মহাসড়কে বরিশাল নগরীর ১২ কি.মি. নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, গাইবান্ধা
বরিশাল নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোড/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বরিশাল নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোড/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য মহাসড়কে নির্মিত হচ্ছে ফোর লেন (চার রাস্তা)। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা থেকে শুরু করে পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২৩৬ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার মহাসড়কে চার লেন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)।

এর মধ্যে প্রায় ১২ কিলোমিটার মহাসড়ক গেছে বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সিঅ্যান্ডবি এলাকার উপর দিয়ে। সিঅ্যান্ডবি মহাসড়কে যদি সড়ক বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী চান লেন নির্মাণ করা হয় তাহলে সড়কের দুই পাশে থাকা ব্যক্তি মালিকানাধীন ছোট-বড় বাসা-বাড়ি, বহুতল ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদরাসা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতর ও জিও-এনজিওসহ কয়েক’শ কার্যালয় ভাঙা পড়বে। এ নিয়ে সিঅ্যান্ডবি এলাকার বসবাসরত শত শত পরিবারের মাঝে ক্ষোভ আর হতাশা বিরাজ করছে।

বরিশাল শহর বাইপাস মহাসড়ক উন্নয়ন বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোক্তা মো: আবু জাফর বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘ফোর লেন সিঅ্যান্ডবি মহাসড়কে নির্মিত না হয়ে নগরীর গড়িয়ারপাড়-কুদঘাটা-কালিজিরা এলাকার উপর দিয়ে নতুন করে বাইপাস সড়কে ফোর লেন নির্মাণ করার নগরবাসীর র্দীঘদিনের দাবি।’

তিনি জানান, ‘ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের সবচেয়ে ব্যস্ততম ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ বরিশাল নগরীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ১২ কিলোমিটার সিঅ্যান্ডবি মহাসড়কটি। বর্তমানে নগরীর গড়িয়ারপার থেকে দপদপিয়া সেতু পর্যন্ত সড়কটিতে প্রতিনিয়ত কয়েক হাজার হালকা ও ভাড়ি যানবাহন চলাচল করে। যদি ফোরলেন নির্মিত হয় তাহলে পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে সরাসরি মালবাহী লরি ও কনটেইনারগুলো এ সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করবে। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটবে সড়ক দূর্ঘটনা।

এর প্রতিকারে বরিশাল সিটি মেয়র এবং বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বরিশাল শহর বাইপাস মহাসড়ক উন্নয়ন বাস্তবায়ন কমিটির নামে এক সংগঠনের নেতারা।

এ বিষযে বরিশাল সড়ক ও জনপদের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক সুশীল কুমার সাহা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘সিঅ্যান্ডবি মহাসড়কে ফোর লেন নির্মাণ না করার জন্য অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। কিন্তু নগরী এড়িয়ে বিকল্প চার লেনের বাইপাস নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম কে বলেন, 'ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ' প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন হয়েছে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত করতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১৫০ ফুট প্রশস্ত জমি।’

তিনি জানান, সওজের উচ্চ পর্যায়ের সার্ভে বিভাগ মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণে বর্তমান জমির সঙ্গে প্রয়োজনীয় আরও ৩০২ একর জমি অধিগ্রহণের নকশা চূড়ান্ত করেছে। আর বরিশাল জেলার অংশে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে ৯০ দশমিক ৫৮ একর জমি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বরিশাল নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডের দুই পাশে ২০ ফুট করে মোট ৩০২ দশমিক ৭০ একর জমি অধিগ্রহণ করবে সরকার। গত জুনে জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন হয়ে গেছে। জমি অধিগ্রহণে জন্য এক হাজার ৮৬৭ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। প্রথম দফায় জমি অধিগ্রহণের জন্য ৪৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এখন সড়ক বিভাগ থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করবে সংশ্লিষ্ঠ জেলা প্রশাসক।

আপনার মতামত লিখুন :