Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পেনশন পাচ্ছেন না রেলওয়ের ১৩শ’ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী

পেনশন পাচ্ছেন না রেলওয়ের ১৩শ’ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী
ছবি: বার্তা২৪.কম
উবায়দুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে রেলের সেবায়। অথচ জীবন সায়াহ্নে এসে পেনশন ভাতার জন্য প্লাটফর্মে ঘুরে ঘুরেও তা মিলছে না ময়মনসিংহ রেলওয়ে থেকে অবসরে যাওয়া প্রায় ১৩শ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীর। এমনকি গেল ঈদেও মেলেনি উৎসব ভাতা। তাই আসছে ঈদ নিয়েও দুঃশ্চিন্তা জেঁকে বসেছে এসব বয়োঃবৃদ্ধদের মনে।

গত দুই মাস ধরে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা ও টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ নিয়ম করে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের বুকিং অফিসের সামনে আসছেন পেনশন নিতে। ছোট্ট করিডরে অবস্থান নেওয়া প্রবীণ ব্যক্তিদের দীর্ঘশ্বাসে বাতাসও যেন তপ্ত। তবুও পেনশন না পেয়ে সিংহভাগই ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।

জানা গেছে, বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট বিক্রির টাকা দিয়ে যোগান হয় অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের ভাতা। কিন্তু অ্যাপস এবং এসএমএস-এর মাধ্যমে ৫০ ভাগ টিকিট বিক্রি হওয়ায় স্টেশনের আয় কমে গেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন অবসরে যাওয়া এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জুবেদ আলী নামে এক পেনশনভোগী বলেন, ‘বয়স হয়েছে। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের টাকাই ভরসা। আমাদের মতো বয়স্কদের চিকিৎসা বা ওষুধপত্র বাবদ বেশি খরচ হয়। এতদিন মাসের ঠিক সময়ই পেনশন পেয়েছি। দুমাস ধরে পাচ্ছি না। তাই খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’

শরীফা খাতুন নামে আরেকজন বলেন, ‘স্টেশন সুপার আমাদেরকে বলছেন কোষাগারে নাকি টাকা নাই। এসব কথায় তো আমাদের সংসার চলবে না। কারণ এই মাসিক পেনশনের টাকা দিয়েই সংসার খরচ চালাতে হয়।’

এদিকে অবসরভাতা ও ঈদ বোনাস সময়মতো না পাওয়ায় আন্দোলনে নেমেছেন অবসরপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

শনিবার (৬ জুলাই) দুপুরে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রেলওয়েম্যান্স অবসরপ্রাপ্ত কল্যাণ পরিষদের আয়োজনে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। পরে স্টেশন সুপার জহুরুল ইসলামের মাধ্যমে রেলওয়ে মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/06/1562420902062.jpg

এসময় অবসরপ্রাপ্ত কল্যাণ পরিষদের ময়মনসিংহ শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন জংশন স্টেশনগুলো পে-কেলারের মাধ্যমে অবসর প্রাপ্তদের ভাতা পরিষদ করছে। এখানেও এ সিস্টেম চালু করা করা এখন সময়ের দাবি।’

সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ময়মনসিংহ স্টেশনের পেনশন প্রদানে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা না থাকার অজুহাতে পেনশন না দেওয়ায় চরম অব্যবস্থার মধ্যে দিন চলছে প্রায় ১৩শ’ পেনশনভোগীর। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে পেনশন ও ভাতার জন্য ২-৩ দিন অপেক্ষা করেও না পেয়ে স্টেশনের প্লাটফরমে মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছেন তারা।’

তাদের এমন দুর্ভোগে চিন্তিত স্টেশন কর্তৃপক্ষও। প্রধান বুকিং সহকারি (ভারপ্রাপ্ত) হামিদুর রহমান জানান, ‘বকেয়া ভাতা, বোনাসের জন্য যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন তা অপ্রতুল।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন সুপার জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘স্টেশনের আয় থেকে যে অর্থ আসে তা দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের ভাতা পরিশোধ করা হয়ে থাকে। গত তিন মাস ধরে স্টেশনের অর্ধেক টিকেট অনলাইনে এবং অ্যাপসের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়ায় স্টেশনের আয়ও অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে এ স্টেশন থেকে দেড় কোটি টাকা পেনশন ভাতার চাহিদা রয়েছে। কিন্তু টিকিট বিক্রির টাকা কমে যাওয়ায় ৫০ লাখ আয় কম হচ্ছে। ফলে আমরাও রীতিমত হিমশিম খাচ্ছি। সমস্যা উত্তরণে গত ২০ জুন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠিও দিয়েছি।’

আপনার মতামত লিখুন :

রাজশাহীতে ভাই-বোনসহ ৪ মাদক কারবারির কারাদণ্ড

রাজশাহীতে ভাই-বোনসহ ৪ মাদক কারবারির কারাদণ্ড
দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ মাদক ব্যবসায়ী। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

রাজশাহীর বাগমারায় ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদেরকে এই দণ্ড দেয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার তাহেরপুর পৌর এলাকার চৌকিরপাড় মহল্লার কোহিনুর বেগম (৫৫), তার ভাই সাদেক আলী (৩০), তাদের প্রতিবেশী হাসান আলী (২৮) ও মমিনুল হক শেখ (২৭)।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল উপজেলার তাহেরপুর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ওই ৪ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এক বছর করে কারাদণ্ড দেন। আসামিদের বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে কারাগারে পাঠানো হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাকিউল ইসলাম জানান, দণ্ডপ্রাপ্তরা মাদক ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত বলে আদালতে স্বীকার করেছেন। দোষ স্বীকার করায় তাদের প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

বাতিল হচ্ছে এম ও ফার্স্ট লিড সিকিউরিটিজের সনদ

বাতিল হচ্ছে এম ও ফার্স্ট লিড সিকিউরিটিজের সনদ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

 

ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেকহোল্ডার এম ও ফার্স্ট লিড সিকিউরিটিজের সনদ বাতিল করতে পারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ক্রমাগত আইন ভঙ্গ ও গ্রাহকদের টাকা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার এম সিকিউরিটিজের সনদ বাতিল হতে পারে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করলে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেকহোল্ডার ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের সনদ বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে।

এতে বলা হয়, এম সিকিউরিটিজে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গ্রাহকদের হিসাবে ঘাটতি ছিল ৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। যা চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারির মধ্যে সমন্বয় করার জন্য সময় বেধে দেয় কমিশন। এরপরে হাউজটি থেকে ২ দফায় আরও সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলেও তা প্রত্যাখান করা হয়। তবে চলতি বছরের ২৭ জুনের মধ্যে সব ঘাটতি সমন্বয় করা হয়েছে বলে গত ২ জুলাই কমিশনকে জানায়।

কিন্তু ডিএসই পরীক্ষা শেষে ৯৮ লাখ টাকা ঘাটতি পায়। এর মাধ্যমে হাউজটি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৮৭ এর রুল ৮এ এর সাব রুলস (১) ও (২) ভঙ্গ করেছে। এছাড়া মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ১৯৬৯ এর সেকশন ১৮ ভঙ্গ করেছে। যে কারণে কমিশন, হাউজটির বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০ এর বিধি ১২ মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। যে বিধিতে নিবন্ধন সনদ বাতিল ও স্থগিতকরণ করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে গ্রাহকের হিসাবে ঘাটতি, পরিচালকদের হিসাবে ঋণ প্রদান ইত্যাদি কারণে এম সিকিউরিটিজকে ২০ লাখ টাকা ও ২ পরিচালককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এছাড়া ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও প্রায় একই কারণে আরও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ : এক পরিদর্শনে ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ হাউজটির সিলেট শাখায় ৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঘাটতি দেখা দেয়। বিভিন্ন সময় সিএসইর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পাওনার ২৯.১৫ শতাংশ অপরিশোধিত রয়েছে। যা পরিশোধে সিএসই চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে।

আজকের কমিশন সভায়, সিএসই থেকে ব্রোকারেজ হাউজটির প্রাপ্য লভ্যাংশ এবং সিএসই রেগুলেশনস, ২০১৩ এর অধীনে প্রাপ্য ফ্রি লিমিট চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাউজটি থেকে চলতি বছরের মধ্যে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ না করলে, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০ এর বিধি ১২ মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। যে বিধিতে নিবন্ধন সনদ বাতিল ও স্থগিতকরণ করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র