কাঁচা চামড়ার বাজারে কেন এই দুর্দশা!

মনি আচার্য্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
পড়ে আছে চামড়া, হচ্ছে না বিক্রি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পড়ে আছে চামড়া, হচ্ছে না বিক্রি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বাজারে ২০১৪-১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে কাঁচা চামড়ার দাম। তবে গেল কোরবানির ঈদে কাঁচা চামড়ার দাম বেশি মন্দা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তবে ঠিক কী কারণে কাঁচা চামড়ার দাম নিম্নমুখী- তার স্পষ্ট কোনো জবাব জানা নেই ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের। উভয়ই একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন।

মৌসুমি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচা চামড়ার দামের বিষয়টি নির্ভর করে ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ওপর। গত কয়েক বছর ধরে তারা কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে বাজার থেকে অল্প দামে চামড়া কিনছেন। আর ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে নিজেদের অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি বার বার অজুহাত হিসেবে দেখাচ্ছেন আড়তদাররা।

হবিগঞ্জ থেকে রাজধানীর পোস্তায় আসা মৌসুমি চামড়ার ব্যবসায়ী মো. জিল্লুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আগে চামড়ার ব্যবসা এমন ছিল না। চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবার কম বেশি লাভ হত। কিন্তু এখন ট্যানারি মালিক ও আড়তদাররা ছাড়া কারও পকেটে মুনাফার টাকা যায় না।'

কুমিল্লার হোমনা থেকে আগত মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল জানান, আগে গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহের করে পোস্তায় বিক্রি করলে ভালো টাকা মুনাফা হত। কিন্তু গত দুই বছর ধরে আর মুনাফার মুখ দেখা যায় না। দিন দিন ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে কাঁচা চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্যানারি ও আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমাচ্ছেন। সাত লাখ পিস কাঁচা চামড়া কেনার কথা বলে ট্যানারি মালিকরা কিনেছেন মাত্র এক লাখ পিস।

কাঁচা চামড়ার বাজারে কেন এই দুর্দশা!

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'চামড়ার বাজারে কোনো সিন্ডিকেট হয় না। মূল সমস্যা হচ্ছে ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা টাকা নিয়ে। আমরা একেবারেই চামড়া কিনছি না, বিষয়টি তেমন নয়। কিন্তু আমরা যে পরিমাণ কিনতে চাচ্ছি, তা পুঁজির অভাবে পারছি না। সবার কাছে টাকা থাকলে বাজারে প্রতিযোগিতা থাকত, ফলে চামড়ার দামও বাড়ত।'

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ এ বছর চামড়া সংগ্রহে ট্যানারি মালিকদের ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

সরকারের কাছ থেকে এতো টাকা ঋণ নিয়েও আড়তদারদের টাকা কেন বকেয়া থাকে- এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক সাখাওয়াত উল্লাহ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আড়তদাররা আমাদের কাছে যে পরিমাণ টাকা পায় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা সত্য নয়। তারা ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ঠকানোর জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আর সরকার যে টাকা ঋণ দিয়েছে তার থেকে গত বছরের ঋণের টাকা পরিশোধ করে আমরা পেয়েছি মাত্র ১০০ কোটি টাকা। এছাড়া ইতোমধ্যেই সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের বিষয়ে সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি আমরা। আমাদের এতো সমস্যা থাকার পরেও আড়তদারদের কম টাকা দিচ্ছি না। কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে আমরা চামড়া কিনছি।'

ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্যানারি ও আড়তদাররা নানা বাহানা করে ঠিকই মুনাফা করছেন। কিন্তু নিজেদের ধন্ধের বিষয়টি দেখিয়ে দুই পক্ষই সিন্ডিকেট করে ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ঠকাচ্ছে।

আরও পড়ুন: এতিম-গরিবের হক মেরে দিলো চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট

আরও পড়ুন: চামড়ার বাজারে সিন্ডিকেট কারা!

আরও পড়ুন: চামড়ায় নিঃস্ব ফড়িয়ারা, লাভবান আড়তদাররা

আপনার মতামত লিখুন :