Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ব্রিজ নির্মাণে ব্যর্থ ঠিকাদার, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

ব্রিজ নির্মাণে ব্যর্থ ঠিকাদার, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ
বৃষ্টির কারণে রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

শুধু পানি আর পানি। কোনটি রাস্তা, কোনটি ব্রিজ সেটা বোঝা মুশকিল। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিজের কাজ শেষ না হওয়াতে নিয়মিত চলাচলের বিকল্প রাস্তাটি ডুবে আছে পানির নিচে। এতে হাঁটু পানিতে নেমেই ছুটতে হচ্ছে গন্তব্যে। ভারী যানবাহন নিয়ে চলাচলে রয়েছে চরম ভোগান্তি। এতে প্রতিদিন ঘটছে ছোট ছোট দুর্ঘটনাও। এটি রংপুর সিটি করপোরেশনের কুকরুল এলাকায় নির্মাণাধীন কুকরুল ব্রিজকে ঘিরে সৃষ্ট ভোগান্তির চিত্র।

২০১৭ সালের ২৩ মে নির্মাণ শুরু হওয়া এ ব্রিজটির কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের জুনে। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি ব্রিজ নির্মাণ। গেল দুই বছরে শুধু খুঁটি বসানো হয়েছে। কাজও করা হয়েছে ওপরের অংশে রডের। বাকি কাজের জন্য দুই দফা সময় বাড়িয়ে নিয়েও কাজ শেষ করেনি ঠিকাদার।

নির্মাণাধীন ওই ব্রিজের পাশে মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা বিকল্প রাস্তাটি এখন পানির নিচে ডুবে আছে। সেই ডুব রাস্তা দিয়েই কষ্ট করে চলাচল করছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে ভারী যানবাহন নিয়ে চলাচলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিটি করপোরেশনের দুটি ওয়ার্ডসহ পার্শ্ববর্তী গঙ্গাচড়ার উপজেলার পাঁচটি গ্রামের সাধারণ মানুষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562768278133.jpg
এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে এলাকাবাসী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

জানা গেছে, ২০১৬ সালে বন্যার সময় পুরনো কুকরুল ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় পরের বছর ওই স্থানে নতুন ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এরমধ্যে কাজের মেয়াদ শেষ হয়েও পার হয়েছে আরও দেড় বছর। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ।

বর্তমানে গেল কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বিকল্প রাস্তাটি পানিতে ডুবে থাকায় ১৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এই ব্রিজের রাস্তা দিয়ে সিটি করপোরেশনের ২৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের কুকরুল, আমাশু, বালাকোয়াঁ, কলোনী, জলছত্র, বুরালহাট, হারাটি, ময়নাকুটি, খটখটিয়া, চওরাহাটসহ পাঁচটি গ্রাম এবং গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের আরও পাঁচটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন।

এ ব্যাপারে কুকরুল এলাকার বাসিন্দা আরশাদ আলী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘ঠিকাদার ঠিক মতো কাজ করেনি। সময় শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতি আর সিটি মেয়রের অবহেলার কারণে আমরা এখন চরম ভোগান্তিতে আছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562768308011.jpg
হাঁটু পানিতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলছাত্র ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘এই বর্ষাকালে আমাদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন হাঁটু পানিতে ভিজে যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে ভেঙে ফেলা ব্রিজের পাশে জমির মধ্যে তৈরি বিকল্প রাস্তা দিয়ে কষ্ট হলেও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা গেছে। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুমে তো পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। এভাবে তো চলাচল করা ঝুঁকির।’

স্থানীয় সংবাদকর্মী আমাশু এলাকার আল-আমিন সুমন বলেন, ‘এখন বর্ষাকাল। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। ব্রিজের পাশের রাস্তাটি এখন চলাচলে উপযোগী নয়। তারপরও সবাই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এই পথ ধরে যারা যাতায়াত করতে যে কি কষ্ট হচ্ছে তা বোঝানো যাবে না। রাত হলে রাস্তা খুঁজে পাওয়া যায় না।’

এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সাবেক মেয়র সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টুর আমলে ২০১৭ সালের ২৩ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র অনুযায়ী কুকরুল ব্রিজসহ খটখটিয়া এলাকায় আরও একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ একসঙ্গে শুরু হয়। এ দুটি ব্রিজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৮৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শহীদ ব্রাদার্স এই ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ পায়। গত বছর ২ জুন ব্রিজ দুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। কাজের ধীরগতি ও কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকায় এই বিলম্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে এ বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও পূর্ণতা পায়নি ব্রিজটি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/10/1562768382831.jpg
পানির কারণে রাতের অন্ধকারে রাস্তা খুঁজে পায় না পথচারীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

এ ব্যাপারে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘এটি আগের মেয়রের আমলে দরপত্র হওয়া কাজ। তবে তা শেষ না হওয়ায় লোকজনের দুর্ভোগ হচ্ছে। ঠিকাদারকে তাগাদা দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আশা করছি আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে এই ব্রিজ ও রাস্তার কাজ শেষ হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অনেকটাই কমেছে। এটি এখন উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সারাদেশে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে উন্নতি ঘটছে।

মাঝে মাঝে অবশ্য আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে দেশের দু-এক জায়গা ছাড়া তেমন কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

গরমে জনজীবন কিছুটা অতিষ্ঠ হলেও বন্যায় কবলিত পানিবন্দীদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে। তারা নিজ ভিটায় ফিরে যেতে পারবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা নিজেকে আবারও গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে নদী ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারানো মানুষদের আর্তনাদ থেকেই যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389450967.jpg

আবহাওয়া অফিস বলছে, 'মৌসুমী বায়ু অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। এতে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা কমে গেছে। ক্রমান্বয়ে বাড়বে তাপমাত্রা। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি ছিল তবে এখন তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বিরাজ করতে পারে।'

বুধবার ১৭ জুলাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মংলায় ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কুমারখালীতে ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকালে রাজধানীতে আকাশ মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের প্রখরতাও বাড়তে থাকে। এতে গরমের তীব্রতাও বাড়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389436185.jpg

রোদ থেকে বাঁচতে অনেকেই ছাতা ব্যবহার করেছেন। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'গতকাল থেকেই বৃষ্টির প্রভাব কমেছে। তাপমাত্রা বেড়েছে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় তিন থেকে চারদিন পর আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। আরও এক থেকে দেড় মাস এভাবেই চলবে।'

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বাকি বিভাগগুলোতে দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, রাজশাহী সাতক্ষীরা চুয়াডাঙ্গা ও যশোরের উপর দিয়ে বেড়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া
ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও তার নামে ভুয়া চিঠিপত্র।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ভুয়া সিল-প্যাড ব্যবহার করে জা‌লিয়া‌তি কর‌েছে এক‌টি প্রতারক চক্র।

এ ভুয়া চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বুধবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি নং: ৯৮১।

জিডিতে তিনি জানান, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমার সিল-প্যাড ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বরাবর কোন ধরনের পত্র, সুপারিশ বা নির্দেশনা প্রদান করি নাই। অথচ একটি জালিয়াতচক্র আমার নামে ভুয়া চিঠিপত্র বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেছে মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য  জালিয়াতচক্র কর্তৃক এ ধরনের মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563387562162.jpg

আওয়ামী লীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। এই জালিয়াতচক্র সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্যাডে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষর নকল করে গফরগাঁও পৌরসভার মেয়র বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। যেটি একটি জাল চিঠি ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র