Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে নারী সংহতির মানববন্ধন

ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে নারী সংহতির মানববন্ধন
নারী সংহতি মিরপুর অঞ্চলের মানববন্ধন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর ওয়ারীতে ৭ বছরের শিশু সায়েমাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে, ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে এবং সারা দেশে নারী-শিশু ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী সমাবেশ করেছে নারী সংহতি-মিরপুর অঞ্চল।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে মিরপুর ১২ নম্বরের প্রিন্স প্লাজার সামনে এ প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারী সংহতি-মিরপুর অঞ্চলের আহ্বায়ক মুন্নী মৃ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মিরপুর অঞ্চলের সদস্য জেরিন সেতু। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কানিজ ফাতেমা ও সুলেখা রহমান এবং মিরপুর অঞ্চলের সংগঠক লুৎফুন্নাহার সুমনা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি ওয়ারিতে ৭ বছরের শিশু সায়মাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। অব্যাহতভাবে দেশে একের পর এক নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংস নিপীড়ন-ধর্ষণ-যৌননিপীড়ন-হত্যার ঘটনা ঘটে চলছে। গত ৬ মাসে ২০৮৩ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আগে সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে সাধারণত ক্ষমতাসীনেরা যুক্ত থাকলেও এখন ক্ষমতাহীন ব্যক্তিদেরও এসব ঘটনা ঘটাতে দেখা যাচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিত্যনতুন সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। দেশে নিরাপত্তাহীনতা এমন অবস্থায় গেছে যে, কে কখন, কোথায় সহিংসতার শিকার হবে তা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563544922280.jpg
বক্তারা বলেন, পুরুষেরা নারীর শত্রু নয়। কিন্তু যে পুরুষ নারী-শিশুদের ধর্ষণ-নিপীড়ন করে, হত্যা করে সে কারও বন্ধু হতে পারে না। একটি ছেলেশিশু শৈশব থেকেই পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে, মিডিয়ায়, চলচ্চিত্রে এবং সংস্কৃতিতে নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে চিনতে শেখে, দেখে তখন বড় হয়ে সে ধর্ষক হয়ে ওঠে। যে সমাজ-সংস্কৃতি ধর্ষক, নিপীড়ক, অমানুষ তৈরি করে, তাদের মানসিকতা বদলের জন্য রাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। সায়মার ধর্ষক হারুনকে আমরা রাতারাতি গ্রেপ্তার হতে দেখেছি। হয়তো তার বিচার হবে, শাস্তিও হবে। তবে কেবল শাস্তি নিশ্চিত হলেই ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন বন্ধ হবে না। সমাজ নারীদের পুরুষের সামনে ভোগ্যপণ্য হিসেবে হাজির করেছে। এ কারণে একজন নিপীড়ক পুরুষ মনে করে সে যা খুশি তা ই করতে পারে। পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার বলেই পুরুষ ধর্ষণের মতো অপরাধ করে।

বক্তারা আরও বলেন, একটা দেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার বলে কিছু না থাকলে ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে যায়। আমরা এমন রাষ্ট্রে বাস করছি যেখানে নাগরিক হিসেবে নারীর পূর্ণ অধিকার নাই, সম্পত্তিতে সমানাধিকার নাই, অভিভাবকত্বে সমানাধিকার নাই, রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা নাই। ঘরে থেকেও শিশু-নারীরা আজ নিরাপদ নয়।

তারা বলেন, আমাদের ফেনীর নুসরাতে কাছ থেকে সাহস নিতে হবে, শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হবে। দেশের এই অনিরাপদ অবস্থাকে প্রশ্ন করতে হবে এবং এ থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ লড়াই ছাড়া এই দুঃশাসন থেকে বের হওয়ার আর কোনো পথ নেই। নারী-শিশুর জন্য, সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ এবং মর্যাদা সম্পন্ন সমাজ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিচারহীনতা, ধর্ষণ-যৌন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে পাড়ায়-মহল্লায়-প্রতিষ্ঠানে প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলার আহ্বান জানায় নারী সংহতি।

আপনার মতামত লিখুন :

বিপজ্জনক রোহিঙ্গা যুবকেরা!

বিপজ্জনক রোহিঙ্গা যুবকেরা!
রোহিঙ্গা সমাবেশ

দুই বছর আগে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখো রোহিঙ্গা। কক্সবাজার জেলার তিন উপজেলায় আশ্রয় নেওয়া এই রোহিঙ্গারা এখন দেশের জন্য বিপজ্জনক। বিশেষ করে রোহিঙ্গা যুবকরা। কোনোভাবেই যেন তাদের লাগাম টেনে ধরে রাখতে পারছে না দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।  

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো যেন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসা, মানব পাচার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, খুন, গুম, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এই রোহিঙ্গা যুবকরা।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৩০) নামের স্থানীয় যুবলীগের এক নেতা খুন হন। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, এই খুনের সঙ্গে রোহিঙ্গা দুই যুবক সরাসরি জড়িত।

এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ পর্যন্ত ৩৮ জন খুন হয়েছেন।

অন্যদিকে বিভিন্ন উপায়ে ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। তাদের কেউ কেউ আবার সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

অনেকে আবার বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে বাংলাদেশিদের সঙ্গে মিশে গিয়ে কৌশলে পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সূত্র বলছে, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে বিজিবি, কোস্টগার্ড ও পুলিশের পৃথক ২৭টি অভিযানে গত দুই মাসে প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। 

তবে শুধু সাগর পথে না, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দেওয়ারও চেষ্টা করছে তারা। গত ১০ মে রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে পালানোর সময় ২৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে র‌্যাব। তবে সবচেয়ে বেশি এমন ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার জেলা পাসপোর্ট অফিসে।

কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক আবু নাঈম নাসিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পাসপোর্টের জন্য রোহিঙ্গাদের করা প্রায় ৪০০ টি আবেদন আমরা জব্দ করেছি।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা যুবকদের টার্গেট করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলো। ভয় ডরহীন এই যুবকদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছে জামা‘আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসার আল ইসলাম বা আনসারুল্লা বাংলা টিম মতো জঙ্গি সংগঠনগুলো। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা একাধিক আইনশৃঙ্খলার বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তার সূত্রে এই সব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

একই কথা বলেছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) এক কর্মকর্তা। তিনি বার্তা টোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, রোহিঙ্গা যুবকদের মধ্য যারা তুলনামূলক শিক্ষিত ও ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন তাদের টার্গেট করছে জেএমবির সদস্যরা। 

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ অবশ্য বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, টেকনাফের চারটি ও উখিয়ার ২৪টি ক্যাম্পকে আট ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে আট সদস্যের পুলিশ টিম কাজ করছে। রোহিঙ্গা যুবকরা বেপরোয়া হতে চাইলে বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে হাত মেলাতে চাইলে আমরা সে সুযোগ দিবো না। তবে  জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

রোহিঙ্গাদের বিপজ্জনক হয়ে উঠার বিষয়ে পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, রোহিঙ্গারা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। কক্সবাজার জেলার বাইরে শুধু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার জন্য প্রায় এক হাজার ১০০ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তারপরও রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।

কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে সংশোধনাগারে প্রেরণ

কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে সংশোধনাগারে প্রেরণ
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘স্টার বন্ড’ নামের এক কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়ে সংশোধনাগারে প্রেরণ করেছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের কারাদণ্ড দেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

এদিকে র‍্যাব জানায়, গতকাল সন্ধ্যায় র‍্যাব-২ এর কাছে তথ্য আসে, একদল কিশোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য রায়েরবাজার এলাকায় জড়ো হয়েছে। এ সময় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্যকে আটক করে র‍্যাব।

তাদের কাছে মাদক পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই কিশোরদের দোষী সাব্যস্ত করেন। প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়ে সংশোধনাগারে পাঠান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র