৭ বছর পর পরিবারের কাছে পাচার হওয়া খাদিজা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজশাহী
এনজিও কর্মী ও পরিবারের সাথে খাদিজা খাতুন (বাম থেকে দ্বিতীয়)/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

এনজিও কর্মী ও পরিবারের সাথে খাদিজা খাতুন (বাম থেকে দ্বিতীয়)/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

২০১২ সালে প্রতিবেশী যুবকের মাধ্যমে ভারতে পাচার হয়েছিলেন খাদিজা খাতুন (১৯)। দীর্ঘ ছয় বছর তাকে ভারতের মালদহে সরকারি সেফহোমে কাটাতে হয়েছে। গত বছরের ১৯ এপ্রিল কোনো একটি মাধ্যমে চাঁপাইনাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজশাহীর মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’র শেল্টার হোমে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।

সেই থেকে খাদিজা দীর্ঘ এক বছর চার মাস ধরে এসিডি’র শেল্টার হোমে থাকছিলেন। শনিবার (১৭ আগস্ট) এসিডি’র মাধ্যমেই মা-বাবাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন খাদিজা।

খাদিজা বলেন, ‘দীর্ঘ সাত বছর পর মায়ের মুখখান দেখতে পেয়ে মনে হচ্ছে আকাশের চাঁন হাতে পেয়েছি! কোনো দিন ভাবতেও পারিনি বাবা-মাকে ফিরে পাব! পরিবারকে ফিরে পেয়ে এতো খুশি হয়েছি, যা কাউকেই বোঝাতে পারবো না। যারা আমার পরিবারকে ফিরিয়ে দিলেন, তাদের ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034030022.gif

খাদিজার বাবার নাম আবুল কাশেম ফকির আর মা আনোয়ারা বেগম। মা আনোয়ারা বেগম জানান, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহে। তবে দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকার গুলশান-২ এর নূরের চালা এলাকায় পরিবারকে নিয়ে বসবাস করছিলেন আনোয়ারা। এখনো সেখানেই বসবাস করছেন তারা।

তিনি জানান, ২০১২ সালে খাদিজা যখন নিখোঁজ হন তখন সে মাদরাসায় পড়ত। পড়ালেখার পাশাপাশি পাশের বাসার ধনাঢ্য এক ব্যক্তির সন্তানকে দেখাশোনার কাজ করত খাদিজা। একদিন ঐ বাড়িতে গিয়ে সেখান থেকেই নিখোঁজ হয় খাদিজা। পরে জানতে পারেন, প্রতিবেশী এক লোকের মাধ্যমে তার মেয়ে খাদিজা ভারতে পাচার হয়ে গেছে।

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ আগে এসিডি’র মাধ্যমে হঠাৎ মেয়ের খোঁজ পাই। তখন থেকেই মেয়ের সাথে মোবাইলে কথা কই। বুঝতে পারি এই সেই আমার খাদিজা। অবশেষে গুলশান থেকে মেয়েকে নিতে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হই। শনিবার সকালে এসিডি অফিসে মেয়েকে পেয়ে খুব ভালো লেগেছে। মেয়েকে পেয়ে মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566034048233.gif

এসিডি’র শেল্টার হোম ম্যানেজার পুষ্প রাণী বিশ্বাস বলেন, ‘২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার মাধ্যমে আমাদের শেল্টারহোমে আসে খাদিজা। তারপর থেকে সে শেল্টার হোমেই ছিল।’

তিনি বলেন, ‘সেফহোমে আসার পর থেকেই খাদিজা পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চেয়েছিল। আমরা তার পরিবারের খোঁজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত পরিবারের খোঁজ পেয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার দুপুরে খাদিজাকে মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করেছি।’