পেনশন পাচ্ছেন না রেলওয়ের ১৩শ’ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী

উবায়দুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে রেলের সেবায়। অথচ জীবন সায়াহ্নে এসে পেনশন ভাতার জন্য প্লাটফর্মে ঘুরে ঘুরেও তা মিলছে না ময়মনসিংহ রেলওয়ে থেকে অবসরে যাওয়া প্রায় ১৩শ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীর। এমনকি গেল ঈদেও মেলেনি উৎসব ভাতা। তাই আসছে ঈদ নিয়েও দুঃশ্চিন্তা জেঁকে বসেছে এসব বয়োঃবৃদ্ধদের মনে।

গত দুই মাস ধরে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা ও টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ নিয়ম করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং অফিসের সামনে আসছেন পেনশন নিতে। ছোট্ট করিডরে অবস্থান নেওয়া প্রবীণ ব্যক্তিদের দীর্ঘশ্বাসে বাতাসও যেন তপ্ত। তবুও পেনশন না পেয়ে সিংহভাগই ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।

জানা গেছে, বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট বিক্রির টাকা দিয়ে যোগান হয় অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের ভাতা। কিন্তু অ্যাপস এবং এসএমএস-এর মাধ্যমে ৫০ ভাগ টিকিট বিক্রি হওয়ায় স্টেশনের আয় কমে গেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন অবসরে যাওয়া এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জুবেদ আলী নামে এক পেনশনভোগী বলেন, ‘বয়স হয়েছে। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের টাকাই ভরসা। আমাদের মতো বয়স্কদের চিকিৎসা বা ওষুধপত্র বাবদ বেশি খরচ হয়। এতদিন মাসের ঠিক সময়ই পেনশন পেয়েছি। দুমাস ধরে পাচ্ছি না। তাই খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’

শরীফা খাতুন নামে আরেকজন বলেন, ‘স্টেশন সুপার আমাদেরকে বলছেন কোষাগারে নাকি টাকা নাই। এসব কথায় তো আমাদের সংসার চলবে না। কারণ এই মাসিক পেনশনের টাকা দিয়েই সংসার খরচ চালাতে হয়।’

এদিকে অবসরভাতা ও ঈদ বোনাস সময়মতো না পাওয়ায় আন্দোলনে নেমেছেন অবসরপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রেলওয়েম্যান্স অবসরপ্রাপ্ত কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। পরে স্টেশন সুপার জহুরুল ইসলামের মাধ্যমে রেলওয়ে মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/06/1562420902062.jpg

এসময় অবসরপ্রাপ্ত কল্যাণ পরিষদের ময়মনসিংহ শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন জংশন স্টেশনগুলো পে-কেলারের মাধ্যমে অবসর প্রাপ্তদের ভাতা পরিষদ করছে। এখানেও এ সিস্টেম চালু করা করা এখন সময়ের দাবি।’

সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ময়মনসিংহ স্টেশনের পেনশন প্রদানে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকার অজুহাতে পেনশন না দেওয়ায় চরম অব্যবস্থার মধ্যে দিন চলছে প্রায় ১৩শ’ পেনশনভোগীর। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে পেনশন ও ভাতার জন্য ২-৩ দিন অপেক্ষা করেও না পেয়ে স্টেশনের প্লাটফরমে মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছেন তারা।’

তাদের এমন দুর্ভোগে চিন্তিত স্টেশন কর্তৃপক্ষও। প্রধান বুকিং সহকারি (ভারপ্রাপ্ত) হামিদুর রহমান জানান, ‘বকেয়া ভাতা, বোনাসের জন্য যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন তা অপ্রতুল।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন সুপার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘স্টেশনের আয় থেকে যে অর্থ আসে তা দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের ভাতা পরিশোধ করা হয়ে থাকে। গত তিন মাস ধরে স্টেশনের অর্ধেক টিকেট অনলাইনে এবং অ্যাপসের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ায় স্টেশনের আয়ও অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে এ স্টেশন থেকে দেড় কোটি টাকা পেনশন ভাতার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু টিকিট বিক্রির টাকা কমে যাওয়ায় ৫০ লাখ আয় কম হচ্ছে। ফলে আমরাও রীতিমত হিমশিম খাচ্ছি। সমস্যা উত্তরণে গত ২০ জুন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠিও দিয়েছি।’

আপনার মতামত লিখুন :