দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষায় সক্ষম নয় বিএসটিআই

মনি আচার্য্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
প্রাণ, মিল্কভিটা ও আড়ংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য যাচাই না করেই ছাড়পত্র দিয়ে আসছে বিএসটিআই/ ছবি: সংগৃহীত

প্রাণ, মিল্কভিটা ও আড়ংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য যাচাই না করেই ছাড়পত্র দিয়ে আসছে বিএসটিআই/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করতে সক্ষম নয় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। তারপরও এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যকে ছাড়পত্র দিয়ে আসছে সংস্থাটি। অভিযোগ উঠেছে- প্রাণ, মিল্কভিটা ও আড়ংসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য যাচাই না করেই তাদের পণ্যের ছাড়পত্র দিয়ে আসছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিএসটিআই’র ল্যাবে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষার জন্য কোনো যন্ত্রাংশই নেই। এমনকি আজ পর্যন্ত এ ধরনের কোনো পরীক্ষা করেনি সংস্থাটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. আ ব ম ফারুক অভিযোগ করে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বিএসটিআই দাবি করছে বাজারে বিক্রি হওয়া বিভন্ন প্রতিষ্ঠানের পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে আশঙ্কাজনক কোনো কিছু নেই। কিন্তু তাদের এই বক্তব্যের ভিত্তি কী? আমার জানামতে, তাদের এই ধরনের পরীক্ষা করার সক্ষমতাই নেই।’

ঢাবি’র অধ্যাপকের এ অভিযোগ স্বীকার করে বিএসটিআই’র সহকারী পরিচালক মনতোষ দাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘আসলেই এ ধরনের পরীক্ষা করার সক্ষমতা বিএসটিআই’র নেই। এ পর্যন্ত দুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ল্যাবে পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করেই তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।’

প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক তথ্য দিচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমাদের এ ধরনের পরীক্ষা করার সক্ষমতাই নেই, তাই তাদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সক্ষমতা অর্জনের কাজ শুরু হয়েছে। শীঘ্রই বিএসটিআই এ ধরনের পরীক্ষা করতে সক্ষম হবে।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঢাবি’র বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় প্রাণ, মিল্কভিটা ও আড়ংসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের দুধে ক্ষতিকারক অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে। অ্যান্টিবায়োটিকগুলো হলো- অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও লেভোফ্লক্সাসিন। তবে এই গবেষণা সঠিক নয় বলে দাবি করেছে বিএসটিআই।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজারে প্রচলিত ১৪ ব্র্যান্ডের ১৮টি পাস্তরিত দুধের নমুনা পরীক্ষা করে আশঙ্কাজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। তাই এসব দুধ পানে কোনো নিষেধ নেই। কিন্তু ১৩ জুলাই ঢাবি’র বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার দ্বিতীয়বার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে প্রাণ, মিল্কভিটা ও আড়ংসহ পাঁচটি দুধে আবারো মানবদেহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুন :