Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

এরশাদের দাফনে পূরণ হলো রংপুরবাসীর প্রত্যাশা

এরশাদের দাফনে পূরণ হলো রংপুরবাসীর প্রত্যাশা
দাফনের জন্য কবরের সামনে আনা হয়েছে এরশাদের মরদেহ, ছবি: বার্তা২৪
বার্তা টিম
রংপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

গত দু’দিন ধরে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ দাফন নিয়ে চলছিল টানাপোড়েন। ঢাকার সামরিক কবরস্থান না রংপুরের পল্লী নিবাস। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বেশ ক্ষুব্ধ হন। অবশেষে রওশন এরশাদের সম্মতিতে এর সমাধান হয়। পল্লী নিবাসেই এরশাদের মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

রক্তে হিমোগ্লোবিন স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনির জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৪ জুলাই) সকালে এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল এরশাদের মরদেহ ঢাকায় দাফন সম্পন্ন হবে। তবে সেটা হতে হবে উন্মুক্ত স্থানে। যেখানে মসজিদ-মাদরাসা নিয়ে কমপ্লেক্স থাকবে। কিন্তু এরশাদের মৃত্যুর পর যখন সামরিক কবরস্থানে দাফনের ঘোষণা দেওয়া হয় তখন থেকেই বিক্ষোভের শুরু।

এরপরই রংপুরে দাফনের বিষয়ে সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মৌন সমর্থন দেন। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহীসহ উত্তরের নেতাকর্মীরা যেকোনো মূল্যে প্রিয় নেতাকে রংপুরে চিরশায়িত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাও এরশাদের দাফনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। এর জন্য তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সোমবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেছিলেন, ‘এরশাদ স্যারের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা আদর্শকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। সামরিক কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত দলের কেউই মানে না। যেকোনো মূল্যে তাকে রংপুরের মাটিতেই দাফন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, রংপুর থেকে এরশাদের মরদেহ কোনোভাবেই রংপুর থেকে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি অপচেষ্টা চালায়, জাপার নেতাকর্মীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে তা প্রতিহত করবে; আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত। তবুও রংপুরের পল্লীনিবাসে স্যারের দাফন করা হবে।

জাতীয় পার্টি তৃণমূল নেতাকর্মীদের যুক্তি ছিল, সামরিক কবরস্থানে দাফন করলে সেখানে যখন তখন যেতে পারবেন না নেতাকর্মীরা। তার চেয়ে রংপুর দাফন করলে নেতার সমাধিতে সহজেই যেতে পারবেন।

এদিকে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় শ্রদ্ধা রেখে রংপুরেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন তার স্ত্রী রওশন এরশাদ। শুধু তাই নয়, পাশে নিজের জন্যও কবরের জায়গা রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে রংপুরবাসীর মতো হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন রংপুরেই চান তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। সোমবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমিও তাই চাই, লাখ লাখ নেতাকর্মীদের মতো রংপুরের মাটি যেন হয় এরশাদের শেষ ঠিকানা।'

মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়। জানাজা তার মরদেহ তার রংপুরের বাসভবন পল্লী নিবাসে নেওয়া হয়।

এর আগে সোমবার (১৫ জুলাই) বাদ আছর ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এরশাদের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের খতিব। ওই দিন সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। প্রতিটি জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এফআর টাওয়ারের মালিক ফারুক গ্রেফতার

এফআর টাওয়ারের মালিক ফারুক গ্রেফতার
এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, পুরনো ছবি

তাসভির উল ইসলামকে গ্রেফতারের একদিন পর এফআর টাওয়ারের মালিক এস এম এইচ আই ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নকশা জালিয়াতির মামলায় সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে গুলশান এলাকা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।

বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন দুদুকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।

তিনি বলেন, দুপুরে দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক নেতৃত্বে একটি টিম নকশা জালিয়াতির মামলায় এস এম এইচ আই ফারুককে গ্রেফতার করেছে।

আরও পড়ুন: এফআর টাওয়ার দুর্নীতি, কাসেম ড্রাইসেলের এমডি গ্রেফতার

নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ১৬ থেকে ২৩ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে এফআর টাওয়ার মালিক, রাজউকের সাবেক দুই চেয়ারম্যান এবং রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৫ জুন পৃথক দুই মামলা দায়ের করে দুদক।

মামলায় ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারের ১৯ তলা থেকে ২৩ তলা নির্মাণ, বন্ধক প্রদান ও বিক্রি করার অভিযোগে দণ্ডবিধির সাতটি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

অপর মামলায় এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা অনুমোদন থাকলেও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ১৯৯৬ লঙ্ঘন করে নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের অভিযোগ আনা হয় হয়। এই মামলায় দণ্ডবিধির চারটি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এতে নিহত হন ২৭ জন। হতাহত হয়েছে অনেক।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই বনানীর এফআর টাওয়ার নকশা অনুমোদনে জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুক ও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, কাশেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক ও এফআর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভির উল ইসলাম এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

ফারুক হোসেন ১৯৯৬ সালে তার মালিকানাধীন ১০ কাঠা জায়গায় ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকে আবেদন করেন। তবে প্রথম ১৫ তলার অনুমোদন পেলেও পরবর্তীতে রাজউকের সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে অবৈধভাবে ১৮ তলা ভবন নির্মাণ করেন। কিন্তু ২০০৫ সালে ১৮ তলার উপর ভবনের মালিক ফারুক হোসেন ও রূপায়ন গ্রুপ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ২৩ তলা নির্মাণ করেন।

২০০৭ সালে বিষয়টি তদন্ত করে অনুমোদিত নকশায় অতিরিক্ত পাঁচতলা নির্মাণের প্রমাণ পেয়েও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত অংশ বিক্রির অনুমোদন দিলে কাশেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক তাসভির উল ইসলাম ক্রয় করেন।

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

রুয়েট শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে রুয়েট শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশিদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, রাজশাহী নগরীজুড়ে দুর্বৃত্তদের উৎপাত বেড়েছে। স্থানীয় কিছু বখাটে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে। ছাত্রীদের উত্যক্ত করে। এদের উত্যক্ত থেকে বাদ যায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের স্ত্রীও। শিক্ষক তার স্ত্রীর উত্যক্তর প্রতিবাদ করায় তাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষক রাশিদুল ইসলামকে লাঞ্চিতকারী বখাটেদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

জানা যায়, গত ১০ আগস্ট রুয়েট শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন নগরীর মনিচত্বরে এক বখাটে তার স্ত্রীকে পেছন থেকে কয়েকবার ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেন।

তিনি এর প্রতিবাদ করলে সোনাদীঘি মসজিদের সামনে নিয়ে ৫-৭জন মিলে তাকে মারধর করে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন শিক্ষকের স্ত্রী তাবাসসুম ফারজানা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র