Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

গান্ধী আশ্রমের ঝর্ণা ধারা চৌধুরী আর নেই

গান্ধী আশ্রমের ঝর্ণা ধারা চৌধুরী আর নেই
ঝর্ণা ধারা চৌধুরী, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নোয়াখালী


  • Font increase
  • Font Decrease

একুশে পদক, রোকেয়া পদক ও ভারতের পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণা ধারা চৌধুরী আর নেই। মুত্যৃকালে তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ৬টায় স্কয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

এর আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

ঝর্ণা ধারা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সেবামূলক এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রাহা নব কুমার বলেন, ‘ঝর্ণা ধারা চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। পরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে তাকে রাজধানীতে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে আজ ভোরে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।’

ঝর্ণাধারা ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। মানব সেবায় নিয়োজিত এই নারী সংসার জীবনে যাননি। গান্ধী আশ্রমের সমাজকর্মী হিসেবে ছুটে চলেন গ্রাম থেকে গ্রামে
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ঝর্ণা ধারা চৌধুরী ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত হন।

সমাজসেবক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক বাজাজ পুরস্কার ১৯৯৮, শান্তি পুরস্কার ২০০০, অনন্যা ২০০১, দুর্বার নেটওয়ার্ক পুরস্কার ২০০৩, কীর্তিমতি নারী পুরস্কার ২০১০, একুশে পদক ২০১৫, বেগম রোকেয়া পদক ২০১৩, সাদা মনের মানুষ পদক ২০০৭ এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পদক পেয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের সঙ্গে রংপুর যাচ্ছেন যারা

এরশাদের সঙ্গে রংপুর যাচ্ছেন যারা
চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ। ফাইল ছবি

রংপুর থেকে: আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বাদ জোহর রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টার যোগে এরশাদের মরদেহ রংপুরে আনা হবে।

এরশাদের মরদেহের সঙ্গে রংপুরে আসবেন দলের শীর্ষ নেতারা। কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এরশাদ স্যারের রংপুরের জানাজায় তার মরদেহের সঙ্গে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, স্যারের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সাল চিশতি, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টুসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য।’

জানাজা শেষে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে ঢাকা বনানীর সামরিক কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির উত্তরাঞ্চলের নেতারা ইতোমধ্যে এরশাদের দাফন রংপুরে করার ঘোষণা দিয়ে কবর খনন করেছেন। দাফন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই ঢাকা সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরশাদ মারা যান।

রংপুরেই এরশাদের দাফন চান সাবেক স্ত্রী বিদিশা

রংপুরেই এরশাদের দাফন চান সাবেক স্ত্রী বিদিশা
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক, ছবি: সংগৃহীত

রংপুরবাসীর মতো সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন রংপুরেই চান তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, 'আমিও তাই চাই, লাখ লাখ নেতাকর্মীদের মতো রংপুরের মাটি যেন হয় এরশাদের শেষ ঠিকানা। সহধর্মিণী থাকতে বহুবার পল্লী নিবাসের বারান্দায় ছেলে এরিককে কোলে বসিয়ে উনি আমাকে বলেছিলেন, তুমি আমার ছোট, দেখ আমার মৃত্যু ও যেন আমার ছেলের কাছে থেকে দূরে না রাখে। আমার কবর আমি এই পল্লী নিবাসে চাই। রংপুরের মানুষের ভালোবাসা প্রতিদান আমি দিতে পারিনি আজও। রংপুরের মানুষ আমার কবরে এসে দোয়া করবে এটাই আমার চাওয়া। প্রতিবার এই কথাটি বলতেন তিনি এরিকের দিকে তাকিয়ে, ভিজে চোখে।'

এর আগে রোববার ১৪ জুলাই রোববার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর আজমির শরিফে থাকা বিদিশা এরশাদ ফেসবুকে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে বিদিশা এরশাদ লিখেছেন, 'এ জন্মে আর দেখা হলো না। আমিও আজমির শরিফ আসলাম, আর তুমিও চলে গেলে। এত কষ্ট পাওয়ার থেকে মনে হয় এই ভালো ছিল। আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়াতে, যেখানে থাকবে না কোনো রাজনীতি।'

সাবেক সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা আজ সকালে আজমির শরিফ থেকে দেশে ফিরেন। তিনি সকালে এরশাদের মরদেহ দেখতে এবং ছেলে এরিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রেসিডেন্ট পার্কে গিয়ে বাধার মুখে বাসার গেট থেকে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, রোববার (১৪ জুলাই) সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মৃত্যুর পর তার মরদেহ দাফন জটিলতা তৈরি হয়। ঢাকার নেতারা চাইছেন এরশাদের দাফন হোক সেনা কবরস্থানে। বিপরীতে রংপুরের নেতাকর্মীরা চাইছেন, রংপুরেই হোক এরশাদের শেষ সমাধি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র