ত্রাণ বিতরণেও গ্রাম্য রাজনীতি!

জাহিদুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা টোয়েন্টিফোর.কম
গাইবান্ধার দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান

গাইবান্ধার দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান

  • Font increase
  • Font Decrease

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) থেকে: সমান্তরালে দুটি ছবি। একটি প্রাপ্তি। অন্যটি বঞ্চনার। এমন দৃশ্যের সাক্ষী হলো গাইবান্ধার ফুলছড়ির উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খাটিয়া বাড়ি।

চারপাশে থৈ থৈ বন্যার পানি। গুচ্ছগ্রামের জন্যে নির্মিত সামান্য উঁচু জায়গায় ঠাঁই মিলেছে কয়েক'শ পরিবারের। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরম। এই স্থানটি বন্যায় ডোবে নি। এখানেই এক হাজার বানভাসি মানুষকে সরকারের তরফে দেয়া হয় ত্রাণ সহায়তা।

এই মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমান। তিনি গাইবান্ধা সদরের ঘাঘট নিউ ব্রিজ ঘাট থেকে স্প্রীডবোটে করে নৌপথে ঘণ্টাব্যাপী দূরত্বের পথ পাড়ি দিয়ে পশ্চিম খাটিয়া বাড়িতে যান।

এ সময় সঙ্গে ছিলেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী, একেএম এনামুল হক শামীম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব মো: শাহ্ কামাল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বর্তন কর্মকর্তারা।

এখানে পাশের গ্রামগুলো থেকে ত্রাণ নিতে এসেছেন হাজারো নারী- পুরুষ। সকলের হাতে ইউপি চেয়ারম্যান আবু হানিফের দেয়া স্লিপ। সবাই পাবেন শুকনো খাবার। এদের মধ্যে দু'শো জন পাবেন নগদ টাকাও।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563533728693.gif

এদের প্রতিক্রিয়া আনন্দের। হাওয়া বিবি জানান, এতদূরে তাদের কাছে মন্ত্রী এসেছেন। ত্রাণ দিচ্ছেন। যে কারণে তার মতো হাজারো বানভাসি মানুষের কয়েকটা দিন অন্তত কষ্ট লাঘব হবে।

আবার মঞ্চের পেছনে ভিন্নচিত্র। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কয়েকশ নারী পুরুষ। তাদের চোখ ঝাপসা। হতশায় কণ্ঠে তাদের ক্ষোভ। অভিযোগের তীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে।

আব্দুল কুদ্দুস, রুস্তম আলী, মরিচা বেগমসহ বেশ কিছু আশ্রিত বানভাসির অভিযোগ তাদের স্লিপ দেয়া হয়নি।

যেখানে এই ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে, সেখানেই আশ্রয় তাদের। আগের চেয়ারম্যান থাকলে আমরা স্লিপ পেতাম। রহিমা বেগমের এমন বক্তব্যেই উঠে আসে স্থানীয় রাজনীতির গন্ধ।

 https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563533848926.gif

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু হানিফ জানান, কোন বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি নয়, আক্রান্তদের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই স্লিপ দেয়া হয়েছে। কোন অনিয়ম হয়নি।

স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম টলষ্টয় জানান, ত্রাণ বিতরণ নিয়ে ভিলেজ পলিটিক্সের কোনো সুযোগ নেই। এমন অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি বলেন, এই উপজেলায় ৭৯ টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি দুটিসহ ৫৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে ৭ হাজার ৫১৫ টি পরিবারের ১৫ হাজার ২৬ জন। আমাদের চাহিদা ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ১৪৫ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং এক হাজার ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার।

আশা করি, চাহিদা মোতাবেক ত্রাণ পেলে সবাই পাবেন-যোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম টলষ্টয়।

আপনার মতামত লিখুন :