বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে সংসদে কথা বলা হলো না এরশাদের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ সংসদ নির্বাচন জাতীয় পার্টি জোটগতভাবে নাকি এককভাবে নির্বাচন করবে, তা নিয়ে ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। অবশেষে দুই দিকেই হাঁটেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৬টি আসনে জোটবদ্ধভাবে, আর ১৪৯ উন্মুক্ত আসনে লড়েন।

নির্বাচনে দলগতভাবে আওয়ামী লীগ নিরষ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২৫৮ আসন) পায়। জাতীয় পার্টি বিজয়ী হয় ২২টি আসনে। আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট আসন পায় মাত্র আটটি।

আরও পড়ুন: এরশাদ মারা গেছেন

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী ২(১)(ট) বিধিতে বিরোধী দল প্রসঙ্গে বলা হয়েছে-বিরোধী দলের নেতা অর্থ হলো স্পিকারের বিবেচনায় যে সংসদ সদস্য সংসদে সরকারি দলের বিরোধীতাকারী সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত ক্ষেত্রমত তিনিই দল বা অধিসংঘের নেতা। তবে রেওয়াজ অনুযায়ী, বিরোধী দলের নেতা আসলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন নিয়ে গঠিত দলের প্রধান বা ওই দল থেকে মনোনিত নেতা।

আরও পড়ুন: এরশাদ-এক রাজনৈতিক অধ্যায়

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ফলাফলের ভিত্তিতে যেহেতু দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক দল জাতীয় পার্টি, তাই নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা মনোনীত করার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি লেখেন এরশাদ। সেই চিঠিতে নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা এবং ভাই জিএম কাদেরকে বিরোধী দলীয় উপনেতা করার অনুরোধ জানান। পরে অবশ্য ভাই জিএম কাদেরকে সরিয়ে স্ত্রী রওশনকে বিরোধী দলীয় উপনেতা করেন।

আরও পড়ুন: যেভাবে রাষ্ট্রপতি হন এরশাদ

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ৩ জানুয়ারি যখন তার দলের অন্য সদসরা শপথ নেন, তখন তিনি শপথ নিতে পারেননি। পরে হুইল চেয়ারে করে গত ৬ জানুয়ারি স্পিকারের সংসদ কক্ষে শপথ নেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ।

আরও পড়ুন: জাতীয় ফ্রন্ট থেকে এরশাদের জাপা

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সেদিনই ছিল সংসদে তার প্রথম যাওয়া। এরপর প্রথম অধিবেশনে একদিন সেই সময়ের বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এবং বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গার কাঁধে ভর করে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার চেয়ারে বসলেও কোনো কথা বলার সুযোগ হয়নি এরশাদের। ওই দিনই ছিল সংসদে তার শেষ যাওয়া।

আরও পড়ুন: এরশাদের মৃত্যুতে সবচেয়ে বিপদে যারা

রোববার (১৪ জুলাই) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

গত ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এরপর একে একে তিনটি অধিবেশন শেষ হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :