আরএমপি'র বিরুদ্ধে জমি দখলের প্রমাণ পেল মন্ত্রণালয় কমিটি

স্টাফ করেসপন্ডেট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, রাজশাহী
জেলা পরিষদের জমিতে নির্মাণাধীন আরএমপি সদর দফতর , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

জেলা পরিষদের জমিতে নির্মাণাধীন আরএমপি সদর দফতর , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদর দফতর নির্মাণে জেলা পরিষদের জমি দখলের প্রমাণ পেয়েছে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কমিটির সদস্যরা রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জেলা পরিষদের ওই জমিতে সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে এর সত্যতা পান।

মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেয়া কমিটির আহ্বায়ক বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম-সচিব শায়লা শারমিন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আজিজ হায়দার ভূঁইয়া জমি মাপার সময় উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই জমি মেপে দেখা যায়, আরএমপির ভবন নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমি দখল করা হয়েছে। সেই জমিতে পাইলিংয়ের কাজও শেষ হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম হাফিজ আক্তার, আরএমপির কমিশনার হুমায়ুন কবীর, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব প্রমুখ।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, 'সবার উপস্থিতিতেই জমি মাপা হয়েছে। জমি দখল করা হয়েছে এটা প্রমানিত হয়েছে। এই জমিতে ভবন নির্মাণ না করার জন্য আমরা বার বার নিষেধ করেছিলাম। এখন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কমিটির সদস্যরা বিষয়টির সত্যতা দেখলেন।' 

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম-সচিব শায়লা শারমিন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘জেলা পরিষদের কিছু জমিতে আরএমপি’র ভবনের পাইলিং করা হয়েছে। জমি মাপার পর এমন অভিযোগের সত্যতা আমার পেয়েছি। তবে যেহেতু আরএমপি ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিং করে ফেলেছে, সেজন্য বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন।’

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান বলেন, 'জমি মাপা হয়েছে। কিছুটা ঝামেলা আছে। তা মীমাংসা করা হবে। তবে এ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলার কিছু নেই। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে ফেলা হবে।’

জানা যায়, নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে ৫ দশমিক ৯৫ একর জমি নিয়েছিল জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। এর মধ্যে জমির পশ্চিম দিক থেকে ১ দশমিক ৩৯ একর আরএমপির কাছে বিক্রি করে জেলা পরিষদ। আর পূর্বের অংশের ডাকবাংলো ভাড়া নিয়ে চলছিল আরএমপি সদর দফতরের কার্যক্রম। কিন্তু পুরো জমিটি দখলে নিয়ে আরএমপির সদর দফতর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।

ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলোটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়ায়। গত ২২ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদ ও আরএমপির জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য ওই কমিটি গঠন হয়।

আপনার মতামত লিখুন :