Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দারিদ্র্য জয় করে পুলিশ কনস্টেবলে চাকরি

দারিদ্র্য জয় করে পুলিশ কনস্টেবলে চাকরি
নিয়োগপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষ কনস্টেবল, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী নগীরর রাজপাড়া থানার চন্ডিপুরে খাস জমিতে কুঁড়েঘর তুলে মায়ের সঙ্গে থাকেন ইভা খাতুন। শৈশবে তাদের ছেড়ে আরেক বিয়ে করে ঘর বেঁধেছেন বাবা। তারপর থেকে মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার ও লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছেন তার মা।

মানুষের বাড়িতে কাজ করে পাওয়া অর্থে ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট আর ৩ টাকার ফরম কিনে পুলিশ কনস্টেবল পদে আবেদন করেন ইভা। সব ধাপ পেরিয়ে রোববার (০৭) সন্ধ্যায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

নাম ঘোষণার পর ঢুকরে কেঁদে ওঠেন ইভা। তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের কষ্ট সার্থক হয়েছে। আমি কোনো লবিং-ঘুষ বাদেই পুলিশে চাকরি পেয়েছি। আমার জীবনে আর কোনো চাওয়া নেই। শুধু আজীবন সততার সাথে দেশের সেবা করে যেতে চাই।’

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী পুলিশ লাইনস মাঠে রিক্রুট পুলিশ কনস্টেবল পদের ফলাফল ঘোষণা করেন রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ। ৪৪ জন পুরুষ ও ৪৪ জন নারীকে চূড়ান্ত নিয়োগ করা হয়। ফলাফল ঘোষণার সময় সেখানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঢুকরে কেঁদে ওঠেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/08/1562550638280.jpg

বাগমারা উপজেলার ঝিকরা গ্রামের এতিম হাবিবুর রহমান তাদের একজন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবার পর কাঁদছিলেন তিনি। বলছিলেন, ‘অনেক আাগেই আমার বাবা মারা গেছেন। ছোট ভাইটা প্রতিবন্ধী। সংসার চালানোর জন্য কৃষিকাজের পাশাপাশি লেখাপড়াটা কষ্ট করে চালিয়ে আসছিলাম। আজ তার ফল পেলাম। আমার কষ্ট ও পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’

মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ি গ্রামের ভ্যান চালকের ছেলে মো. সাজীবও পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছেন। অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন, ‘অনেকেই বলছিল এবার কোনো ঘুষ লাগবে না। সেই ভরসা নিয়ে আবেদন করেছিলাম। ১০৩ টাকা ছাড়া এক পয়সাও লাগেনি। আমার নাম ঘোষণার পর আমি আব্বাকে ফোন করে নিয়োগ পাওয়ার কথা বলছি কিন্তু তিনি কিছুতেই বিশ্বাসই করছেন না, যে তার ছেলে পুলিশে চাকরি পেয়েছে।’

ফলাফল ঘোষণাকালে পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘সার্কুলারের পর থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত প্রতিটা ধাপ শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রত্যেককে নির্বাচিত করা হয়েছে। আগে থেকে দালাল ও প্রতারক চক্র যাতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, সেজন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি- যে ৮৮ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে, তাদের কারও ১০৩ টাকার এক পয়সাও বেশি লাগে নি। তাই আমরা ঘুষ ও প্রতারকদের দৌরাত্ম্যমুক্ত পুলিশ কনস্টেবল রিক্রুটমেন্টের যে ঘোষণা দিয়েছিলাম, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। আশা করি- যারা স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্বাচিত হলো, তারা প্রত্যেকে শতভাগ সততার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেফতার

রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেফতার
তাসলিমা বেগম রেনু হত্যার মূল আসামি হৃদয়/ ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পূর্ব বিভাগের মাদক উদ্ধার টিম।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ভূলতা থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম। তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধার দিকে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেফতার করে ডিবির একটি টিম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563900973518.jpg

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজার থেকে উত্তর বাড্ডায় গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয় সন্দেহে এক যুবককে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে তুলে দেয় সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজার থেকে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয় সন্দেহে এক যুবককে আটক করে সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে নিয়ে আসে। সে হৃদয় কিনা তা আমরা জানি না। আমরা বাড্ডা থানা পুলিশের কাছে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন তারা নিশ্চিত করবেন আটক যুবক হৃদয় কিনা।’

আরও পড়ুন: রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় সন্দেহে যুবক আটক

চট্টগ্রামে দগ্ধ হয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু

চট্টগ্রামে দগ্ধ হয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু
আগুন

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকায় একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে আটটায় কলসী দীঘির বস্তিতে আগুনের সূত্রপাতহয়।

এ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন নাসিমা বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে লামিয়া (৭)।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দীন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র