Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

প্রাণসহ ৫ কোম্পানির দুধে অ্যান্টিবায়োটিক: জেনে নিন ক্ষতিকর দিক

প্রাণসহ ৫ কোম্পানির দুধে অ্যান্টিবায়োটিক: জেনে নিন ক্ষতিকর দিক
ছবি: সংগৃহীত
শাহরিয়ার হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণসহ নামিদামি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে মানবচিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব পাওয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে আলোচনা সমালোচনা। গবেষণা নিয়ে চলছে বিতর্কও। তবে এই বিতর্কের মধ্যেই দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও নামিদামি এসব কোম্পানির দুধে মিলল অ্যান্টিবায়োটিক।

তাও আবার নতুন ১০ টি নমুনার ১০ টিতেই পাওয়া গেছে অ্যান্টিবায়োটিক। এমনকি যেখানে প্রথম দফায় পাওয়া গিয়েছিল ৩ ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। সেখানে এবার পাওয়া গেছে ৪ টি।  অ্যান্টিবায়োটিকগুলো হল, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লিভোফ্লক্সাসিন। এর মধ্যে আগের পরীক্ষায় অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিন ছিল না।

প্রাণসহ নামিদামি কোম্পানির দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-আতঙ্ক। অন্যদিকে জনসাধারণের মনে এখন প্রশ্ন অ্যান্টিবায়োটিক মিশ্রিত দুধ খেলে কি হয়? আর দুধে অ্যান্টিবায়োটিক আসেই বা কিভাবে?

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রির্সাচ সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক ও এই গবেষণার টিমের প্রধান অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, মানুষ ও পশুর জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক সম্পূর্ণ আলাদা। গরুকে মানুষের এন্টিবায়োটিক দিলে, দুধ ও মাংসের মাধ্যমে তা আবার মানুষের শরীরেই প্রবেশ করে। যা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বিষয়। পরীক্ষায় পাস্তুরিত দুধের  নমুনার সবগুলোতেই মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো যদি আমরা দুধে মাধ্যমে সেবন করি। তাহলে অ্যান্টিবায়োটিকগুলো স্বয়ংক্রিভাবে মানব শরীরে তার অস্তিত্ব গেড়ে বসবে। এতে যখন এই সংক্রান্ত অসুখ দেখা দেবে তখন ওই অ্যান্টিবায়োটিক গুলো আর কাজ করবে না।  সাধারণত গরু বা অন্য কোন প্রাণির দ্রুত রোগ সারানোর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়। সেটা যদি দুধ দেওয়া গাভীকে খাওয়ানো হয়, তখনই দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়।

এখন দেখা যাক, প্রাণ, আড়ংসহ নামিদামি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে পাওয়া অ্যান্টিবায়োটিকগুলো কোন কোন রোগে ব্যবহার করা হয়। কেনো সেগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।  

সিপ্রোফ্লক্সাসিন: এটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক যা ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এই অ্যান্টিবায়োটিক ফ্লুরোকুইনোলন গ্রুপের ওষুধ। ওষুধটি ত্বক ফুসফুস, হাড়, অস্থিসন্ধির ইনফেকশনে ভালো কাজ করে। এছাড়া সিগেলা ও জেজুনি ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনে বহুল ব্যবহৃত হয়। টাইফয়েড জ্বর ও খাদ্যে বিষক্রিয়াও খুব ভালো কাজ করে এটি। তবে যদি এটি দুধের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে পরবর্তীতে মানব শরীরে সিপ্রোফ্লক্সাসিন আর কাজ করবে না।

অক্সিটেট্রাসাইক্লিন: অ্যাক্টি-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট হিসাবে কাজ করে । শরীরের ব্যাকটেরিয়া আক্রমণের কারণে এটি সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। বুকে এবং মুখে ঘা হলে বা  সংক্রমণ দেখা দিলে সাধারণত চিকিৎসক এই অ্যান্টিবায়োটিকের সুপারিশ করে থাকেন।

এনরোফ্লক্সাসিন: লিম্ফয়েড লিউকোসিস টিউমার সৃষ্টিকারী ভাইরাস রোগ। এতে লিভার বা যকৃত বড় হয়ে যায়। এই রোগ যখন গরুর ক্ষেত্রেও দেখা দেয় তখন পশু চিকিৎসক এনরোফ্লক্সাসিন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। 

লিভোফ্লক্সাসিন:  বিভিন্ন জীবাণু সংক্রামণ যেমন: সাইনুসাইটিস, নিউমোনিয়া, মূত্রনালি, প্রোস্টেট ও পাকস্থলীর সংক্রমণ এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এই অ্যান্টিবায়োটিক। দুধের মধ্য দিয়ে এ অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে প্রবেশ করলে পরবর্তীতে এসব রোগে লিভোফ্লক্সাসিন আর কাজ করবে না।

এদিকে মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফারুক হোসেন বলেন, এন্টিবায়োটিক অতিরিক্ত সেবন করা ঠিক নয়। এন্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক ঠান্ডা বা ভাইরাসজনিত রোগে কোনো কাজ করে না। যদি ভাইরাসজনিত রোগে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হয়, তবে বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের চিকিৎসা চলতে থাকলে অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার যথার্থ না হলে এমন একটা সময় আসবে যখন ব্যাকটেরিয়াকে মারা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এ অবস্থাকে ব্যাকটেরিয়াল রেজিসট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্স বলা হয়। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্স বা অকার্যকারিতার জন্য অনেক রোগের চিকিৎসা সফলভাবে করা সম্ভব হয় না। চিকিৎসার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিসট্যান্স বা অকার্যকারিতা একটি বড় হুমকি।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খুলনার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহীসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটের শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত হবার ৩ ঘণ্টা পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে লাইনচ্যুত হওয়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে আটকা পরেছে উত্তরাঞ্চল থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস। এ দুটি ট্রেনের যাত্রীরা খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে রাত সাড়ে ১০টায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, স্টেশনে ছোট-বড় ব্যাগ-বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে বসে আছেন যাত্রীরা। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে, কেউ কেউ স্টেশনে ব্যাগের উপরে ঘুমিয়ে পড়েছেন। যাত্রীরা ট্রেনে খুলনা থেকে ঢাকা বা সৈয়দপুরে যাবার বিকল্প উপায় খুঁজছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154647440.jpg

ঢাকাগামী যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী লোকমান হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, মাওয়া আর আরিচা ঘাটে গাড়িতে অনেক যানজট হয়, তাই ট্রেনে যাবার জন্য টিকিট কেটেছিলাম। সোমবার ঢাকায় আমার কাজে যোগ দেবার দিন। এখন তো মহাবিপদে পড়েছি।

সৈয়দপুরের চিলাহাটি সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী রাসেল ইসলাম বলেন, ট্রেনে যাবো বলে সেই সন্ধ্যা থেকে বসে আছি। বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। ট্রেন ছাড়া সৈয়দপুরে যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। কখন ট্রেন আসবে স্টেশনের কেউই বলতে পারছেনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566154680725.jpg

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের টিটি মোহাম্মদ ইলিয়াস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সন্ধ্যায় রাজশাহী থেকে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন খুলনার দিকে আসছিলো। পথিমধ্যে ট্রেনটি কোটচাঁদপুর স্টেশনের ইউপি গেটে পৌঁছালে দুটি বগি ও আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্তও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এছাড়া কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের পেছনে সৈয়দপুরের চিলাহাটি থেকে আসা রূপসা ও ঢাকা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস পরবর্তী স্টেশনে অপেক্ষা করছে।  সৈয়দপুর ও ঢাকাগামী দু’টি ট্রেনই খুলনা স্টেশন থেকে ছেড়ে যাবার কথা থাকলেও যেতে পারেনি। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রীদের টিকিট ফেরত দেয়া হচ্ছে। যাত্রীরা চাইলেই তাদের টিকিট ফেরত দিয়ে টাকা নিতে পারছেন।

কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাওসার জানান, ঘটনার পর থেকে খুলনার সঙ্গে রাজশাহী, ঢাকাসহ সকল রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে এখনও উদ্ধার কাজ শুরু হয়নি। কখন সময় উদ্ধার কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!

এএসপির বাড়িতে পুলিশের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি!
খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ফায়ারিংয়ের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি পার্শ্ববর্তী এক এএসপির বাসার সিলিং ফ্যানে আঘাত করেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুরে খুলনার ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে এ ঘটনা ঘটে। খুলনার পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) থেকে গুলিটি আসে। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিটি এএসপির বাসার রান্না ঘরের জানালায় ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে।

খুলনা জেলা পুলিশের এএসপি আনিসুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বার্তাটোয়েন্টিফোর. কম কে বলেন বলেন, 'খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার থেকে আমার বাসার দূরত্ব এক কিলোমিটার। দুপুরের দিকে বিকট শব্দে একটি গুলি আমার বাসার রান্না ঘরের জানালায় মাথার ঠিক ওপর দিয়ে গ্লাস ভেঙে ডাইনিং রুমের সিলিং ফ্যানে লাগে। তখন ডাইনিংয়ে আমার দুই সন্তান ছিল। গুলির শব্দে বাসার সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমি বাসায় ছুটে যাই। এরপর খানজাহান আলী থানা পুলিশ বাসায় এসে গুলিটি জব্দ করে নিয়ে যায়।'

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মহানগরীর খানজাহান আলী থানা সংলগ্ন পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ফায়ারিং রেঞ্জে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ফায়ারিং ট্রেনিং ছিল। ওই ট্রেনিং থেকেই রাইফেলের গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ফুলবাড়িগেট কেডিএ আবাসিকের ৬৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এএসপি’র বাসাতে আঘাত হানে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র