নির্মাণ করতে ৭ বছর, উদ্বোধনের অপেক্ষায় আরও ৭ বছর

শাহজাহান মোল্লা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
পাইকারি কাঁচাবাজার আমিনবাজার (গাবতলী),  ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পাইকারি কাঁচাবাজার আমিনবাজার (গাবতলী), ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

একটি প্রকল্প শেষ করতে লাগল সাত বছর। শেষ করে পরবর্তী সাত বছরেও উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। অথচ এর পেছনে ব্যয় করা হয়েছে ৩৩০ কোটি টাকা। উদ্বোধনের আগেই ভবনের কাঁচ, সিঁড়ি, মেঝে সব খুলে পড়ছে। আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ঠিক কি কারণে আলোর মুখ দেখছে না তার কোনো সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে।

এমনই একটি অসাড় প্রকল্প হলো পাইকারি কাঁচাবাজার আমিনবাজার (গাবতলী) ব্লক বি-১। রাজধানীর দ্বীপ নগরে অবস্থিত এই কাঁচাবাজার। কিন্তু এ বিষয়টি জানেন না আশপাশের বাসিন্দারা। গাবতলী বেঁড়িবাঁধের পাশেই অবস্থিত কাঁচাবাজারটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি।

এর পেছনে ব্যয় করা হয়েছে ৩৩০ কোটি টাকা

গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম সেখানে যান বেলারুশ থেকে আমদানি করা কিছু যন্ত্রের কার্যকারিতা দেখতে। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

সেখানেই মেয়রের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল মার্কেটটি এখনও উদ্বোধন হলো না কেন? উত্তরে মেয়র বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আমিও জানি না, মন্ত্রী আছে তাকে জিজ্ঞেস করো। এত বড় একটা মার্কেট নির্মাণ করার পর উদ্বোধন হলো না কি কারণে আমি অফিসে যেয়ে জানতে চাইব।'

ফাঁকা মার্কেট এখন বখাটেদের আড্ডাস্থল 

 

কাওরানবাজার হতে কাঁচাবাজার স্থানান্তরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা এরই মধ্যে একটি বৈঠক করেছি। আবারও বসব। তবে আগের চাইতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। কত দিনের মধ্যে সরবে বা আদৌ সরবে কি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি মন্ত্রী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁচাবাজারের দোতলায় ওঠার সিঁড়ির পলেস্তার খসে পড়েছে, বের হয়ে গেছে রড। অন্যদিকে সিঁড়ির পাশে যে গ্লাস দেওয়া হয়েছিল সেগুলো ভেঙে গেছে অনেক আগেই।মার্কেটের বেইজমেন্টে জমে আছে পানি। ভেতরে দুই একটি সাঁটার খোলা দেখা যায়। সেখানেও রয়েছে বখাটেদের আড্ডা। এমনকি বখাটেরা দোকানের ভেতরে মাদক নেওয়ার পর তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ ফেলে রেখে গেছেন।

কথা ছিল রাজধানীর কাওরান বাজারের উপর চাঁপ কমাতে রাজধানীর অদূরে মার্কেট করা হবে। তারই অংশ হিসেবে এই কাঁচাবাজার নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণ করা হলেও এখনও বেহাল দশায় পড়ে আছে। এখানে প্রায় ৪০০টির মতো দোকান রয়েছে। এই বাজারের উত্তর পাশে রয়েছে ডিএনসিসি'র যান্ত্রিক বিভাগ। সেখানে পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্র রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ডিএনসিসি’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের কাছে। তিনি আবার কাঁচাবাজার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। তিনি বলেন, প্রকল্পটি ২০০৭ সালে শুরু হয় শেষ হয় সম্ভাবত ২০১২ বা ১৩ সালে। আমি তখন এই বিভাগের দায়িত্বে ছিলাম না। কেন কি কারণে খুলে দেওয়া হয়নি সেটা জানি না।

আপনার মতামত লিখুন :