Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

কাঁচা চামড়ার বাজারে কেন এই দুর্দশা!

কাঁচা চামড়ার বাজারে কেন এই দুর্দশা!
পড়ে আছে চামড়া, হচ্ছে না বিক্রি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মনি আচার্য্য
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বাজারে ২০১৪-১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে কাঁচা চামড়ার দাম। তবে গেল কোরবানির ঈদে কাঁচা চামড়ার দাম বেশি মন্দা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তবে ঠিক কী কারণে কাঁচা চামড়ার দাম নিম্নমুখী- তার স্পষ্ট কোনো জবাব জানা নেই ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের। উভয়ই একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন।

মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচা চামড়ার দামের বিষয়টি নির্ভর করে ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ওপর। গত কয়েক বছর ধরে তারা কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে বাজার থেকে অল্প দামে চামড়া কিনছেন। আর ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে নিজেদের অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি বার বার অজুহাত হিসেবে দেখাচ্ছেন আড়তদাররা।

হবিগঞ্জ থেকে রাজধানীর পোস্তায় আসা মৌসুমি চামড়ার ব্যবসায়ী মো. জিল্লুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আগে চামড়ার ব্যবসা এমন ছিল না। চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবার কম বেশি লাভ হত। কিন্তু এখন ট্যানারি মালিক ও আড়তদাররা ছাড়া কারও পকেটে মুনাফার টাকা যায় না।'

কুমিল্লার হোমনা থেকে আগত মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল জানান, আগে গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহের করে পোস্তায় বিক্রি করলে ভালো টাকা মুনাফা হত। কিন্তু গত দুই বছর ধরে আর মুনাফার মুখ দেখা যায় না। দিন দিন ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে কাঁচা চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্যানারি ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমাচ্ছেন। সাত লাখ পিস কাঁচা চামড়া কেনার কথা বলে ট্যানারি মালিকরা কিনেছেন মাত্র এক লাখ পিস।

কাঁচা চামড়ার বাজারে কেন এই দুর্দশা!

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'চামড়ার বাজারে কোনো সিন্ডিকেট হয় না। মূল সমস্যা হচ্ছে ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা টাকা নিয়ে। আমরা একেবারেই চামড়া কিনছি না, বিষয়টি তেমন নয়। কিন্তু আমরা যে পরিমাণ কিনতে চাচ্ছি, তা পুঁজির অভাবে পারছি না। সবার কাছে টাকা থাকলে বাজারে প্রতিযোগিতা থাকত, ফলে চামড়ার দামও বাড়ত।'

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ এ বছর চামড়া সংগ্রহে ট্যানারি মালিকদের ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

সরকারের কাছ থেকে এতো টাকা ঋণ নিয়েও আড়তদারদের টাকা কেন বকেয়া থাকে- এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক সাখাওয়াত উল্লাহ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আড়তদাররা আমাদের কাছে যে পরিমাণ টাকা পায় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা সত্য নয়। তারা ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ঠকানোর জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আর সরকার যে টাকা ঋণ দিয়েছে তার থেকে গত বছরের ঋণের টাকা পরিশোধ করে আমরা পেয়েছি মাত্র ১০০ কোটি টাকা। এছাড়া ইতোমধ্যেই সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের বিষয়ে সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি আমরা। আমাদের এতো সমস্যা থাকার পরেও আড়তদারদের কম টাকা দিচ্ছি না। কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে আমরা চামড়া কিনছি।'

ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্যানারি ও আড়তদাররা নানা বাহানা করে ঠিকই মুনাফা করছেন। কিন্তু নিজেদের ধন্ধের বিষয়টি দেখিয়ে দুই পক্ষই সিন্ডিকেট করে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ঠকাচ্ছে।

আরও পড়ুন: এতিম-গরিবের হক মেরে দিলো চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

আরও পড়ুন: চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেট কারা!

আরও পড়ুন: চামড়ায় নিঃস্ব ফড়িয়ারা, লাভবান আড়তদাররা

আপনার মতামত লিখুন :

চিড়িয়াখানায় শৃঙ্খলা ফিরলেও আইন না থাকায় নানা জটিলতা

চিড়িয়াখানায় শৃঙ্খলা ফিরলেও আইন না থাকায় নানা জটিলতা
জাতীয় চিড়িয়াখানা/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

আগের তুলনায় অনেকটা শৃঙ্খলায় ফিরেছে ঢাকার চিড়িয়াখানা। এক বছর আগেও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত থাকা চিড়িয়াখানা এখন অনেকটাই শৃঙ্খল। সুন্দর পরিবেশ আর খাঁচায় বন্দি প্রাণি নিয়ে এক প্রাণবন্ত বিনোদন কেন্দ্র। তবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ জনবল কম থাকায় রোগে আক্রান্ত প্রাণিদের চিকিৎসায় হিশশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এছাড়া চিড়িয়াখানা আইন না থাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াজার (ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব জু এন্ড অ্যাকুরিয়ামস) সদস্য হতে পারছে না চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ, ফলে বিদেশ থেকে প্রাণি আনাসহ মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানা জটিলতার।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, শুরুর দিকে চিড়িয়াখানার অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কারণে ওয়াজার সদস্য হতে পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু পরে সে সমস্যা কাটিয়ে সদস্য পদের জন্য আবেদন করা হলেও চিড়িয়াখানা অ্যাক্ট না থাকায় সদস্য পদ দেওয়া হয়নি। শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে চিড়িয়াখানা অ্যাক্ট করার। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো এই সংস্থার সদস্য। আর সংস্থার সদস্য না হওয়ায় বৈধপথে পশু-পাখি আনতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সদস্যপদ না পাওয়ায় সংস্থাটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে না ঢাকা চিড়িয়াখানার কোন কর্মকর্তাকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566707816410.jpg

আর চিড়িয়াখানায় আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়া প্রাণিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। যেগুলো খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকে সেগুলোকে অভ্যন্তরীণ হাসপাতালে রাখা হয়। কিন্তু অন্যান্য দেশে 'নো পেইন' ইনজেকশন দিয়ে বার্ধক্যগ্রস্ত প্রাণিদের মেরে ফেলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে চিড়িয়াখানা অ্যাক্ট না থাকায় এ ধরনের কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে শেষ পর্যন্ত আবদ্ধ খাঁচায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয় প্রাণিদের।

ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত এ চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৩৭ প্রজাতির ২ হাজার ৭৮৪টি প্রাণি রয়েছে। এরমধ্যে ১৯ প্রজাতির ৩৫৮টি বৃহৎপ্রাণি (তৃণভোজী), ১১ প্রজাতির ৩৫টি মাংসাশী, ১৫ প্রজাতির ১৬৭টি ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণি, ৫৭ প্রজাতির ১ হাজার ১১৯টি পাখি, ৯ প্রজাতির ৬২টি সরিসৃপ প্রাণি ও ২৬ প্রজাতির ৯৭১টি মাছ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, চিড়িয়াখানার প্রাণি ও পাখির জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটাই অপ্রতুল। পাঁচজন প্রশিক্ষিত ডাক্তার দিয়ে চলছে চিড়িয়াখানার চিকিৎসার কাজ। তবে নেই দক্ষ স্টাফ। চিড়িয়াখানার ভেটেনারি হাসপাতালটি একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল। উপজেলা পর্যায়ের পশুর হাসপাতালে যেসব চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেখানে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এখানে প্রাণিদের চিকিৎসা পদ্ধতি কিছুটা জটিল। অনেক পশুকেই পাইপ দিয়ে ইনজেকশন দেওয়া হয়। ফলে এ বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু চিড়িয়াখানার ভেটেনারি হাসপাতালে থাকা একজন অভিজ্ঞ কম্পাউন্ডার অবসরে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566707842303.jpg

চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা গেছে, ১৯৭৪ সালে পুরনো আদলে সাজানো চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের চলাচলের রাস্তা এখন অনেকটাই পরিচ্ছন্ন। প্রায় সব প্রাণির খাঁচার বাইরে নির্দেশিকা বোর্ড রয়েছে। নির্দেশিকা বোর্ডে ওই প্রাণি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ রয়েছে। আর বাইরে হকারদের দৌরাত্ম্য কমলেও ভেতরে হকারদের সরব উপস্থিতি রয়েছে।

চিড়িয়াখানার পরিবেশ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মো: নূরুল ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, চিড়িয়াখানার পরিবেশ আমরা দিন দিন ভালো করার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে খাঁচাগুলো মেরামত করা হয়েছে। সড়ক যেটা সমস্যা ছিল সেটা পিচ ঢালাই করা হয়েছে, বাকি কাজও আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করব। চিড়িয়াখানা এখন আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। আধুনিকায়ন হয়ে গেলে এর অনেক পরিবর্তন আসবে।

এদিকে চিড়িয়াখানায় বর্তমানে দশটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহ করছে। বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে খাবার বুঝে নেওয়ার জন্য আট সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। তারা খাবার পরীক্ষা নীরিক্ষা করে, ওজন নিশ্চিত হয়ে তা সংগ্রহ করকরে থাকেন। কোন গরু জবাই করে প্রাণিদের খাদ্যের যোগান দেওয়ার আগে সেই গরুটি খাদ্যের উপযুক্ত কিনা সেটিও পরীক্ষা করে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566707907738.jpg

এ বিষয়ে প্রাণি পুষ্টি শাখার কর্মকর্তা সঞ্জিব কুমার বিশ্বাস বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা প্রতিদিন ৪০টি আইটেমের খাবার সরবরাহ করি।এ জন্য আমাদের একটি কমিটি আছে, তারা খাদ্যের মান যাচাই করে তা সরবরাহ করেন। মাংসাশী প্রাণিদের রোববার ছাড়া প্রতিদিন গরুর মাংস দেওয়া হয়। শুধু রোববার প্রাণিদের হান্টিং ক্যাপাসিটি রাখার জন্য বয়লার মুরগি দেওয়া হয়।

চিড়িয়াখানায় আগত অনেক দর্শনার্থীর অভিযোগ, দিনে দিনে প্রাণিগুলো রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাঘ ও সিংহের অবস্থা খুবই নাজুক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566707976925.jpg

এ বিষয়ে চিড়িয়াখানার তথ্য কর্মকর্তা ডা: মো: ওয়ালিউর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, অনেকেই বলে বাঘ-সিংহ রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আমাদের বাঘ সিংহ লাইফস্টাইল সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। আমাদের বাঘ-সিংহ কৃত্রিম অবস্থায় ১৫ বছর বাঁচে। এখানে যে বাঘ-সিংহ ছিল বা আছে তার কয়েকটির আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া মানেই তারা খাওয়া দাওয়া কম করবে, মুভমেন্ট কম হবে। তাদের স্বাস্থ্য খারাপের দিকে যাবে। বর্তমানে আয়ুষ্কাল পেরিয়ে যাওয়া বাঘ রয়েছে দুইটি আর সিংহ রয়েছে তিনটি।

তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন প্রাণি ভিন্ন ভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। আমাদের চিড়িয়াখানার ভেটেনারি সেকশন থেকে তাদের চিকিৎসা দিয়ে থাকি। তবে দক্ষ জনবল প্রয়োজনীয় সংখ্যক না থাকলেও কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো রয়েছে। পাঁচজন অভিজ্ঞ ডাক্তার এখানে রয়েছেন। দক্ষ স্টাফের অপ্রতুলতা আছে। আমাদের এটি বিশেষায়িত হাসপাতাল। এখানে যারা কাজ করবে তাদের দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। সেজন্য আমাদের দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। আমরা ওয়াজার সদস্য পদের জন্য আবেদন করেছিলাম, চিড়িয়াখানা আইন না থাকায় তারা আমাদের সদস্য পদ দেয়নি।

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে দেশের শত্রুরা দুটি কাজ সুপরিকল্পিতভাবে করেছে। এর একটি হচ্ছে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা সেনা কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো আর অন্যটি জাসদ ও গণবাহিনীর সৃষ্টি। এদের সম্পর্কে অনেক ভালো জেনেছি যখন জেলে ছিলাম।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘৩ নভেম্বর যে অভ্যুত্থান হল তখন কর্নেল তাহের ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদের সবাইকে অ্যারেস্ট করে তারা আবার জেলখানায় চলে এল। জেলে শাফায়াত জামিল আমার সাথে। জেলখানায় তখন প্রথম জানতে পারলাম ৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের মধ্যে একটি বিপ্লবী সেল তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। তখন শুনেছি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী জঘণ্য উক্তি তারা করত।’

পাকিস্তান ফেরত সেনা অফিসারদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সেনা অফিসাররা এসেই এমন একটা বিভেদ সৃষ্টি করে ফেলল। পরবর্তীতে দেখেন, বেছে বেছে মুক্তিবাহিনীর অফিসারদের এরা হত্যা করেছে। মুক্তিবাহিনীর সেনা যারা, তারাই প্রাণ দিয়েছে, এরা কিন্তু কেউ প্রাণ দেয়নি। জেনারেল জিয়াউর রহমান তার কোর্সমেট জেনারেল মোজাম্মেল, জেনারেল আব্দুর রহমান, জেনারেল ওয়াজিমুল্লাহকে ভালো ভালো জায়গায় বসিয়েছে। এমনভাবে পুরো জিনিসটা কুক্ষিগত করে ফেলল আমাদের সেনাবাহিনীকে যে জেনারেল শফিউল্লাহ কিছুই না।’

‘জেনারেল জিয়া তো ওদেরই লোক। এরা সকলে কোর্সমেট। এদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠেছে কর্নেল রশিদ, কর্নেল ফারুক। কর্নেল রশিদের তো ঢাকায় পোস্টিং ছিল না, তার তো আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন নিয়ে কুমিল্লায় থাকার কথা, ফারুকের ট্যাঙ্ক বাহিনী নিয়ে থাকার কথা বগুড়া অথবা সাভারে। এরা যে ঢাকায় এল তাহলে আমাদের সেনাপতিরা, যারা তখন ছিলেন, তারা জানতেন না, এ সমস্ত মুভমেন্ট কী কখনো আর্মি হেডকোয়ার্টাসের অনুমতি কিংবা অনুমোদন ছাড়া হয়? এগুলো তো হয় না। তাহলে আমাদের মধ্যে কীভাবে ঢুকে পড়েছিল এই ষড়যন্ত্রকারীরা। আর মূল ষড়যন্ত্রটি যারা করেছে তারা হল পাকিস্তানিরা।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566671529801.jpg

দেশের সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটের ইতিহাস তুলে ধরে সাবেক এই আমলা বলেন, ‘১৯৬৫ সালের পরে তৎকালীন সিএসপি নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ ভাব তৈরি হয়েছিল। তার পেছনে কারণ ছিল আইয়ুব খান। মার্শাল ল চালুর পরে উনি দেখলেন সবকিছু চালায় সিএসপিরা। তিনি তখন ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য কমিটি করলেন। সিভিল সার্ভিসের ক্ষমতা কীভাবে খর্ব করা যায় সে ব্যবস্থা কমিটি পাকাপোক্ত করল। সেই থেকে সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়ন কিংবা তাদের ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হলো।’

‘আইয়ুব খানের আরেকজন প্রতীকী ইয়াহিয়া খান। আর আমাদের দেশে এসে হলেন জিয়াউর রহমান খান। আমি জিয়াউর রহমান খানই বলব। কারণ তিনি কিন্তু ওই লাইনেরই এবং তারপরে এরশাদ খান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই খানেরা আমাদের ক্রমান্বয়ে যে কী পরিমাণে ক্ষতি করে গেছেন, অথচ সে জিনিসটি থেকে বঙ্গবন্ধু এসে সেই রাষ্ট্রটিতে তিনি আবার খুঁজে খুঁজে সিভিল সার্ভিসের লোকদের নিয়ে এসেছেন। শুধু সিভিল সার্ভিস নয়, উনি প্রথম সরকারে ল্যাটারাল এন্ট্রি অর্থাৎ সরকারের বাইরে কোথায় কোনো প্রতিভা আছে, যিনি সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবেন, সেটা চালু করেন।’

বাকশালের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বাকশালের গঠনতন্ত্র কেউ দেখেনি। বাকশালের উদ্দেশ্য কী ছিল এটি সম্পর্কে কেউ জানে না। বঙ্গবন্ধু এভাবে জনগণের কাছে ক্ষমতা নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ভিত্তিমূলে, তৃণমূলে। যে জন্য ৬৪টি মহকুমাকে তিনি জেলায় পরিণত করলেন। প্রতিটা জেলায় গভর্নর নিয়োগ করলেন এবং তাদেরকে ক্ষমতায়ন করে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব ড.কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। স্বাগত সংগঠনের মহাসচিব শেখ ইউসুফ হারুন প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র