বঙ্গবন্ধু হত্যার তিন নম্বর আসামি হতো জিয়া: আইনমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
শোক দিবসের আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ছবি: সুমন শেখ

শোক দিবসের আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ছবি: সুমন শেখ

  • Font increase
  • Font Decrease

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধুকে (শেখ মুজিবুর রহমান) হত্যা করে সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেছেন জিয়াউর রহমান। যখন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়, তাতে পাতায় পাতায় জিয়াউর রহমানের নাম পাওয়া গেছে। তার সৌভাগ্য তখন তিনি জীবিত ছিলেন না। নাহলে এই মামলার তিন নম্বর আসামি হতেন জিয়াউর রহমান। আমি জেনে শুনেই বলছি, তাকে তিন নম্বর আসামি করা হতো।'

বুধবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, বেসামরিক বিমান প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন, উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন, শামসুল হক টুকু, আবু সাঈদ সাগর প্রমুখ।

আইনমন্ত্রী বলেন, 'বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদের ধরতে কমিশন গঠন করা হবে। শেখ হাসিনার কারণেই আজকে আমরা সম্ভাবনার আলো দেখছি। তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যার এফআইআর (প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন) করে দিয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার করিয়েছেন। তিনি বিচার শেষ করেছেন। এরপর তিনি জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার শেষ করেছেন। আর শুরু থেকে শেষ করে রায় কার্যকর করেছেন যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের। এইসব বিচার হয়ে যাওয়ার কারণেই আমাদের সামনে ১৫ আগস্টের কুশীলব, নেপথ্যে যারা তাদেরকে ধরার সাহস হয়েছে। আমরা এই সাহস নিয়েই এগিয়ে যাব।'

বঙ্গবন্ধু হত্যার তিন নম্বর আসামি হতো জিয়া

আনিসুল হক বলেন, 'এই রকম একটা কমিশন হওয়ার এবং তার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো আপনারা অনুধাবন করতে পারবেন। এই কমিশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিপরিষদ। এই কমিশনের শর্তাবলী এবং কে চেয়ারম্যান হবেন, কতজন সদস্যের কমিশন হবে, তার মেয়াদ কত দিন হবে, কী কী করবে? এটা ঠিক করে দিতে হবে।'

তিনি বলেন, 'অনুসন্ধান কমিশন আর এ কমিশন এক না। এটা একটা বিশেষায়িত কমিশন হবে। এই কমিশন ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা ছিলেন তাদেরকে খুঁজে বের করে তাদের কোন বিচারের আওতায় আনা হবে সেই সুপারিশ করবে। একটা কমিশন কিন্তু বিচার করতে পারে না। কমিশন সুপারিশ করতে পারে। সে সুপারিশের আলোকে বিচার হবে।'

আইনমন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি বাংলাদেশ চায়নি। এখনো বাংলাদেশ চায় না। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এটা বিএনপির কাছে চক্ষুশূল। এটা তারা সহ্য করতে পারছে না। বিএনপি কখনো নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে নাই। ক্ষমতায় এসেছে হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে।'

গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, 'একাত্তর, পঁচাত্তর এবং একুশে আগস্টের ঘটনা একই সমীকরণে গাঁথা। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরই কিছু রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তার দাফনের পরও অনেকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে প্রতিভূ বঙ্গবন্ধুকে তারা মেনে নিতে পারেনি। আমি বলি দুইটি শ্রেণি বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত। একটি হলো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আরেকটি প্রতিক্রিয়াশীল। দুই কুকুরের লড়াই যারা বলত, তারা শ্রেণি শত্রু খতমের নামে আমাদের এমপি ও নেতাদের হত্যা করেছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করেছিল। ১৬ ডিসেম্বর তারা নাজাত দিবস পালন করেছিল। সেই ব্যক্তিরাই জিয়ার মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিল এরশাদের মন্ত্রিসভায় ও খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিল।'

তিনি আরও বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর খুনিরা তিনটি সরকারের সময় পুনর্বাসিত হয়েছিল। ইনডেমনিটি বিল পাস করেছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল তাদের জিয়াউর রহমান নগদ ডলার দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত এরশাদ খুনিদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দিয়ে দুটি রাজনৈতিক দল গড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। এরশাদই খুনিদের আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ দিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে খুনিদের সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন মিশনে থাকা খুনিদের পদোন্নতি দিয়েছিলেন। খুনিদের বিচার হলে অপরাধ করে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেত না।'

আপনার মতামত লিখুন :