ডেঙ্গু আমাকে কাবু করেছে: অর্থমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৭৩ বছরের জীবনে কেবল ডেঙ্গুই তাঁকে কাবু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেছেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর থেকে মুক্তির পর আমি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। বাজেট বক্তৃতায় সাত মিনিট আমি কী পড়েছি, কী বলেছি, তা কিছুই হুঁশ ছিল না।’

রোববার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর আইডিইবিতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদার ও সুলতান মাহমুদ ইকবাল।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে নিজের বয়সের তুলনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভেবেছিলাম আরেফিন সিদ্দিকি সাহেব আমার থেকে বড়। কিন্তু আমি ওনার থেকে বয়সে অনেক বড়। কারণ উনি ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। আর আমি ১৯৬৮ সালে মাস্টার্স শেষ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর আগে দুটি যুদ্ধ রেখে গেছেন। একটি হচ্ছে রক্তাক্ত যুদ্ধ, যার মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই যুদ্ধে ৩০ লাখ নারী-পুরুষ শহীদ হয়েছেন, দুই লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। জীবন দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যসহ জাতীয় চার নেতা।’

‘আর একটি যুদ্ধ তিনি রেখে গেছেন, সেটি হলো সোনালি যুদ্ধ। যারা প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা সেই রক্তের ঋণ শোধ করতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে এক সঙ্গে কাজ করবে’ যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।

১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি সামাজিকভাবে বর্জন করার আহ্বান জানান আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রোগ্রামে জাতীর পিতার থাকার কথা ছিল। আমি সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। শেখ হাসিনাও তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। আমাদের উপাচার্য শেখ হাসিনাকে ১৫ আগস্টের প্রোগ্রামে থাকার জন্য বলেছিলেন।’

‘অন্যদিকে শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া প্রশিক্ষণে জার্মানিতে ছিলেন। তিনি (ওয়াজেদ মিয়া) স্ত্রী-সন্তানকে সঙ্গে রাখার জন্য আলাদা বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। ওয়াজেদ মিয়া বার বার শেখ হাসিনাকে ফোন করছিলেন সেখানে যাওয়ার জন্য। কিন্তু উপাচার্য ১৫ আগস্টের প্রোগ্রাম পর্যন্ত থেকে যাওয়ার কথা বলায় তিনি (শেখ হাসিনা) দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান।’

‘এমন পরিস্থিতিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে বিষয়টি বলেন। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে বলেন- জামাই যা বলে তাই কর। এরপর ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই শেখ হাসিনা জার্মানির উদ্দেশ্যে রওনা হন’ বলেন আরেফিন সিদ্দিক।

আপনার মতামত লিখুন :