Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দরিদ্র পরিবারে আশার আলো রাব্বী-সুমিরা

দরিদ্র পরিবারে আশার আলো রাব্বী-সুমিরা
টিআরসি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সুমি
উবায়দুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ময়মনসিংহ


  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার ফজলে রাব্বী। পুলিশে চাকরি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। আয়রনের দোকানের আয় দিয়ে নিজের পড়াশুনার খরচ চালিয়েছেন। কাপড়-চোপড় সেলাইয়ের কাজ করতেন মা। এ টাকাতেই তিনবেলা আহারের ব্যবস্থা হতো।

পুলিশ বাহিনীর গর্বিত সদস্য হতে পারবেন স্বপ্নেও ভাবেননি কোনদিন। কিন্তু দুর্দিনের ঘূর্ণিপাক কাটিয়ে এখন সংসারে আশার আলো হয়ে উঠেছেন রাব্বী।

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের সঙ্গে আলাপকালে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়ে এ তরুণ বলছিলেন, ‘টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি হয় এটা একটি বিরল নজির। আমি এসপি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি আমাদের মতো গরিব অসহায় মানুষের কথা ভেবে এ নিয়োগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন।’

রিকশাচালক ওমর ফারুকের মেয়ে ফারজানা আক্তার সুমি অঝোরে কাঁদলেন। এ কান্না আনন্দের। বাবা ওমর ফারুককে সুখী জীবনের স্বপ্ন দেখালেন এ তরুণী। এখন তাদের আর অভাব-অনটনে থাকতে হবে না। চাকরির বেতন দিয়েই মা-বাবাকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন হবে তার।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/09/1562626941370.jpg
সুমি বলছিলেন, ‘আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন। এবারই প্রথম পুলিশে চাকরির জন্য লাইনে দাঁড়ালাম। ১০০ টাকার বাইরে কোন টাকা খরচা হলো না। এ নিয়োগ ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে।’

কেবল রাব্বী বা সুমিই নন, মাত্র ১০০ টাকায় পুলিশে চাকরির বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেছেন ময়মনসিংহের ২৫৭ জন তরুণ-তরুণী।

সোমবার (০৮ জুলাই) রাত ৮টায় ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে ফল ঘোষণার পর তাদের চোখে-মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। এ সময় তারা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের সঙ্গে আলাপকালে নিজেদের আনন্দানুভূতির কথা জানান।

চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ আবিদ হোসেন। প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ৬ হাজার ২৮০ জন পরীক্ষার্থী শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২ হাজার ৩৬৮ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে লিখিত পরীক্ষায় পাস করে ৪৫২ জন। এর মধ্যে থেকে ২৫৭ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/09/1562627088717.jpg
এসপি শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাই পুলিশে চাকরি পেয়েছে। কারো কোন বাড়তি টাকা পয়সা লাগেনি। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, কাউকে কোন টাকা দিলে প্রতারিত হবেন। পুলিশ এখন বদলে গেছে। পুলিশে চাকরির জন্য কোন টাকা দিতে হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছেন। তার নির্দেশে আইজিপি মহোদয় আমাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখার। আমরা সেই কাজটিই করেছি।’

হলভর্তি একঝাঁক তরুণ-তরুণী খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন। পুলিশ লাইন্স গেটের বাইরে স্বজনদের অপেক্ষা। খুশির সংবাদে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন। বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরির নজির স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, আইজিপি ও এসপি’র প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

নিজের সন্তানের চাকরিতে আনন্দে একাকার রিকশাচালক ওমর ফারুক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘আইজ আমি অনেক খুশি। আমার মাইয়ার চাকরি হইছে। আমি অহন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।’

আপনার মতামত লিখুন :

রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেফতার

রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় গ্রেফতার
তাসলিমা বেগম রেনু হত্যার মূল আসামি হৃদয়/ ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পূর্ব বিভাগের মাদক উদ্ধার টিম।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ভূলতা থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মাহবুব আলম। তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধার দিকে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয়কে গ্রেফতার করে ডিবির একটি টিম।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563900973518.jpg

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজার থেকে উত্তর বাড্ডায় গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয় সন্দেহে এক যুবককে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে তুলে দেয় সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজার থেকে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলার প্রধান আসামি হৃদয় সন্দেহে এক যুবককে আটক করে সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে নিয়ে আসে। সে হৃদয় কিনা তা আমরা জানি না। আমরা বাড্ডা থানা পুলিশের কাছে তাকে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন তারা নিশ্চিত করবেন আটক যুবক হৃদয় কিনা।’

আরও পড়ুন: রেনু হত্যার প্রধান আসামি হৃদয় সন্দেহে যুবক আটক

চট্টগ্রামে দগ্ধ হয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু

চট্টগ্রামে দগ্ধ হয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু
আগুন

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড এলাকায় একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে আটটায় কলসী দীঘির বস্তিতে আগুনের সূত্রপাতহয়।

এ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন নাসিমা বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে লামিয়া (৭)।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দীন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র