চার জেলা প্রশাসককে দুদকের চিঠি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে দুদক টিম

ডিএসসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে দুদক টিম

  • Font increase
  • Font Decrease

পুরনো ঢাকার বংশালের শহীদ বুদ্ধিজীবী খালেক সর্দার পার্কের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। রক্ষণাবেক্ষণের লোক নিয়োগ না দেওয়ার কারণে সংস্কারের ১ মাসের মাথায় পার্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ওই অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করে দুদক দল। পরবর্তীতে ডিএসসিসি ও দুদকের সমন্বিত টিম সরেজমিনে পার্কটি পরিদর্শন করে।

দুদক টিম জানতে পারে, পর্যাপ্ত সংখ্যক রক্ষণাবেক্ষণের জনবল না থাকায় স্থানীয় লোকজন কর্তৃক পার্কে যত্রতত্রভাবে প্রবেশ এবং ব্যবহারের ফলে পার্কটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থার উত্তরণে অবিলম্বে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য লোক নিয়োগের সুপারিশ দেয় দুদক টিম।

এদিকে দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার কামদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কর্তৃক অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, দিনাজপুর-এর সহকারী পরিচালক আহসানুল কবির পলাশের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

দুদক টিম বিদ্যালয়ের আর্থিক নথিসমূহ যাচাই করে প্রাথমিকভাবে জানতে পারে, কামদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সেলিম রিজার্ভ ফান্ডের ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫০ টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এ অনিয়মের বিষয়ে অভিযান চালানো দল বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানানো হয়।

এদিকে যশোর জেলা কারাগারে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। সমন্বিত জেলা কার্যালয়, উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাতের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে দুদক টিম জানতে পারে, ওই কারাগারে কোন স্থায়ী ডাক্তার নেই। কারাগারে কর্মরত সরকারি ফার্মাসিস্ট হাজতিদের মেডিকেল বোর্ডের ট্রান্সফার নিয়ন্ত্রণ করেন। সিভিল সার্জন অফিসের একজন ডাক্তার মাঝেমধ্যে কারাগারে আসলেও মেডিকেল ওয়ার্ডে বদলির প্রত্যয়নপত্রে কোন ডাক্তারের স্বাক্ষর পায়নি দুদক দল। ফলে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের সুযোগ রয়েছে মর্মে দুদক দল অভিমত ব্যক্ত করে। এ অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কারাগারের জেলারকে অবহিত করলে তিনি অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়মিত ডাক্তার পদায়নের পদক্ষেপ নেবেন মর্মে দুদক দলকে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঘুষ দাবির অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ, বিআরটিএ অফিসের বিরুদ্ধে সেবা প্রদানে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এবং ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কুমিল্লা, মাগুরা, মানিকগঞ্জ ও পিরোজপুরের জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে দুদক।

আপনার মতামত লিখুন :