১২ শিক্ষার্থীর স্কুলে ৮ শিক্ষক, ক্লাসে ঝুলছে তালা!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
বাঘার আমোদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ছবি: বার্তা২৪

বাঘার আমোদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

তিনটি শ্রেণিতে মোট শিক্ষার্থী ১২ জন। নিয়মিত উপস্থিত থাকে আট থেকে দশজন। আর এ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন আটজন ও কর্মচারী দুইজন। যাদের মাসে সরকারি কোষাগার থেকে দিতে হয় লাখ টাকা বেতন। তবুও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আমোদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঠিক মতো ক্লাস হয় না। বেশিরভাগ সময় শ্রেণিকক্ষে ঝুলে তালা। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ পেয়ে স্কুল পরিদর্শন করে এমন তথ্য পেয়েছেন। স্কুলটি সার্বিক তথ্য উপর মহলকে জানিয়েছেন। তারপরও নিয়মিত স্কুলে আসেন না খোদ প্রধান শিক্ষক!

খোঁজ নিয়ে যায় জানা যায়, ১৯৯৫ সালে বাঘা উপজেলার আমোদপুর গ্রামে ছয়জন শিক্ষক, একজন পিয়ন ও একজন নৈশপ্রহরী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘আমোদপুর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়’। চালুর সময়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি মিলে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৪০ জন। যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৫ সালে স্কুলটি স্থাপন করার পর শিক্ষার্থী ভালোই ছিল। পরবর্তী সময়ে পাশের গ্রামে তেপুখুরিয়া স্কুল চালু হওয়ায় আমি পদ থেকে সরে দাঁড়াই। তারপর থেকে স্কুলের শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে পারেনি।’

তার অভিযোগ- স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে না আসা এবং ক্লাস না নেওয়ায় অভিভাবকরা স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করছেন না। এ কারণে স্কুলটির লেখাপড়া বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, ‘গত চার মাসে আমি দু’বার স্কুলটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ১২ থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী। তবে নিয়মিত ক্লাসে আসে ৮/১০ জন। শিক্ষকরা ঠিকমতো স্কুলে আসেন না। বিষয়টি আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলাম। তবে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেনো তা জানতে চাইব।’

বাঘা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুলের সার্বিক চিত্র আমি উপর মহলে জানিয়েছি। তবে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। বিষয়টি স্কুল পরিচালনা পরিষদের সভাপতিকেও অবগত করেছি।’

তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুল শিক্ষার্থী কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করলেও নিয়মিত স্কুলে না আসার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :