Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিসমিল্লাহ বলে শুরু পথচলা

বিসমিল্লাহ বলে শুরু পথচলা
মুফতি এনায়েতুল্লাহ


  • Font increase
  • Font Decrease

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত। এ আয়াতকে কোরআনে কারিমের মুকুট বলা হয়। এর অর্থ হচ্ছে, পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি অতি দয়ালু ও করুণাময়।

সব ভালো কাজের শুরুতে মুসলমানরা পবিত্র কোরআন-হাদিসের শিক্ষানুযায়ী বিসমিল্লাহ ব্যবহার করেন। কোনো চুক্তিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ ও চিঠিপত্র প্রভৃতি বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা ইসলামি রীতি।

কোরআনে কারিমেরও সূচনা হয়েছে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দ্বারা। শ্রেষ্ঠতম ইবাদত নামাজের প্রত্যেক রাকাত শুরু হয় বিসমিল্লাহ দিয়ে। দুনিয়ার বুকে শ্রেষ্ঠতম স্থান মসজিদে প্রবেশ করতে হয় বিসমিল্লাহ পড়ে। শান্তির চিরবার্তা ঐতিহাসিক ‘মদিনা সনদ’ও শুরু হয়েছে এর মাধ্যমে।

বিসমিল্লাহ দিয়েই সব কাজ শুরু করতে হয়। হাদিস শরীফে এসেছে, যে কাজ বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা না হয়- তা কল্যাণহীন ও বরকতশূন্য থাকে। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া না হবে, সে কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে।’

হাদিস শরীফে আরও বলা হয়েছে, যে দোয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম থাকে, সে দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়বে, তার জন্য আল্লাহতায়ালা এর প্রতিটি হরফের বিনিময়ে চার হাজার নেকি দান করেন, চার হাজার গোনাহ মাফ করে দেন এবং তার জন্য চার হাজার সম্মান বাড়িয়ে দেন।

বিসমিল্লাহকে বলা হয় সব কাজের সূচনাধ্বনি। এর মাধ্যমে কাজের শুরুতে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করা হয়। আনুগত্য প্রকাশে আল্লাহ খুশি হন। এ বাক্যে বলে কাজ শুরু করলে শয়তানের প্রবঞ্চনা থেকে মুক্ত থাকা যায়, ওই কাজে আল্লাহতায়ালা অফুরন্ত বরকত দান করেন।

প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। মুসলমানদের ঐতিহ্য হলো- যেকোনো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। বিসমিল্লাহর গুরুত্ব ও বরকত অপরিসীম। তাই প্রত্যেক মুসলমান যেকোনো উত্তম কাজ বিসমিল্লাহ দ্বারা সূচনা করেন। পানাহারের সূচনায় বিসমিল্লাহ, কোথাও রওনা হলে বিসমিল্লাহ এমন আরও বহুক্ষেত্রে তারা বিসমিল্লাহ বলে কাজের সূচনা করেন। অবশ্য কোনো অন্যায় ও ইসলামবহির্ভূত কাজের জন্য বিসমিল্লাহ বলা পাপ।

ইসলামি জীবনবোধ, কর্মপদ্ধতি ও সার্বিক প্রেরণার উৎস হলো- আল্লাহতায়ালার বরকতময় নাম। বলা হয়, আল্লাহতায়ালা বিভিন্ন যুগে নবী-রাসূলদের (আলাইহিস সালাম) কাছে যেসব কিতাব নাজিল করেছেন সে সব কিতাবের মোট সংখ্যা প্রায় একশ চারটি। পূর্বে নাজিলকৃত সবগুলো কিতাবের সারাংশ রয়েছে কোরআনে কারিমে। আর পবিত্র কোরআনের সার নির্যাস রয়েছে সূরা ফাতেহায়। আর সূরা ফাতেহার সার নির্যাস রয়েছে বিসমিল্লাহর মধ্যে।

মানুষ হিসেবে আমরা যে যেখানেই দায়িত্ব পালন করি না কেনো- নির্ধারিত সময়ে প্রত্যেককে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ উপলব্ধি মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান পৃথিবীতে গণমাধ্যমগুলো নির্যাতিত, অবহেলিত, বঞ্চিত ও বিপন্ন মানুষের ভরসার একটি জায়গা হয়ে উঠেছে। যাবতীয় সামাজিক শোষণ আর অবিচারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণমাধ্যম মানবসেবা ও শুভকাজ সম্পাদনের সমষ্ঠিগত প্রক্রিয়ার মাধ্যম। তাই আমরাও ডিজিটাল গণমাধ্যমের অংশ হিসেবে বার্তা২৪.কম-এর পথচলা শুরু করছি আল্লাহর নির্দেশিত ও ইসলামি বিধান মতে সমর্থিত বাক্য বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে।

মুসলমান হিসেবে কর্মজীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহতায়ালার রহমত, রাজি-খুশি অর্জনের নিমিত্তে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠ করা আবশ্যক। পীর-আউলিয়া, অলি-দরবেশরা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের আমল করতেন এবং এ আমল দ্বারা অগণিত উপকার পেতেন।

বিসমিল্লাহ কেবল একটি বাক্য নয়, এর মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর বড়ত্ব প্রকাশ পায়। একত্ববাদের সাক্ষ্য দেওয়া হয়। আল্লাহর নিয়ামতের স্বীকার করা হয়। এ ছাড়া আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর নাম নিয়ে শয়তানকে বিতাড়িত করা, নানাবিধ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষায় আল্লাহর করুণা প্রার্থনা করা হয়।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমের উসিলায় আল্লাহতায়ালা আমাদের এই শুভ পথচলাকে বরকতময় করুন। সর্বদা সত্য-সুন্দর ও কল্যাণের পথে অটল থাকার তওফিক দান করুন। যাবতীয় অকল্যাণ থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

এমএইউ/

আপনার মতামত লিখুন :

পার্লামেন্টারি ফোরামের সভা শেষে দেশে ফিরলেন স্পিকার

পার্লামেন্টারি ফোরামের সভা শেষে দেশে ফিরলেন স্পিকার
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী/ ছবি: সংগৃহীত

‘পার্লামেন্টারি ফোরাম অ্যাট দ্য ২০১৯ হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট এন্ড রিলেটেড মিটিং’ শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। শনিবার (২০ জুলাই) বিকালে তিনি দেশে ফেরেন।

স্পিকার গত ১৫ জুলাই ইউএন কনফারেন্স বিল্ডিংয়ে ‘গ্রোয়িং ইনিকোয়ালিটিস এন্ড ডিসট্রাস্ট ইন গভর্নমেন্ট: ব্রেকিং দ্য সাইকেল’ শীর্ষক সেশনে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত এসডিজি লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় স্পিকার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পার্লামেন্টারি ফোরামের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অপর সদস্য ছিলেন সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. জাফর আহমেদ খান।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্পিকারকে স্বাগত জানাতে সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আ ই ম গোলাম কিবরিয়া সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

যুবলীগে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীরাই পদ পাবেন

যুবলীগে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীরাই পদ পাবেন
রংপুরে যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

যুবলীগে তৃণমূলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীরাই পদ-পদবি পাবেন বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী।

শনিবার (২০ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে মহানগর যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা জানান।

যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত আধুনিক এবং প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করতে যুবলীগ কর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যুবকদের মাধ্যমেই দেশ দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব’

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ও আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমানসহ রংপুর মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের এবং যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র