সাকিবই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল মো.সারওয়ার-বিন-কাশেম, ছবি: বার্তা২৪

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল মো.সারওয়ার-বিন-কাশেম, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

 

দুই ভাই-বোনের মধ্যে সাকিব হোসেন (২০) সবার বড়। ছোট সময় মারা গেছেন মা আর এখন বার্ধক্য জনিত নানা শারীরিক সমস্যায় বাবা বেকার। তাই সাকিবের ঘাড়ের ওপরই ছিল সাংসারের ভার। তার উপার্জনেই পুরো পরিবার চলত। একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে সাকিবের বাব মো.রফিকুল ইসলাম বর্তমানে শোকে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) কারওয়ান বাজারের অবস্থিত র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল মো.সারওয়ার-বিন-কাশেম এসব কথা জানান।

তিনি আরও জানান, গত শনিবার (১৫ জুন) রাজধানীর বাটুলিয়া এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে সাকিব নিহত হন। এ ঘটনায় সাকিবের বন্ধু মো.শিপন গুরুতর আহত হন। ঘটনার দু’দিন পর র‍্যাব-১ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানী বাটুলিয়া এলাকায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ তিনজনকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন- মো. শাহীন মিয়া ওরফে ব্ল্যাক শাহীন (২৪), মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে মিজু (২৪) ও মো. ফরহাদ হোসেন (২৪)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/18/1560846094987.JPG
সাকিবকে হত্যার ঘটনায় র‌্যাবের হাতে আটককৃত তিন যুবক, ছবি:বার্তা২৪

 

ঘটনার দিনের বর্ণনা দিয়ে এ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনার দিন সাকিব ও শিপন তাদের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বাটুলিয়া এলাকায় নদীর পাড়ে ঘুরতে যান। এ সময় ছিনতাইকারী চক্রের একটি দল নদীর পাড়ে অবস্থা করছিল। এই চক্রের এক সদস্য মিঠু ভিকটিমদের দেখে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবাইকে নিয়ে গায়ে পড়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হন।’

তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে তারা ভিকটিমদের মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিতে চাইলে তারা বাধা দেন। এ সময় দু’পক্ষের হাতাহাতি হলে রুবেল তার নিকটে থাকা একটি সুইচ গিয়ার ছোড়া বের করে। শাহীন মিয়া রুবেলের নিকট থেকে ছোড়াটি নিয়ে সাকিব ও শিপনকে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে শিপন ও সাকিবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাকিব মারা যান।’

আরও পড়ুন: চাঞ্চল্যকর সাকিব হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ আটক ৩

সারওয়ার বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সারা দেশে আলোচনা সৃষ্টি করলে র‌্যাব-১ তাৎক্ষণিক হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এর ধারাবাহিকতায় তিনজনকে আটক করা হয়।’

আটকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা শিকার করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা শাহীন আমাদের বলে, ঘটনার দিন তারা ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করেছিল। তার নেতৃত্বেই এ ঘটনাটি ঘটে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় ছিনতাই করে আসছিল। এছাড়া এলাকায় ঘুরতে আসা লোকদের অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা, মোবাইল, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি ছিনতাই করে আসছিল।’

আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

আপনার মতামত লিখুন :