১০৯-এ কল, তানোরে বাল্য বিয়ে বন্ধ করল ইউএনও

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজশাহী
বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল বিথি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল বিথি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌর এলাকার বাসিন্দা অরুণ হালদার। তার মেয়ে বিথি হালদার (১৩) স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। মেয়ের মতামত না নিয়ে পাশের গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন তিনি। বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন।

রোববার (৭ জুলাই) রাতে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক রেখে বর ও কনে পক্ষ প্রস্তুতি নিয়েছিল।

তবে বাল্য বিয়ে হতে দেখে সকালে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের হেল্পলাইন ১০৯ নম্বরে কল করে বিষয়টি অবগত করেন। মহিলা অধিদফতর থেকে সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানুকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুপুরে পুলিশ ফোর্সসহ মেয়ের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হন ইউএনও। বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কনের বাবাসহ সবাই পালিয়ে যান। পরে ইউএনও দুই পক্ষকে বিয়ে থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।

জানতে চাইলে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বেলা ১১টার দিকে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর থেকে আমাকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যায়। তবে বাড়ির সব পুরুষ আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সরে পড়ে। পরে তাদেরকে অভয় দিয়ে বাড়িতে ডেকে আনা হয়। দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।'

মেয়ের মা দিপালী হালদার ও বাবা অরুণ হালদার বলেন, 'আমাদের ভুল হয়েছিল। তবে বিয়ে হয়নি, এটা ভালো হয়েছে। মেয়ের বয়স না হলে আমরা আর বিয়ে দেব না।'

এদিকে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পাওয়া বিথি বলেন, 'আমি পড়াশোনা করতে চাই। লেখাপড়া করে অনেক বড় হতে চাই। সরকার আমার বাবা-মাকে ভুল থেকে শুধরে দিয়েছি, আমি খুব খুশি'

আপনার মতামত লিখুন :