টাকার লোভে অন্যের হয়ে জেলে নারী-পুরুষ



সেন্ট্রাল ডেস্ক ২

  • Font increase
  • Font Decrease
টাকার লোভে মাদকের মামলায় অন্যের হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নারী ও পুরুষ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন রিমান্ডের মুখোমুখিও হয়েছেন। টাকার লোভে দুই মাদক ব্যবসায়ীর নাম-ঠিকানা গোপন রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা জজ আদালতে সেলিম মিয়া ও হাজেরা বেগমের আত্মসমর্পণের ঘটনায় সদর থানায় দুটি প্রতারণার মামলা হয়েছে। গত রোববার দুই আসামির রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এর মধ্যে সেলিমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে মামলার প্রকৃত দুই আসামি আব্দুল হান্নান ও শোভা বেগম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পলাতক হান্নানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আখাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ আখাউড়া উপজেলার রাজাপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী শোভা বেগম পরিচয়ে একই গ্রামের দরিদ্র কাউসার মিয়ার স্ত্রী হাজেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মাদক মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। ১১ মার্চ একইভাবে পরিচয় গোপন রেখে একই উপজেলার নুরপুর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান পরিচয়ে মাদক মামলায় একই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন সেলিম। তিনি উপজেলার ছোট কুড়িপাইকা গ্রামের আবুল ফয়েজের ছেলে। দুইজনই আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন। শোভার বিরুদ্ধে আখাউড়া ও সদর থানায় দুটি এবং হান্নানের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় একটি মাদকের মামলা রয়েছে। পরিচয় গোপন রেখে দুইজনের আত্মসমর্পণের বিষয়টি অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শফিকুল ইসলাম জানতে পেরে জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক নুরুন্নবী ভূঁইয়াকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন। নুরুন্নবী জানান, হাজেরা জানিয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা প্রদান ও পাঁচ দিনের মধ্যে জামিনে বের করার কথা বলে তাকে আত্মসমর্পণ করান শোভা। অপরদিকে সেলিম জানান, একটি রিকশা কিনে দেওয়া ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তার কথা বলে তাকে আদালতে হাজির করান হান্নান। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, আসামিরা ক্ষমা চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করেছেন। গত রোববার জেলা ও দায়রা জজ ইসমাইল হোসেনের আদালতে হান্নানের মামলার শুনানির সময় প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। তখনই বিচারক সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়েরে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। মামলার পর সেলিম ও হাজেরাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তে সেলিমের রিমান্ড মঞ্জুর ও হাজেরার রিমান্ডের আবেদন শুনানির জন্য রাখেন আদালত। সেলিমের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সোহাগ রানা জানান, সেলিম প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে হুমকির ঘটনায় আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক সাংবাদিকের করা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন তরফদার। হান্নানকে খোঁজা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।