৃত মৎস্যজীবীরা হাওর লিজ নিতে পারছে না
‘হাওর ও চর উন্নয়নে আপনার জানা আপনার ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি/ছবি: বার্তা২৪.কম
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বলেছেন, রামদাশ-হরিদাশ নাম দিয়ে আমাদের কাছে আসে, আমরা সুপারিশ দেই, দিতে হয়। ডিসিরা অনুমোদন দেন তারা হাওর লিজ পান। কিন্ত পর্দার পেছনে থাকে বড়রা। পুরো পরিকল্পিত যে কারণে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা হাওর লিজ পাচ্ছে না।

রোববার (১৬ জুন) কেআইবি মিলনায়তনে ‘হাওর ও চর উন্নয়নে আপনার জানা আপনার ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, হাওরের জন্য প্রকল্প নিয়ে আসেন আমি অনুমোদন দিবো। তবে সেই প্রকল্প হতে হবে বাস্তবতা ও জনকল্যাণে নিবেদিত। হাওরে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সংকট থাকবে না।

গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক আক্ষেপ করেন কেনো গবেষণা হচ্ছে না। গবেষণা বাড়াতে হবে।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, হাওর অঞ্চলের বেশিরভাগ লোক মৎস্যজীবী। জলাশয় তারা পাচ্ছে না। সরকার তাদের সমিতির নামেই দিচ্ছে। কিন্তু পেছেনে রয়েছে বিত্তশালীরা। এক সময় যে হাওর ২ লাখ টাকায় লিজ হতো সেটি এখন ২ কোটি টাকায় লিজ হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের আওতার বাইরে চলে গেছে। চিন্তা করতে হবে কিভাবে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে দেওয়া যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/16/1560670434682.jpg

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, হাওরে একটি দ্বন্দ্ব রয়েছে কেউ চায় দ্রুত পানি নেমে যাক চাষাবাদ করব। আরেক গ্রুপ চান পানি থাকুক মাছ চাষ করব। হাওরের ক্ষুদ্র কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর বড় কৃষকরা কিন্তু জমি কন্ট্রাক্ট দিয়ে নিজের টাকা ঠিকই বুঝে নয়।  হাওরের  যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন হওয়ায় চিত্র বদলে যাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। বর্তমান সরকার ব্যবস্থা সে উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. রকিবুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ৭ জেলার ৫৭ উপজেলায় হাওরের বিস্তৃতি রয়েছে। প্রায় ৮ হাজার বর্গকিলোমিটার হাওরাঞ্চলে ১ হাজার ৯৩৭ মিলিয়ন লোক বাস করে। জলের নিচে থাকে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমি।

আকস্মিক ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, ভারি বৃষ্টিপাতে দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, অনুন্নত হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা, স্যানিটেশনের অভাব, অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাব, সামাজিক অবক্ষয়, খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বর্ষা মৌসুমে কৃষকের বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া, অপ্রতুল শিক্ষা ব্যবস্থা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনামুলক কম উপস্থিতিকে সমস্যা বলে চিহ্নিত করেন।

প্রবন্ধে বলেন, হাওরে দেশের ১০ শতাংশ ধান উৎপাদিত হয়। সে কারণে জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন, মাছ রফতানি, আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ, স্কুল ফিডিং, পরিবেশ বান্ধব পর্যটন গড়ে তোলাসহ বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৮ হেক্টর চরাঞ্চল রয়েছে। বহ্মপুত্র,  যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর ৫ শতাধিক শাখা প্রশাখা রয়েছে। এসব নদী বছরে ১ থেকে আড়াই মিলিয়ন টন পলি বহন করে। এই পলির ৩০ শতাংশ তলানি পড়ে চরের সৃষ্টি হচ্ছে।

চরাঞ্চলে ফসল উৎপাদনে লাগসই প্রযুক্তির অভাব, কৃষকের জ্ঞানের অভাব, মানসম্মত বীজের অভাব, যাতায়াত ও অনুন্নত বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষকের ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করা, ফড়িয়াদের দৌরাত্ব্যসহ বেশ কিছু সমস্যা তুলে ধরা হয় প্রবন্ধে।

নদীর পলি বহন ক্ষমতা বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের সুপারিশ তুলে ধরেন রকিবুল ইসলাম খান।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর লুৎফুল হাসান।

আপনার মতামত লিখুন :

৭ নারী ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করল কালারস

৭ নারী ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করল কালারস
পুরস্কৃত ৭ নারী ব্যবসায়ী উদ্যোক্তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী পলক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাত নারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাকে পুরস্কৃত করেছে ঢাকা ও নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন কালারস। সাতটি ক্যাটাগরিতে নারী উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে দেশে প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেয় কালারস।

শনিবার (২০ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক জাকজমজ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ‘সিটি ব্যাংক কালারস প্ল্যাটিনাম বিজনেস ওমেন আওয়ার্ড-২০১৯’ শিরোনামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার জন্য উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সাতটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাওয়া নারীরা হলেন-প্ল্যাটিনাম বিজনেস ওমেন অফ দ্যা ইয়ার ক্যাটাগরিতে রুমানা চৌধুরী, বিজনেস এন্টারপ্রাইজ ক্যাটাগরিতে সুজান খান মঈন, এসএমই এন্টারপ্রাইজ ক্যাটাগরিতে তানিয়া ওয়াহাব, ইনোভেটিভ প্রজেক্ট অব দ্যা ইয়ার ক্যাটাগরিতে আমিনা খাতুন, স্টার্টআপ অফ দ্যা ইয়ার ক্যাটাগরিতে তৃণা ফাল্গুনী, ইনোভেটিভ সল্যুশন অফ দ্যা ইয়ার ক্যাটাগরিতে ফাহমিদা ইসলাম এবং রাইজিং স্টার ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে নাবিলা নওরীন ও নাহিদ শারমিন।

1
এক নারী উদ্যোক্তার হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী পলক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

এর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রিভা গাঙ্গুলী বিজয়ী নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের শুভ কামনা জানান। একই সঙ্গে দেশে আরও নেতৃত্ব উঠে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘পৃথিবীর ৫০০ ফরচুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাত্র ২৪টিতে নারী নেতৃত্ব আছে। আমাদের দেশেও এমন দারুণ নারী নেতৃবৃন্দ আছেন। তবে আমাদের আরও এমন নেতৃত্ব দরকার, বিশেষ করে আইসিটি খাতে।’

নারী নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘নারীরা এখন সব ক্ষেত্রে সফলভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আমার মাকে দেখেছি বাড়ির সব সিদ্ধান্ত নিতে। এখন আমার পরিবারের সব সিদ্ধান্ত আমার সহধর্মিণী নেন। তেমনিভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন নারী। তিনি শুধু আমাদের দেশের না বরং বিশ্বের সেরা একজন নেতা। রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক সব ক্ষেত্রে নারীরা ভালো করছেন। এ ধরনের পুরস্কারের আয়োজন ভবিষ্যৎ নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কালারস ম্যাগাজিনের প্রকাশক ও সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ ও সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার

রোহিঙ্গা ইস্যুতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সেমিনারে আলোচকরা/ ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখতে শিক্ষাবিদ, গবেষক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ‘অ্যাশ সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্ননেন্স এন্ড ইনোভেশন’ সেন্টারে অনুষ্ঠিত সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

‘ইন্টারন্যাশনাল রোহিঙ্গা অ্যাওয়ারনেস কনফারেন্স’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করেন বোস্টনস্থ অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুল্লাহ শিবলী, ড. ডেভিড ড্যাপাইচ ও সমাজকর্মী নাসরিন শিবলী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563639147560.gif

রোহিঙ্গা ইস্যু কিভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলছে সেমিনারে তা উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্য বিড়ম্বিত, অমানবিক সহিংসতার শিকার এই মানুষগুলোকে আশ্রয় না দিলে তাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না।’

মন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার এই সংকট সমাধানে এগিয়ে আসেনি। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ থেকে শুরু করে কোনো পদক্ষেপই তারা বাস্তবায়ন করেনি। রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আস্থা ও নিরাপত্তা সৃষ্টিকারী কোনো অনুকূল পরিবেশই তারা সৃষ্টি করতে পারেনি। পরিবর্তে মিয়ানমার বিষয়টি নিয়ে ব্লেইম গেম খেলছে।’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যা সম্ভব তার সব সবকিছুই বাংলাদেশ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পদক্ষেপের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশ্বের খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563639181228.gif

সেমিনারে অন্য আলোচকদের মধ্যে ছিলেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের নিউইয়র্কস্থ কার্যালয়ের পরিচালক নিনেথ কেলি ও হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার কর্মসূচির সিনিয়র ইকোনমিস্ট ও প্রফেসর ইমেরিটাস ডেভিড ড্যাপাইচ।

অনুষ্ঠানটির মডারেটর ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও হার্ভার্ডের অ্যাশ সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নন্যান্স এর পরিচালক এন্থনি সাইচ।

নিনেথ কেলি রোহিঙ্গা সঙ্কটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জনগণের উদারতা, সহানভূতি ও মানবিকতার প্রশংসা করেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি একটি ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন দৃশ্যপট তুলে ধরেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র