১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা

আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির ‘বন্যার পূর্ব প্রস্তুতি’ সভা শেষে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দশ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। লালমনিরহাট, নীলফামারি, গাইবান্ধা, নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান এবং শেরপুর—এই দশ জেলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রেখেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

ডা. এনামুর রহমান জানান, এই দশ জেলার জন্য ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, ১৭ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য এবং ২০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও ৫০ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতি বন্যার আশঙ্কাজনক এই দশ জেলার জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও ৫০০টি তাঁবু করা হয়েছে। একেকটি তাঁবুতে ২০ জন করে থাকতে পারবে। এছাড়া সব জেলার জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বন্যা মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে খাবারসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে।

তিনি জানান, প্রত্যেক এলাকায় সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে কমিটি হয়েছে। যাতে পানিবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। খাদ্য গুদামগুলোর কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল বরা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা সঙ্কট হলে ৫০০ করে তাঁবু পাঠানো হচ্ছে। প্রত্যেক তাঁবুতে ২০ জন করে থাকতে পারবে। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এনামুর রহমান আরো বলেন, আমরা আশা করি বন্যার ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি হ্রাস করে জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারব। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে সেসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে। জামালপুরে, লালমনিরহাটের তিস্তা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ জন্য কাজ করছে। আমাদের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান বলেন, বন্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে হবে। সে বিষয়টিতেই আমরা জোর দিচ্ছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড, আবহাওয়া অফিসসহ সকল বিভাগকে সর্বশেষ তথ্য দিতে হবে। সরকারি সাহায্য যাতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করে সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ কামাল, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :