Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

এতিম-গরিবের হক মেরে দিলো চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

এতিম-গরিবের হক মেরে দিলো চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট
সড়কেই পড়ে আছে কোরবানির পশুর চামড়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

কোরবানিতে জবাই করা পশুর চামড়া বিক্রির টাকা মূলত এতিম, গরিব ও মিসকিনদের হক। সরকার নির্ধারিত দামে এবারে ঈদে যে গরুর চামড়া এক হাজার টাকা বিক্রি হওয়ার কথা, সেই চামড়া রাজধানী ঢাকায় বিক্রি হয় ২০০-৩০০ টাকায়। ভাল মানের যে চামড়া ১২০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা ছিল, তা বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা দরে।

শুধু তাই নয়, খোদ রাজধানীর কোনো কোনো জায়গায় ফোন করে অনুরোধ করার পর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা নামকা-ওয়াস্তে কিছু টাকা দিয়ে চামড়া নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর চামড়া প্রতি ৬০০-৭০০ টাকা নাই হয়ে গেলো গরিবদের। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা দরেও। আর তাতে ঠকানো হলে এতিম, গরিব ও মিসকিনদের।

অথচ চামড়ার দাম কমাবেন না বলে আশ্বাস দিয়ে কম দামে লবণ কেনার পাশাপাশি কম সুদে ব্যাংক থেকে ৬০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার পর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সস্তায় চামড়া কিনছেন ব্যবসায়ীরা। পোস্তা ও ট্যানারি মালিকরা মিলে এই সিন্ডিকেট তৈরি করেছে বলে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।

মহাখালী হোসানিয়ার মাদরাসার শিক্ষক আওলাদ হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'এই এলাকার মানুষ কোরবানির চামড়া মাদরাসার ফান্ডে দেন। চামড়ার বিক্রির এই টাকায় এতিম ও দরিদ্র শিশুদের পড়াশুনা ও খাবারের খাতে খরচ করা হয়।'

এতিম-গরিবের হক মেরে দিলো চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

তিনি বলেন, 'প্রতিবছর চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে অন্তত চার মাস এতিমদের বরণ পোষণ করা হয়। কিন্তু এবার চামড়া সংগ্রহের জন্য যে টাকা খরচ হয়েছে। তাও মেটেনি। ব্যবসায়ীরা এতিম,গরিবদের হক মেরে খেল। তার জবাব দিতে হবে একদিন।'

মহাখালীর আরেকটি শাকেরীয়ার (এতিম মাদরাসা ও মসজিদ) কমিটির সদস্য তারেকুজ্জামান বলেন, 'কোরবানির চামড়ার হকদার এতিম, গরিব ও মিসকিনরা। এবার চামড়া মালিকরা মিলে এতিমদের হক মেরে দিলো।'

রাজধানীর এতিম খানা, মসজিদ ও মাদরাসাগুলোর চামড়ার দাম কিছু পেলেও ঢাকার বাইরে প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুই পায়নি। ফলে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া রাস্তা ও ডাস্টবিনে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুতে ফেলেছে সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে ঈদের দ্বিতীয় দিনে পোস্তায় গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা কাঁচা চামড়া পোস্তায় সড়কে নষ্ট হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে না বলে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ফেলে রেখে গেছেন।

নরসিংদী থেকে ১৮৪টি চামড়া নিয়ে আসা হাসান মিয়া বলেন, 'ভালো দামের আশায় পোস্তায় চামড়া নিয়ে এসেছি। এখানে কেউ জিজ্ঞাসাও করছে না। তাই নিয়ে যাচ্ছি।'

এতিম-গরিবের হক মেরে দিলো চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

আড়তদাররা বলেন, 'আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম হওয়ার পাশাপাশি লবণযুক্ত চামড়া না হওয়ায় কিনছি না। কারণ চামড়াগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।'

এবার শুধু রাজধানীতে ৮৫ লাখ পশু কোরবানি করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র এক লাখ পিস গরুর চামড়া কিনেছেন পোস্তার আড়তদাররা। তাদের চামড়া কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত লাখ পিস। বাকি চামড়াগুলো নষ্ট হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'চামড়ার বাজার অস্থিতিশীল করছে পোস্তার ব্যবসায়ীরা। কাঁচা চামড়ার বাজারটা তারাই নিয়ন্ত্রণ করে, সেখানে আমাদের কোনো হাত নেই। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যখন পোস্তায় চামড়া বিক্রি করতে যান, তখন তারা সেটি ৩০০ কিংবা তার চেয়ে কিছু বেশি টাকা দিয়ে কেনেন। কিন্তু আমাদের কাছে বিক্রির সময় তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করেন। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু পোস্তার ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত হবার বিষয়টি সঠিক নয়। এখানে সিন্ডিকেটও কাজ করে।'

তিনি বলেন, 'মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেক সময় না বুঝে কম দামে চামড়া বিক্রি করে দেন। কিন্তু তারা যদি ট্যানারিগুলো যখন চামড়া কিনে, তখন বিক্রি করে তাহলে কিন্তু তাদের কোনো লোকসান হবে না।'

প্রসঙ্গত, সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী ঢাকায় কোরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুটের চামড়া লবণ দেওয়ার পরে ৯০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে চামড়া বেচাকেনা হচ্ছে আরও কম দামে।

আরও পড়ুন: চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেট কারা!

আরও পড়ুন: কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

আরও পড়ুন: চামড়ায় নিঃস্ব ফড়িয়ারা, লাভবান আড়তদাররা

আপনার মতামত লিখুন :

মওদুদরা এ যুগের শয়তান: রাজ্জাক

মওদুদরা এ যুগের শয়তান: রাজ্জাক
সচিবালয়ে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সহ তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের এ যুগের শয়তান হিসেবে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক।

রোববার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ককালে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুর রজ্জাক বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ যখন আইনমন্ত্রী ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেননি। পরে আইন করে বিচার বন্ধ করেছিলেন। সেই আইন বাতিল করা হয়েছে, তারপরও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। তারা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন, বঙ্গবন্ধুর আলোতে আলোকিত ছিলেন। জাতীয় পার্টি করেছেন, যখন এরশাদ এসেছেন। একনায়ক এরশাদ চলে যাওয়ার পরে গণতন্ত্রের লেবাস পড়ে বিএনপিতে চলে গিয়েছিলেন।’

মাওদুদকে এদেশের ‘ইভিল জিনিয়াস' উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এই শয়তানদের জন্য দেশটা পিছিয়ে গেছে। যে আদর্শে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেটি অব্যাহত থাকলে দেশ এগিয়ে যেত, সেজন্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতে হবে তা নয়। সকল মানুষের জন্য ন্যায়ভিত্তিক সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ফিলিপাইনে চালের দাম বেশি ছিল। তারা চাল আমদানি করেছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। ফলে সেখানে চা্ররের দাম কমে গেছে। এখন সে দেশের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চাল রপ্তানি করবে। আমনা চাল রপ্তানি করলে কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সে জন্য সেদিকে নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বন্যায় যেখানে বাধ আছে সেখানে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের বাজেট ১২০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কৃষির জন্য টাকার কোন অভাব হবে না। আর বেশি টাকা লাগলেও দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বন্যা বাংলাদেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে, আবার ক্ষতি করে। আগে ফসল ছিল বৃষ্টি নির্ভর। সবমিলিয়ে যে বৃষ্টি হয়ে তা নিয়েই মাদের পানির স্তর যথেষ্ট।

ঈদযাত্রায় কিছুটা সমস্যা হলেও মানুষ অভ্যস্ত: কৃষিমন্ত্রী

ঈদযাত্রায় কিছুটা সমস্যা হলেও মানুষ অভ্যস্ত: কৃষিমন্ত্রী
সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে ঈদযাত্রায় কিছুটা সমস্যা হলেও সাধারণ মানুষ এর সঙ্গে অভ্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

রোববার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ককালে তিনি এ মন্তব্য কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, 'ঈদ যাত্রায় সারাদেশে যাতায়াতে কিছু সমস্যা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এর সঙ্গে অভ্যস্ত। তারা এটি মোকাবিলা করে। এর ফলে তাদের আনন্দে ঘাটতি থাকে না। নানা সমস্যার মধ্যেই কাজ করতে হয়।'

তিনি বলেন, 'কলকাতায় উৎসবে বস্তির মানুষও আতশবাজি করে। কিন্তু এতে কি তাদের জীবন যাত্রার পরিবর্তন হবে? তারপরও তারা আনন্দ করছে। এই জন্যই বলা হয় সিটি অব জয়। এভাবেই মানুষ সমস্যার মোকাবিলা করে।'

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষ সবকিছুর মধ্যেই আনন্দ করে। ঈদে যাতায়াতে টাঙ্গাইলে ১০ ঘণ্টা লেগেছে যেতে। অনেকেই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু আশা করি সবারই ঈদ ভালো হয়েছে।'

ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'জিয়াউর রহমান সরাসরি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি অনেককে উসকে দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ৭৫-এ যে লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল, তা পূরণের জন্য সেই সরকার কাজ করেছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের অনেকে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন। মানবতার কথা বলে তারা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'একটি ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়ছিল। এটি ছিল একটি প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার যে চেতনা, সেটি ধ্বংস করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কে সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের উৎস ছিল।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র