গাবতলীর হাটে বেচাকেনায় হতাশ গরু ব্যাপারীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
অলস সময় পার করছেন ব্যাপারীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

অলস সময় পার করছেন ব্যাপারীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গাবতলী গরুর হাট থেকে: বিদায়ের সুর বেজে উঠেছে চারদিকে। চারদিকেই ভাঙনের আয়োজন। গরু আটকানোর খুঁটিগুলো তুলতে শুরু করেছে কেউ কেউ। ক্রেতাদের আনাগোনাও কমে যাওয়ায় অলস সময় কাটছে অনেক গরুর ব্যাপারী ও বিক্রেতাদের। গরুর পেছনে খরচের হিসেব মেলাতেই ব্যস্ত তারা।

রোববার (১২ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ঢাকার সবচেয়ে বড় গবাদি পশুর হাট গাবতলী বালুঘাট ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।

বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটের অর্ধেক জায়গা ছিল ফাঁকা। ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা থাকায় সেগুলো দ্রুত বিক্রিও হচ্ছিল। কিন্তু বড় গরুগুলোকে নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল কম।

বিকেলের দিকে ব্যাপারীরা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। তবে বড় সাইজের গরু বিক্রি হচ্ছে না। এ সব গরুর দাম বললে তা শুনেই সরে পড়ছেন ক্রেতারা।'

হাটের বড় গরু গুলোর মধ্যে- যুবরাজ, বাদশা, রাজাবাবু, টাইগার, বীর বাহাদুর, কালো হাতি, ব্ল্যাক ডায়মন্ড এখনো বিক্রি হয়নি। এসব গরুর ব্যাপারীদের আশা ছিল, হয়ত আসরের নামাযের পর ভাগ্য লক্ষ্মী ফিরে তাকাবে তাদের দিকে। কিন্তু সে আশাতেও হয়েছে গুঁড়েবালি।'

গাবতলীর হাটে বেচাকেনায় হতাশ গরু ব্যাপারীরা

আসরের পর থেকে হাটে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে গেলেও সেটা ছিল সাময়িক। ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাই ব্যাপারীরা প্যান্ডেলের বাইরে থেকে গরু বের করে বেড়িবাঁধ সড়কের উপর গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তখন বেশ কিছু গরুকে বিক্রি হতে দেখা যায়।

সন্ধ্যার দিকে দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের গরু ৭০/৮৫ হাজার টাকায়, তিন সাড়ে তিন মণ ওজনের গরু এক লাখ ১০ থেকে এক লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ মাঝারি ওজনের এসব গরুর দাম গতদিনের চেয়ে প্রকারভেদে ১৫-৩০ হাজার টাকা কম ছিল আজকে।

গরুর বাজারের মন্দাভাবে হতাশ গরু ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, 'গরু পুষে আর লাভ হয় না'।

গাবতলীর হাটে বেচাকেনায় হতাশ গরু ব্যাপারীরা

কুষ্টিয়া থেকে সাতটি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন ইদ্রিস রহমান। তার সাতটি গরু বিক্রি হলেও মুখে হাসি ছিল না। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'সবগুলো গরু বিক্রি করে শুধু ক্যাশ টিকছে। এইভাবে দাম পড়লে ব্যবসা হয় না'।

আরেক ব্যবসায়ী কালু মিঞা জানান, ৮৬ হাজার টাকা দিয়ে আজ একটা গরু বেচছি তাতে লস গেছে ৪৫ হাজার টাকা।

তার মতে, সে গরুটার বাড়িতেই দাম উঠেছিল এক লাখ ১০ হাজার টাকা, গাবতলীতে গরু আনতে খরচ আট হাজার, চারদিন রাখতে খরচ সাত, আবার খাওয়া খরচ রয়েছে ৪/৫ হাজার, এভাবে সব মিলিয়ে তার লস ৪৫ হাজার।

হাট ঘুরে দেখা যায়, যেসব ব্যাপারী অতিরিক্ত লাভের আশায় গরু বাড়িতে কিংবা ফার্মে বিক্রি না করে ঢাকার গাবতলী হাটে নিয়ে এসেছেন মূলত তাদের লসের হার বেশি। শেষ মুহুর্তে দাম পাওয়ার আশায় গরু বিক্রি না করায় এখন ক্রেতা মিলছে না তাদের। যাও পাওয়া যাচ্ছে তারা অর্ধেক দামও বলছেন না।

গাবতলী গরুর হাটের হাসিল ঘরের ক্যাশিয়ার মোস্তফা কামাল শাহীন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'হাটে পর্যাপ্ত গরু ও ক্রেতা আসছে। বেচাকেনাও ভালো হয়েছে। তবে যে গরু ব্যাপারীরা দাম ছাড়েনি, তাদের গরু অবিক্রিত রয়ে গেছে।'

আপনার মতামত লিখুন :