দরিদ্র পরিবারে আশার আলো রাব্বী-সুমিরা

উবায়দুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ময়মনসিংহ
টিআরসি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সুমি

টিআরসি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সুমি

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার ফজলে রাব্বী। পুলিশে চাকরি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। আয়রনের দোকানের আয় দিয়ে নিজের পড়াশুনার খরচ চালিয়েছেন। কাপড়-চোপড় সেলাইয়ের কাজ করতেন মা। এ টাকাতেই তিনবেলা আহারের ব্যবস্থা হতো।

পুলিশ বাহিনীর গর্বিত সদস্য হতে পারবেন স্বপ্নেও ভাবেননি কোনদিন। কিন্তু দুর্দিনের ঘূর্ণিপাক কাটিয়ে এখন সংসারে আশার আলো হয়ে উঠেছেন রাব্বী।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়ে এ তরুণ বলছিলেন, ‘টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি হয় এটা একটি বিরল নজির। আমি এসপি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের মতো গরিব অসহায় মানুষের কথা ভেবে এ নিয়োগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন।’

রিকশাচালক ওমর ফারুকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি অঝোরে কাঁদলেন। এ কান্না আনন্দের। বাবা ওমর ফারুককে সুখী জীবনের স্বপ্ন দেখালেন এ তরুণী। এখন তাদের আর অভাব-অনটনে থাকতে হবে না। চাকরির বেতন দিয়েই মা-বাবাকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন হবে তার।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/09/1562626941370.jpg
সুমি বলছিলেন, ‘আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন। এবারই প্রথম পুলিশে চাকরির জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। ১০০ টাকার বাইরে কোন টাকা খরচা হলো না। এ নিয়োগ ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে।’

কেবল রাব্বী বা সুমিই নন, মাত্র ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরির বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেছেন ময়মনসিংহের ২৫৭ জন তরুণ-তরুণী।

সোমবার (০৮ জুলাই) রাত ৮টায় ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে ফল ঘোষণার পর তাদের চোখে-মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। এ সময় তারা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের সঙ্গে আলাপকালে নিজেদের আনন্দানুভূতির কথা জানান।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আবিদ হোসেন। প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ৬ হাজার ২৮০ জন পরীক্ষার্থী শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২ হাজার ৩৬৮ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে লিখিত পরীক্ষায় পাস করে ৪৫২ জন। এর মধ্যে থেকে ২৫৭ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/09/1562627088717.jpg
এসপি শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাই পুলিশে চাকরি পেয়েছে। কারো কোন বাড়তি টাকা পয়সা লাগেনি। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, কাউকে কোন টাকা দিলে প্রতারিত হবেন। পুলিশ এখন বদলে গেছে। পুলিশে চাকরির জন্য কোন টাকা দিতে হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছেন। তার নির্দেশে আইজিপি মহোদয় আমাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার। আমরা সেই কাজটিই করেছি।’

হলভর্তি একঝাঁক তরুণ-তরুণী খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন। পুলিশ লাইন্স গেটের বাইরে স্বজনদের অপেক্ষা। খুশির সংবাদে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরির নজির স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি ও এসপি’র প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

নিজের সন্তানের চাকরিতে আনন্দে একাকার রিকশাচালক ওমর ফারুক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আইজ আমি অনেক খুশি। আমার মাইয়ার চাকরি হইছে। আমি অহন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।’

আপনার মতামত লিখুন :