রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৬ জুন) বিকেলে রংপুর জেলা পরিষদ হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনেন।

তাদের দাবি, রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) মেয়রের সাথে কোটি টাকার লেনদেন করে ওরিয়েন্টাল সিনেমা হল নিয়ে চলমান মামলা পরিচালনায় অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন চেয়ারম্যান। এতে জেলা পরিষদ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত হতে পারে। এছাড়াও পরিষদের বিভিন্ন উপজেলার গাছ নামমাত্র দামে বিক্রি করে চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করেছেন।

লিখিত বক্তব্যে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদস্য মোহসিনা বেগম বলেন, চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানম গত দুই অর্থবছরে অসহায় দরিদ্রদের চিকিৎসা ও শিক্ষা অনুদান দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্নসাৎ করেছে। সড়কের দু'পাশ থেকে গাছ অপসারণের নামে সদস্যদের না জানিয়ে রাতারাতি গাছ কেটে তার মেয়ের জামাইকে দিয়ে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে রাজস্ব খাত থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হেরফের করেছেন। গত দুই অর্থবছরে এডিপি ৪০% কাজ বাস্তবায়িত করতে পারেননি। বরং প্রকল্পের টাকা ব্যাংকে জমা রেখে চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করার পাশাপাশি মাসিক লভ্যাংশ নিচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদের প্রত্যেকটি উন্নয়ন কাজে পরিষদ সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার বিধান আছে, কিন্তু চেয়ারম্যান তা মানেন না। সাতটি স্থায়ী কমিটি থাকার পরও তিনি কারো সুপারিশ বা পরামর্শ গ্রাহ্য করেন না। নিয়মিত মাসিক সভা না করেই নিজের মন মত করে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

সংবাদ সম্মলনে পরিষদের সদস্য সিরাজুল হক প্রামানিক, পারভীন আকতার, সৈয়দ দিলনাহার, রিয়াজুল, রফিকুল ইসলাম, সেলিনা খাতুন, রফিকুর রহমান, ফিরোজ হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরিষদ সদস্যরা বলেন, আমরা জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় পরিষদ আজ অকার্যকর।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানমের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :