loader
Foto

ভবিষ্যৎ কেবলই মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টালের

ভাবলে রূপকথার মতো লাগে! প্রযুক্তি দুনিয়ার ২০০৫ সাল পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কথা চিন্তা করলে এখনও বিস্মিত হতে হয়। মোবাইল এলো, ইন্টারনেটের জাল ধীরে ধীরে ছেয়ে ফেলল বিশ্ব প্রকান্তারে মহাবিশ্ব। জীবন-যাপন, শিক্ষা, ব্যবসা, সমাজ প্রভৃতির চিরায়িত ধ্যান-ধারণা কীভাবে পাল্টে দিলো ও গেলো তা ব্যাখ্যা-বাহুল্য।

সাংবাদিক হিসেবে সংবাদমাধ্যমই আমাদের দিন-রাত। অন্তর্জালের প্রভাব থেকে এ মাধ্যমটিও যে রেহাই পায়নি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবার বিশ্বাস ছিলো, প্রিন্ট মিডিয়ার সূর্য্য কোনোদিনও অস্ত যাবে না! ব্যক্তিগতভাবে এ মাধ্যমটিতে প্রায় ৪০ বছর কাটিয়েছি বলে সম্পর্কটি নাড়ির।

দেখতে হলো, একদা সিংহের মতো প্রতাপশালী প্রিন্ট-মিডিয়ার অস্ত এবং ডিজিটাল-মিডিয়ার উদয়। অন্যরা যেটি বুঝতে পাঁচ-দশ বছর লাগিয়ে দিলো, পুব আকাশে ডিজিটাল মিডিয়ার লালচে আভা টের পেয়ে যাই আরও আগেই। নানান দেশে ঘোরার অভিজ্ঞতাও এক্ষেত্রে কাজে দিয়েছে বৈকি। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করি বাংলাদেশের প্রথম অনলাইন নিউজপোর্টালের।

ধীরে ধীরে বেলা বাড়লো। নতুন সূর্য্যের তাপ বেড়েছে। তখনও সংবাদমাধ্যমের হর্তা-কর্তারা দ্বিধান্বিত— প্রিন্ট না অনলাইন মিডিয়া? কেউ প্রিন্ট-মিডিয়া আঁকড়ে থাকল, কেউ নৌকা ভাসালো নতুনের পথে। ২০১০-২০১৫ সালের মধ্যেই উত্তর পেয়ে গেলো দু-পক্ষই। বিশ্বের সব ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো একে একে ছাপা পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে ডিজিটাল মিডিয়ার পথে পা বাড়াতে বাধ্য হলো। বাংলাদেশেও এর ব্যতয় ঘটল না।

এরপরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেই যাচ্ছিল— অনলাইন মিডিয়াই কী সংবাদমাধ্যমের একমাত্র ভবিষ্যৎ? এরও যুৎসই উত্তর দিয়ে দিলো একটি সমীক্ষা।

আন্তর্জাতিক চ্যানেল এইচবিও’র ‘লাস্ট উইক টু নাইট’ নামক এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জন অলিভার প্রিন্ট মিডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক রিপোর্ট উপস্থাপনা করেন। রিপোর্টে তিনি দেখান, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজিটাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন থেকে রাজস্ব আদায় করেছে দুই (২) বিলিয়ন ডলার, যেখানে এই একই সময়ে প্রিন্ট মিডিয়া লোকসান করেছে ৩০ বিলিয়ন ডলার।

এটি কেবলই যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব। বাকি বিশ্বের চিত্র আমরা সহজেই আন্দাজ করতে পারি।

সুতরাং, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বসে, এই আলাপ করা এখনও বোকামি ও পশ্চাৎপদ যে, অনলাইন মিডিয়াই সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ! এ আলোচনার অবসান ঘটেছে সেই ২০১৪-১৫ সালেই। কাজেই আগামী বিশ্বের সংবাদমাধ্যম ও এই কেন্দ্রিক ব্যবসা যে এই অনলাইনমাধ্যমেই, তা বুঝতে রকেট সায়েন্স পড়া লাগে না।

/uploads/files/089c4geeNZ2Eg3bHuGRa7Ohgu4BxotSjNBSYMQNd.png

একটা কথা বেশ প্রচলিত, বিশ্ব এখন হাতের মুঠোই! মজার ব্যাপার হলো, এই বাক্যটির দিনও শেষ। বিশ্ব এখন এক আঙুলের ছোঁয়ায়। প্রযুক্তির ভাষায় বললে, বিশ্ব আসলে ‘হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস’র স্ক্রিনে। হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস বলতে, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ফ্যাবলেট প্রভৃতি। এখনকার দিনে ল্যাপটপও আসলে সেকেলে।

কয়েকটি তথ্য দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে, গোটা বিশ্বে বর্তমানে স্মার্টফোন তথা মাল্টিমিডিয়া ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪.৭৬ বিলিয়ন অর্থাৎ ৪৭৬ কোটি। এবার বিশ্বের মোট জনসংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন বলছে, ২০১৭ সালের জুন মাস অব্দি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৩.২ বিলিয়ন অর্থাৎ ৩২০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর আওতাধীন।

আর আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৮৪.৫৪ মিলিয়ন (মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত) এবং মোবাইল ফোন সাবস্ক্রিপশন ১৪১.৬৭৯ মিলিয়ন (অক্টোবর ২০১৭ পর্যন্ত), তথ্য বিটিআরসি’র।

খুব সহজেই ধারণা করা যায়, আগামীর সংবাদ মাধ্যম ও এই কেন্দ্রিক ব্যবসা কোনদিকে যাবে ও কীভাবে হবে। উল্লিখিত, ‘হাতের মুঠোই গোটা বিশ্ব’র মতো অনলাইনই সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ সেটিও প্রযুক্তিগত জায়গা থেকে সেকেলে হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির এই এক ভালো দিক, সদা অগ্রগামী। আজকের আইফোন-৮ এর কাছে কালকের আইফোন-৭ সেকেলে। কাজেই বর্তমান সংবাদমাধ্যম কেবল অনলাইন হলেই হবে না, হতে হবে মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাল্টিমিডিয়ার আধুনিক সব সুবিধাই তাতে যোগ করতে করতে এগিয়ে যেতে হবে। তবেই সেটি হবে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকা সংবাদমাধ্যম।

কেমন হতে হবে মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল

সহজ কথায়, মাল্টিমিডিয়া অর্থাৎ বহমুখী মাধ্যমের সুসমন্বয় ও কার্যকরী ব্যবহার। টেক্সট, ইমেজ, ভিডিও, অ্যানিমেশন, হাইপার লিংক, পপআপ , ইন্টারেক্টিভ অপশন প্রভৃতি হলো এক একটি মিডিয়াম। এই সব সুবিধাই থাকতে হবে নিউজপোর্টালে।

তীব্র গতিশীল দৈনন্দিন জীবন-যাপনে এখন কারও সেই সময় নেই যে এক হাজার ওয়ার্ডের একটি লেখা বসে বসে পড়বে। হোক তা সে অনলাইনের। সেই জায়গাটি দখল করেছিল, স্থিরচিত্র। তাকে হটিয়েও জায়গা করে নিচ্ছে ভিডিও। দুই মিনিটের ভিডিওতে যদি পাঠক এক হাজার ওয়ার্ডের আদ্যপান্ত নিউজ পেয়ে যায় তাহলে কেন সে আধ ঘণ্টা সময় ব্যয় করবে! এবং করছেও না!

ভিডিও স্ট্রিমিং মিডিয়া ইউটিউবের দিনপ্রতি ভিউয়ার প্রায় ৪০ মিলিয়ন। আরেক জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট নেটফ্লিক্সে প্রতিদিন ১২৫ মিলিয়ন ঘণ্টা ভিডিও স্ট্রিমড্ হয়। ইউটিউব যেখানে ফ্রি, নেটফ্লিক্সে সেখানে টাকা খরচ করে দেখতে হয়। তাও মানুষ দেখছে। ইতোমধ্যেই স্রেফ ‘ভিডিও’ একাই গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যম ও ব্যবসা ওলটপালট করে দিয়েছে। অন্যসব ক্ষেত্রের কথা না-ই-বা বললাম।

এই প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে, বিবিসি, সিএনএন, এপি, এএফপি, রয়টার্সের ইত্যাদির মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো ইতোমধ্যেই ভিডিও-নিউজ দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। শুধুই কী তাই? আধুনিক মাল্টিমিডিয়ার সব সুবিধাই তাদের সাইটে রয়েছে এবং দিনকে দিন নতুন নতুন সব যোগ করে চলেছে।

/uploads/files/M5uwo9zBnAhwrCP9ZBNgwvLTwhUq199pzn2tIRLL.jpeg

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহার করছে সাইটে। কোনো নতুন পাঠক সাইটের একটি নিউজ পড়তে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই পপআপ ও হাইপার লিংকে হাজির করে দিচ্ছে তার রুচি-পছন্দ অনুযায়ী আরও নানা খবর। ধীরে ধীরে রিডারের ডাটাবেজও তৈরি করে ফেলছে সে। বিভিন্ন সময় নোটিফিকেশন দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে, এই নিউজটি বোধহয় আপনি মিস করে যাচ্ছেন।

কাউকে আর বলে বোঝাতে হবে না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর প্রভাবের কথা। এগুলো এতো এতো জনপ্রিয় হওয়ার একটাই কারণ, একই সঙ্গে মাল্টিমিডিয়া সুযোগ-সুবিধা এবং ইন্টারেকটিভ অপশন। কার্যকরী ইন্টারেকটিভ অপশন থাকতে হবে, আধুনিক নিউজপোর্টালেও।

প্রচলিত নিউজ রিপোর্টারের ধারণা বদলে দিতে পারে এটি। যে কেউ, যেকোনো জায়গা থেকে নিউজসহ ছবি-ভিডিও পাঠিয়ে দিতে পারে নিউজরুমে। ইতোমধ্যেই ফেসবুকে আমরা এর সফল প্রয়োগ দেখেছি। মিশরে গোটা একটা গণঅন্দোলন তৈরি ও পরিচালিত হয়েছে শুধু ফেসবুক দিয়েই। কাজেই আধুনিক নিউজপোর্টালকে হতে হবে বহু কাজের কাজী অর্থাৎ মাল্টিটাস্কার ও মাল্টিসার্ভিসেস পোর্টাল।

এখনও পুরাতনপন্থী অনেক বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন যাদের এখনও সন্দেহ, অনলাইন মিডিয়ায় অর্থ আসবে তো? তাদের জন্য স্ট্যাটিস্টা পোর্টালের একটি তথ্য, ২০১৭ সালে কেবল ডিজিটাল অ্যাডভার্টাইজে খরচ করা হয়েছে ২২৯.২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। ভাবা যায়!

মাল্টিমিডিয়া সংবাদমাধ্যমের অন্যতম দাবিদার হিসেবে সদ্যই যাত্রা শুরু করলো ‘বার্তা২৪’। বাংলার, বাঙালির সংবাদ সারথি হয়ে এটি কাজ করে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই যাত্রায় সবার সহযোগিতা ও শুভকামনা মিলবে বলে আশা রাখে বার্তা২৪।

 

Author: আলমগীর হোসেন

barta24.com is a digital news outlet

© 2018, Copyrights Barta24.com

Editor in Chief: Alamgir Hossain

Email: [email protected]

[email protected], [email protected]

+880 1707 082 000

8/1 New Eskaton Road, Gausnagar, Dhaka-1000, Bangladesh