এরশাদের দাফনে পূরণ হলো রংপুরবাসীর প্রত্যাশা

বার্তা টিম, রংপুর
দাফনের জন্য কবরের সামনে আনা হয়েছে এরশাদের মরদেহ, ছবি: বার্তা২৪

দাফনের জন্য কবরের সামনে আনা হয়েছে এরশাদের মরদেহ, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

গত দু’দিন ধরে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ দাফন নিয়ে চলছিল টানাপোড়েন। ঢাকার সামরিক কবরস্থান না রংপুরের পল্লী নিবাস। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বেশ ক্ষুব্ধ হন। অবশেষে রওশন এরশাদের সম্মতিতে এর সমাধান হয়। পল্লী নিবাসেই এরশাদের মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

রক্তে হিমোগ্লোবিন স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনির জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৪ জুলাই) সকালে এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল এরশাদের মরদেহ ঢাকায় দাফন সম্পন্ন হবে। তবে সেটা হতে হবে উন্মুক্ত স্থানে। যেখানে মসজিদ-মাদরাসা নিয়ে কমপ্লেক্স থাকবে। কিন্তু এরশাদের মৃত্যুর পর যখন সামরিক কবরস্থানে দাফনের ঘোষণা দেওয়া হয় তখন থেকেই বিক্ষোভের শুরু।

এরপরই রংপুরে দাফনের বিষয়ে সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মৌন সমর্থন দেন। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহীসহ উত্তরের নেতাকর্মীরা যেকোনো মূল্যে প্রিয় নেতাকে রংপুরে চিরশায়িত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাও এরশাদের দাফনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেন। এর জন্য তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সোমবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেছিলেন, ‘এরশাদ স্যারের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা আদর্শকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। সামরিক কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত দলের কেউই মানে না। যেকোনো মূল্যে তাকে রংপুরের মাটিতেই দাফন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয়, রংপুর থেকে এরশাদের মরদেহ কোনোভাবেই রংপুর থেকে নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি অপচেষ্টা চালায়, জাপার নেতাকর্মীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে তা প্রতিহত করবে; আমরা জীবন দিতে প্রস্তুত। তবুও রংপুরের পল্লীনিবাসে স্যারের দাফন করা হবে।

জাতীয় পার্টি তৃণমূল নেতাকর্মীদের যুক্তি ছিল, সামরিক কবরস্থানে দাফন করলে সেখানে যখন তখন যেতে পারবেন না নেতাকর্মীরা। তার চেয়ে রংপুর দাফন করলে নেতার সমাধিতে সহজেই যেতে পারবেন।

এদিকে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় শ্রদ্ধা রেখে রংপুরেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন তার স্ত্রী রওশন এরশাদ। শুধু তাই নয়, পাশে নিজের জন্যও কবরের জায়গা রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে রংপুরবাসীর মতো হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন রংপুরেই চান তার সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক। সোমবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমিও তাই চাই, লাখ লাখ নেতাকর্মীদের মতো রংপুরের মাটি যেন হয় এরশাদের শেষ ঠিকানা।'

মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়। জানাজা তার মরদেহ তার রংপুরের বাসভবন পল্লী নিবাসে নেওয়া হয়।

এর আগে সোমবার (১৫ জুলাই) বাদ আছর ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এরশাদের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের খতিব। ওই দিন সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। প্রতিটি জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন :