বরিশালে ৩ মাসে ২৭ ধর্ষণ, ৩১ যৌন হয়রানির মামলা

জহির রায়হান, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, বরিশাল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালে নারীদের যৌন হয়রানি, নিপীড়নসহ ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে। যৌন হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও। বরিশাল পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে ২৭টি ধর্ষণ ও ৩১টি যৌন হয়রানির মামলা হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ধর্ষক যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনার বরাত দিয়ে বরিশাল জেলা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানান, আট বছরের এক শিশুকে (৪ সেপ্টেম্বর) ধর্ষণের চেষ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবামেক) বাবুর্চি মো. হানিফ ওরফে নয়নকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উজিরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে (৫ সেপ্টেম্বর) আনসার কমান্ডার শাহে আলমকে আটক করছে পুলিশ। সহপাঠীর ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রবি) দুই শিক্ষার্থীকে (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বাবুগঞ্জের মাধবপাশা ইউনিয়নে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (২৯ আগস্ট) দুপুরে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বানারীপাড়া উপজেলায় (৬ আগস্ট) রাতে লেগুনার চালক ও হেলপার কর্তৃক ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

বরিশাল নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার জাহিদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আইনজীবীরা ব্যবসার জন্য নারী নির্যাতনসহ যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের মামলাগুলো জিইয়ে রাখে। তবে এসব অপরাধীদের প্রকাশ্যে শাস্তির বিধান চালু করলে অপরাধ প্রতিকার করা সম্ভব। তাই সরকারের পাশাপাশি এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদেরও কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।'

উন্নয়নকর্মী রহিমা সুলতানা কাজল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'বরিশালে এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলছে। যৌন হয়রানি আর ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া, আসামিদের দ্রুত জামিনে লাভ, মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও পর্নো সাইটের কারণেই প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি আর ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপরাধ ঘটছে।'

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুহম্মদ আব্দুল রকিব বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ফলে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলেছে। এছাড়া অন্যান্য পরিস্থিতিতেও নারীরা বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে এসব প্রতিরোধে বরিশাল জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জেলার প্রত্যেক থানাই কমিউনিটি পুলিশিং সভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতন সভা-সেমিনার প্রতিনিয়তই করা হচ্ছে। তবে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :