ময়মনসিংহে ১৫০ অরক্ষিত রেলক্রসিং, দেখার কেউ নেই

উবায়দুল হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে ২০২ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। ঢাকা, নেত্রকোনা, মোহনগঞ্জ, জামালপুর ও ভৈরবের সঙ্গে ওই রেলপথের সংযোগ রয়েছে। আর দীর্ঘ ওই রুটে রয়েছে কমপক্ষে ২ শতাধিক রেলক্রসিং। কিন্তু এর মধ্যে অনুমোদন নেই কমপক্ষে ১৫০ রেলক্রসিংয়ের। সেখানে নেই গেট ব্যারিয়ার বা গেটম্যান। দিনের পর দিন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছে এসব অবৈধ রেলক্রসিং।

ফলে অরক্ষিত এসব রেলক্রসিং কার্যত হয়ে উঠেছে মৃত্যুফাঁদ। ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও হুঁশ ফিরছে না ময়মনসিংহ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। বিষয়টিকে অনেকেই ‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন।

সরকার রেলপথ আধুনিকায়নে মনোযোগী হয়ে উঠলেও কার্যত বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে ময়মনসিংহের রেলপথে। ট্রেনযাত্রা ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। ফলে ময়মনসিংহ রেলওয়ের প্রকৌশলী বিভাগের কর্মযজ্ঞ নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন উঠেছে। তাদের ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ নীতি বদলানোরও জোর দাবি উঠেছে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র দাবি করেছে, ময়মনসিংহের প্রায় দেড় শতাধিক অবৈধ রেলক্রসিং নিজেদের প্রয়োজনে ইচ্ছামাফিক নির্মাণ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) বা ইউনিয়ন পরিষদ।

এসব অবৈধ রেলক্রসিং পারাপারের সময় কোনো যানবাহনের চালক বেপরোয়া হলেই ঘটে যেতে পারে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। এমনকি এসব রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো সতর্কবার্তাও। ফলে কোনো ট্রেন আসার আগে স্থানীয় লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি করে যানবাহনের চালকদের সতর্ক করেন।

এমনই একটি রেলক্রসিং রয়েছে সদর উপজেলার খাগডহর ইউনিয়নের কিসমত তাঁরাগাই এলাকায়। ওই রেলক্রসিং এলাকার বাসিন্দা জুলহাস মিয়া বলেন, ‘ট্রেন আইলে আমরাই চিৎকার কইরা সবাইরে সতর্ক করি। একটা গেইট দিলে কী অনেক খরচা হয়? জীবনের চেয়ে কী গেট ব্যারিয়ারের দাম অনেক বেশি?’

ময়মনসিংহ রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, অবৈধ রেলক্রসিংগুলো যানবাহনের চালকদের নিজ দায়িত্বে পারাপার হতে হয়। ক্রসিং এলাকা পাড়ি দেয়ার সময় আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিতে হয়। যখন কেউ নিয়ম মেনে চলে তখন দুর্ঘটনা ঘটে না।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের অনুমোদন রয়েছে এমন রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০টি। বাকি রেলক্রসিংগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। বিভিন্ন বিভাগ নিজেদের ইচ্ছামতো এসব রেলক্রসিং করেছে। এজন্য এগুলো নিয়ে আমাদের কোনো দায় নেই।’

আপনার মতামত লিখুন :