Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি অনুযায়ী বরাদ্দ নেই: খলীকুজ্জমান

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি অনুযায়ী বরাদ্দ নেই: খলীকুজ্জমান
ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেছেন, প্রতিবছর দুর্যোগের কবলে পড়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় সেটার জন্য প্রত্যেক বছর আমাদের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়, কিন্তু ক্ষতির পরিমাণমতো বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয় না।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে বাজেট ২০১৯-২০ এর পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড (সিএসআরএল) ও ঢাকা স্কুল ইকোনমিকস (ডিএসসিই) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সিএসআরএল -এর সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন পরিবেশের একটা অংশ। আর এই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা প্রতিবছর অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। প্রতিবছর আমাদের বিভিন্ন দুর্ভোগের সামনা-সামনি হতে হয়। এতে যেমন দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি আমাদের নানা রকম ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় চাহিদার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাজেটে বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সঠিকভাবে বাজেট বরাদ্দ, ব্যয় ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকারের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করলে সেটি বেশি ফলপ্রসূ হয়।

খলীকুজ্জমান জানান, জলবায়ু ও পরিবেশ বাজেট বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে এখনও সময় আছে, আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।

বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস এম মনজুরুল হান্নান খান বলেন, উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে ১০০ বছরের ডেল্টা প্লান করেছে। সেখানে মডেলিং করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

কিন্তু বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া অপরাপর পরিবেশগত বিষয় যথাযথভাবে উল্লেখ করে বরাদ্দ প্রদান করা হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, বাজেটে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকার অভিযোজন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। সেই সাথে গৃহীত জলবায়ু প্রকল্পগুলোর তথ্য স্থানীয় জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকারকে অবহিত করে জলবায়ু সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সরকারকে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন সিএসআরএল -এর সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক মুক্তা। বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, ডিএসসিই -এর ড. এ কে এম নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান
ডিসি সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া

 

জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানালেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। একইসঙ্গে সম্মেলন শেষ করে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেন তিনি। ডিসিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সম্মেলন শেষ করে স্ব স্ব এলাকায় গিয়ে বর্ন্যাতদের পাশে দাঁড়ান, তাদের উদ্ধার কাজে সহয়তা করেন।

বৃহস্পিতবার (১৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯" এর অংশ হিসেবে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম শফিউল আলম।

ডেপুটি স্পিকার দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাজ করার আহবান জানান।

সাক্ষাৎ শেষে ডেপুটি স্পিকার তার সংসদ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাদের একটা কথাই বলেছি কে কোন দল করেন সেটা কোনো ব্যাপার না। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ না হলে আপনারা যে চেয়ারে বসে আছেন আমরা যে জায়গায় আছি এটা সম্ভব হত না। জাতির পিতার কন্যাই প্রথম আপনাদের বেতন ভাতা দ্বিগুণ করেছে। বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নীতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইন বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ- কারণ আইন প্রণয়নের পর সেটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন কর্মকর্তারা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে অচিরেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে "জাতীয় সংসদের স্থাপত্য শৈলী ও সংসদ কার্যক্রম" এর উপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুইপ আতিউর রহমান আতিক, হুইপ ইকবালুর রহিম,  হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জয়নুল বারী এবং বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ,সকল বিভাগীয় কমিশনারগণ, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও জেলা প্রশাসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বন্যার কারণে ট্রেনের যেসব রুটে পরিবর্তন

বন্যার কারণে ট্রেনের যেসব রুটে পরিবর্তন
ট্রেনের বেশ কয়েকটি রুটে পরিবর্তন এনেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ/ ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার কারণে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে সেসব রুটে ট্রেন চলাচলে পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে এবং কিছু রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ তথ্য জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান।

মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান জানান, বন্যার কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার সেকশনের বিভিন্ন স্থানে এবং জামালপুর-তারাকান্দি সেকশনের সরিষাবাড়ী-বয়ড়া সেকশনের মধ্যবর্তী স্থানে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এর ফলে আন্তঃনগর তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ট্রেনসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা অন্যান্য মেইল/এক্সপ্রেস, কমিউটার, লোকাল ট্রেন সমূহ দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও তারাকান্দি/বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত চলাচল না করে জামালপুর স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করছে।

তিনি জানান, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল বাদিয়াখালি রোড ত্রিমোহনী জংশন স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে রেললাইন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা-সান্তাহার- বগুড়া-বোনারপাড়া-কাউনিয়া-লালমনিরহাট রুটের পরিবর্তে ঢাকা-সান্তাহার-পার্বতীপুর-লালমনিরহাট রুটে ও রংপুর এক্সপ্রেস ঢাকা সান্তাহার-বগুড়া -বোনারপাড়া-কাউনিয়া-রংপুর রুটের পরিবর্তে ঢাকা সান্তাহার-পার্বতীপুর -রংপুর রুটে চলাচল করবে।

এছাড়া আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি দিনাজপুর-সান্তাহার-দিনাজপুর রুটের পরিবর্তে দিনাজপুর-গাইবান্ধা-দিনাজপুর রুটে ও আন্তঃনগর করতোয়া এক্সপ্রেস সান্তাহার-বুড়িমারি-সান্তাহার রুটের পরিবর্তে সান্তাহার-বোনারপাড়া-সান্তাহার পর্যন্ত চলাচল করবে। পদ্মরাগ এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাদিয়াখালি স্টেশনে আটকা পড়ায় সান্তাহার-লালমনিরহাট-সান্তাহার রুটে চলাচল করবে না।

অপরদিকে পাঁচবিবি উলিপুর স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে রেললাইন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লোকাল ট্রেন পার্বতীপুর-কুড়িগ্রাম-পার্বতীপুর ও লোকাল ট্রেন তিস্তা জংশন-কুড়িগ্রাম-তিস্তা রুটে চলাচল করবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর অতি দ্রুত রেললাইন মেরামত করে এসব রুটে পূর্বের ন্যায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র