বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হলে জিয়া হত্যা হতো না: গণপূর্তমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মিট দ্যা রিপোর্টার্সে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, ছবি: বার্তা২৪.কম

মিট দ্যা রিপোর্টার্সে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, 'বন্ধবন্ধু (শেখ মুজিবুর রহমান) হত্যার বিচার যদি হতো তাহলে- জিয়া হত্যা, খালেদ মোশারফ হত্যা হতো কি না আমার সন্দেহ আছে। হয়তো হতো না। বলত যে, খুন করলে ফাঁসি হয়। ওরা যখন দেখল যে, জাতির জনককে খুন করলে কিছু হয় না তখন কিন্তু জিয়া হত্যা, খালেদ মোশারফ হত্যা ও অন্যান্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হয়েছে।'

শুক্রবার (২১ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নিয়মিত আয়োজন ‌'মিট দ্যা রিপোর্টার্স' অনুষ্ঠানে ৬৫ বারের মতো সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত পিছিয়ে যাওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে ছিলেন জানিয়ে গৃহায়ণ মন্ত্রী বলেন, 'আমাদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি এই সব ঘটনার সৃষ্টি করেছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বঙ্গবন্ধুকে খুন করার পর ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পার্লামেন্টে বিল পাস করা হলো। এসবের বিচার করা যাবে না। জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের বিচার করা যাবে না, এ আইন পার্লামেন্টে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে খুন করা হলো আর ৩১ সে ডিসেম্বর জেলখানার গেট খুলে দিয়ে সব যুদ্ধ অপরাধীদের মুক্তি দেওয়া হলো।'

মন্ত্রী বলেন, ‍'আপনারা শুনলে অবাক হবেন, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বাবা হত্যা মামলার চার্জশিট আজ পর্যন্ত পুলিশ দিতে পারে নাই। আবদুর রব সেরনিয়াবাত কৃষিমন্ত্রী ছিলেন, তার ছেলে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ চিফ হুইপ ছিলেন। তার হত্যা মামলা কিন্তু আছে। মামলায় আজ পর্যন্ত পুলিশ চার্জশিট দিতে পারে নাই। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যার ঘটনায় ১লা জুন মামলা হলো, তারপরে থেকে তার দল তিনবার ক্ষমতায় আসল আজ পর্যন্ত চার্জশিট হয়নি। আমরা যদি প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে শক্ত হই, তাহলে অপরাধীরা অপরাধ করতে উৎসাহ পাবে না।'

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যা নিয়ে তিনি বলেন, 'সাগর-রুনিকে কি আসমান থেকে কেউ এসে হত্যা করে গেছে? ডেফিনেটলি না। মানুষ কেউ মেরেছে। তদন্তে বের হবে না কেন? আমি মনে করি, এর সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্তে উৎঘাটিত হোক। উৎঘাটিত না হলে অন্যরা উৎসাহিত পায়। এজন্য আমি চাই সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন হোক, না হলে ফাইনাল তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে বলুক আসামিদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। আসামিদের ডিটেক্ট করা উচিত। নাগরিক হিসেবে, মন্ত্রী হিসেবে, এদেশের মানুষ হিসেবে চাই আমাদের দেশের ওয়ার্কিং দুজন জার্নালিস্ট, তাদের হত্যাকাণ্ড বিলীন হয়ে না যাক। এটা আইনের সঙ্গে কোনভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ না।'

ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন। অনুষ্ঠা‌নে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী‌কে ডিআরইউ‘র পক্ষ থে‌কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :