Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডিজির শ্যালিকা, ভাতিজা, ভাগিনা, ভাগ্নিতে ভরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ডিজির শ্যালিকা, ভাতিজা, ভাগিনা, ভাগ্নিতে ভরপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজাল, ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ডিজির শ্যালিকা, ভাতিজা, ভাতিজা বৌ, ভাগিনা ও ভাগ্নি প্রায় সবাই এখন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। ২১ জন নিকটাত্মীয়কে নিয়োগ দিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অভিযোগ উঠেছে ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের বিরুদ্ধে।

২০০৯ সালে যোগদানের পর নানা অনিয়মের মাধ্যমে এসব নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি যখন ডিজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে তার একমাত্র আত্মীয় ছিল ভায়েরা ভাই সৈয়দ শাহ এমরান (সহকারী পরিচালক) হিসেবে কর্মরত ছিল। এখন তার চারপাশে অনেক নিকটাত্মীয়।

আরওপড়ুন: ইফা ডিজি অফিস থেকে ফাইল সরানোর চেষ্টা করেছেন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আপন বোনের মেয়ে ফাহমিদা বেগম (সহকারী পরিচালক, কক্সবাজার জেলায় উপ-পরিচালক পদে কর্মরত) আরেক বোনের মেয়ে সিরাজুম মুনীরা (মহিলা কো-অর্ডিনেটর, বায়তুল মোকাররম) বোনের ছেলে মাওলানা এহসানুল হক ( জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের পেশ ইমাম), আপন ভাইয়ের ছেলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (সহকারী পরিচালক, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি), ভাইয়ের ছেলে মোঃ শাহ আলম (উৎপাদন ব্যবস্থাপক, চট্রগ্রাম) আরেক ভাইয়ের ছেলে মোঃ রেজোয়ানুল হক (প্রকাশনা কর্মকর্তা) আরেক ভাইয়ের ছেলে মোঃ মিসবাহ উদ্দিন (হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ৫৬০ মডেল মসজিদ প্রকল্প), শ্যালিকা ফারজিমা মিজান শরমীন (আর্টিস্ট, প্রেস), শ্যালিকার ছেলে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (সহকারী পরিচালক, প্রসাশন), বন্ধুর মেয়ে সৈয়দ সাবিহা ইসলামকে (সহকারী পরিচালক, প্রসাশন)।

আত্মীয় আবদুল্লাহ আল মামুন (সহকারী পরিচালক, উৎপাদন), আত্মীয় ইলিয়াস পারভেজ (সহকারী পরিচালক, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্প) ডিজির ছেলে অনিকের গৃহশিক্ষক আতিয়ার রহমানকে প্রোগ্রাম অফিসার (ইসলামি মিশন) পদে নিয়োগ প্রদান করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই পদগুলো সবগুলোই প্রথম শ্রেণির পদ।

এছাড়া আপন ভাইয়ের ছেলে মো. রাসেল মিয়াকে ইসলামিক মিশনের ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান পদে, আরেক ভাইয়ের ছেলে মুনিম ও মাহমুদকে এলডিএ পদে, মাহমুদের স্ত্রীকে ল্যাব টেকনিশিয়ান, আত্মীয় রতনকে ফিল্ড সুপারভাইজার, হিসাব রক্ষক পদে ফরসালকে, ইউডিএ হিসেবে আনোয়ারুল আজিম, গবেষণা সহকারী পদে আনোয়ারুল হককে নিয়োগ প্রদান করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজির পদত্যাগ চান পরিচালকরাও

শুধু আত্মীয়কে নিয়োগ দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি। বন্ধু এমনকি বান্ধবীদের ছেলে-মেয়ে স্ত্রীরাও বাদ যাননি আত্মীয়করণ থেকে। ঘনিষ্ঠ পরিচালক মু. হারুনুর রশিদের ছেলে নাজমুস সাকিবকে সহকারী লাইব্রেরীয়ান পদে, পরিচালক তাহের হোসেনের স্ত্রীর বোনের মেয়ে সাহিনা আক্তারকে সহকারী পরিচালক পদে, পীরভাই জালাল আহমদের স্ত্রী মিসেস মাহমুদা বেগমকে প্রোগ্রাম অফিসার পদে, ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পরিচালক এবিএম শফিকুল ইসলামের আত্মীয় হোমায়রা আক্তারকে পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ প্রদান করেন।

ইফা ডিজির বিরুদ্ধে লেখক সম্মানি নিয়ে নয়-ছয়, কেনাকাটার টাকা লুটপাটসহ, পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও জ্যৈষ্ঠতা লংঘন এবং নিয়োগ-বদলির ক্ষেত্রে নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ফাউন্ডেশনে দৈনিক ভিত্তিতে চাকুরি দেওয়ার কোনো বিধান না থাকলেও ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে দৈনিক ভিত্তিতে ছয় শতাধিক কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

এভাবে দৈনিকভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে পরে তাদেরকে নিয়মিতকরণ করা হয়। এখনও প্রায় দুই থেকে আড়াই শ’ কর্মচারী দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত রয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/18/1560872356028.jpg
ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন

ইফা ডিজি নারিন্দা মশুরীখোলা দরবারের পীর শাহ মোহাম্মদ আহছানুজ্জামানকে ‘বোগদাদী কায়দা’র রয়্যালিটি বাবদ অবৈধভাবে ১৪ লাখ দিয়েছেন। কারণ, ‘বোগদাদী কায়দা’ সুপ্রাচীন কাল থেকে এই উপমহাদেশে কোরআন শরিফ শেখার জন্য পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এটার লেখক শাহ আহসানুজ্জামান নয়। অথচ ডিজি তার ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাধে শাহ আহছানুজ্জামানকে এ টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এভাবে অন্যের দ্বারা বই লিখিয়ে লাখ লাখ টাকা রয়্যালিটি গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে ডিজির বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তার নিজ নামে কোনো বই ছিলো না। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১০ বছরে ২৫টির অধিক বই তার নামে ছাপা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি বইও ডিজি নিজে লেখেননি।

এ ছাড়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কর্মসূচিতে ২০২০ জন শিক্ষক ও ফিল্ড সুপারভাইজার নিয়োগে দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেন, ইসলামিক মিশনের টিএ-ডিএ খাতে অনিয়ম, ৫৬০টি মডেল মসজিদের সাইনবোর্ড তৈরিতে কমিশন বাণিজ্য, আইন উপদেষ্টা পদে বেআইনি নিয়োগসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসব কারণে খোদ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। এতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীও তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন ১৮ জুন। এদিন তিনি অফিস না করে ৩ দিনের ছুটির দরখাস্ত পাঠিয়েছেন ফাউন্ডেশনে। যদিও এই ছুটির আবেদন যথাযথ হয়নি বলে জানিয়েছেন ফাউন্ডেশন সচিব।

এ বিষয়ে কথা বলতে ডিজির মোবাইলে একাধিকবার কল ও এসএমএস দিলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

আপনার মতামত লিখুন :

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে আসছে ‘প্যাডি সাইলো’

কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে আসছে ‘প্যাডি সাইলো’
মাঠে ব্যস্ত কৃষক, পুরনো ছবি

কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সারাদেশে ‘প্যাডি সাইলো’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এই পদ্ধতি চালু হলে কৃষক সরাসরি তাদের পণ্য এনে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে টাকা নিয়ে চলে যেতে পারবেন। এজন্য সারাদেশে ২০০টি ‘প্যাডি সাইলো’ চালু করার পরিকল্পনা আগামী একনেক সভায় উঠবে বলে কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এছাড়া, সারাবছর খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করে সংসদীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে সংসদ ভবনে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে ভেজালমুক্ত খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে সারাবছর সার্বক্ষণিকভাবে খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেয় কমিটি। এরই মধ্যে ভেজালবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষতিকর কেমিক্যালের অপব্যবহার রোধ, পাস্তুরিত তরল দুধের নিরাপত্তা রক্ষা ও বিএসটিআই -এর পরীক্ষায় নিম্নমানের পণ্যসমূহ বাজার হতে প্রত্যাহার ও জব্দকরণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও কমিটিকে জানানো হয়। এছাড়া, 'ক্যালসিয়াম কার্বাইড' -এর অপব্যবহার রোধকল্পে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতিকে মরণব্যাধি ক্যানসারসহ অন্যান্য জটিল রোগ থেকে রক্ষাকল্পে ভেজালমুক্ত খাদ্য গ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনসচেতনতা ও সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টার বিকল্প নেই। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের আইন ও গৃহীত পদক্ষেপের আলোকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাসমূহকে সমন্বয়ের মাধ্যমে একযোগে কাজ করার আহবান জানান তিনি। বৈঠকে আইন ও সংস্থাসমূহকে আরো শক্তিশালীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

খাদ্যখাতে দুর্নীতি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ খাতে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দুর্নীতি শতভাগ দূরীকরণের ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদান করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রবণতা রোধ ও নিম্ন আয়ের জনগণকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সারাদেশে পরিচালিত ওএমএস কার্যক্রম আরো স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনার স্বার্থে নজরদারী ও তদারকী জোরদারকরণেও নির্দেশনা প্রদান করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। 

বালিশ-কাণ্ড আমাদের ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে: গণপূর্তমন্ত্রী

বালিশ-কাণ্ড আমাদের ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে: গণপূর্তমন্ত্রী
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

গণপূর্তের প্রকৌশলীদের সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, কোন রাজনৈতিক প্রভাবে কাজ করবেন না। এরপর যদি কিছু হয় আমি আপনাদের পাশে আছি।

তিনি বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তারাই সততা, স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এর ভেতরে কিছু ব্যত্যয়ও ঘটেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘটনা আমাদের ইমেজকে ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উদ্দেশে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বিশেষায়িত পদ এবং শিক্ষা যাতে কোনভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়টি সতর্কতার সাথে মনে রাখতে হবে। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আপনাদের সুখ-দুঃখকে ভাগাভাগি করে নিতে প্রস্তুত আছি।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, কোন কোন জেলায় আমাদের প্রকৌশলীরা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়েন। যতদিন আমি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আছি, আমাদের একজন কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক বা অন্য কোন ক্ষমতা দেখিয়ে প্রভাবান্বিত বা হয়রানি করতে চাইলে আমাকে জানাবেন, আমি আপনাদের পাশে দাঁড়াব। টেন্ডার এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডে কাজ শেষ না করে দ্রুত বিল দিতে হবে, জোরপূর্বক তার লোককে টেন্ডার দিতে বাধ্য করা হবে-এই প্রবণতা কোনভাবেই প্রধানমন্ত্রীর নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং আমি নিজে এটাকে কোনভাবে অনুমোদন করব না। আপনাদের ভীত সন্ত্রস্ত্র হবার কোন কারণ নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধিকাংশ কর্মকর্তারাই সততা, স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এর ভেতরে কিছু ব্যত্যয়ও ঘটেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘটনা আমাদের ইমেজকে ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি সবখানেই বলি রূপপুর প্রকল্পের একটি ঘটনা দিয়ে গোটা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। অনেক সময় কেউ কেউ অতি লোভী হয়ে গোটা ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি ধ্বংস করার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন।

প্রকৌশলীদের উদ্দেশে শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমি অতীতে এমপি-মন্ত্রী ছিলাম না। কিন্তু আমার জীবনে আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াইয়ের কারণে মার্শাল ল’ সরকারের আমলে জেল খাটতে হয়েছে। আমি কিন্তু কোনদিন মুচলেকা দিয়ে বের হইনি। এই শক্ত অবস্থানে থাকা আত্মবিশ্বাসী মানুষ আমি। টিম ওয়ার্কে আপনারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইং। আপনাদের এটাকে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, এ দেশটা ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া। এ দেশের জন্য অনেক মানুষ জীবন দিয়েছেন। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের জন্য জাতির জনক পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতা করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তত ১৯ বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু একবারের জন্যও তিনি শঙ্কিত হয়ে আমাদের অধিকার প্রশ্নে ছাড় দেননি। কর্তব্য পালনে আমি চাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। অনিয়মের পরিসর থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। আপনারা মর্যাদাপূর্ণ পদ পান, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পান, বেতন-ভাতা পান। কোনভাবেই যেন চিহ্নিত না হন যে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সঙ্গে আপনারা সম্পৃক্ত। এক-দুই জনের জন্য কেন বদনামের বোঝা আমাদের কাঁধে আসবে। তাদের উদ্দেশে বলছি, আসুন আমরা আত্মশুদ্ধি করি, আত্মসমালোচনা করি। আমারা ভুল-ত্রুটিকে শুধরে নেই। তাহলে এই ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল হবে।

রেজাউল করিম বলেন, দেশটা আমাদের সবার। এ দেশ গড়ায় আপনাদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। তাই উন্নয়নে আপনারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আপনাদের সুখ-দুঃখ, মাঠ পর্যায়ের সমস্যা, প্রতিকূলতা, দাবি-দাওয়া আমাদের সামনে পেশ করুন। আইনের পরিসরের মধ্যে আমরা সমাধানের চেষ্টা করব। প্রয়োজনে বিধি-বিধান পরিবর্তনের চেষ্টা করব। আশা করি সাধ্যের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আপনাদের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হব।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ১৮ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী গণপূর্ত অধিদপ্তরের এ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র