‘টানা ক্ষমতায় থাকার কারণেই সুফল পাচ্ছে জনগণ’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
নতুন উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নতুন উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

টানা ক্ষমতায় থাকার কারণেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে এবং জনগণ এর সুফল পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানম্নত্রী শেখ হাসিনা ।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) ভিভিআইপি টারমাকে নতুন উড়োজাহাজ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধন শেষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খবর পেয়েছি যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এর কাছে দুইটি বিমান নির্মাণের ওয়ার্ডার দিয়ে নেয়নি। তাই তারা উড়োজাহাজ দুইটি বিক্রি করবে। কাজেই আমরা সেই সুযোগটা নেব। আমাদের রিজার্ভ মানি যথেষ্ট ভালো অবস্থায় আছে। আমাদের যে রিজার্ভ মানি আছে, তাতে আমার মনে হয় নিজেদের টাকায় প্লেন দুইটি কিনতে পারব, কোনো সমস্যা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিজার্ভ হিসাব করি আমরা এই কারণে যে, সব সময় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে বা কোনো দুর্বিপাক দেখা দিলে আমাদের যদি খাদ্য কিনতে হয়, তাহলে যেন তিন মাসের খাদ্য আমরা কিনতে পারি সেই পরিমাণ অর্থ আমার জমা থাকতে হবে। এর অতিরিক্ত রেখে দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সেটি আমি উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারি। সে দিক থেকে আমরা খুব ভালো একটা অবস্থানে আছি। এখানে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তাছাড়া খাদ্য উৎপাদনে আমরা সয়ংসম্পূর্ণ। কাজেই খুব একটা যে আমরা বিপদে পড়ব তা নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য আমাদের যে পরিমাণ খাদ্যশস্য রাখা দরকার সে পরিমাণ আমরা মজুদ রেখেছি। কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা করে রেখেছি।

বিমান বাংলাদেশের পূর্বের ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, বিমানের যে অবস্থা ছিল সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা যখন বাইরে যেতাম বা বিশেষ করে লন্ডনে বা আমেরিকায় যাওয়া হতো তখন বিমান ব্যবহার করতাম। তখন বিমানের যে ঝরঝরে অবস্থা ছিল, আগে প্লেনে উঠলে পানি পড়ত, টিস্যু দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করা হতো, কোনো এন্টারটেইমেন্টের ব্যবস্থাই ছিল না। মাঝে মাঝে আমি ককপিটে যেতাম, কথা বলতাম। কারণ আমি ভাবতাম এরকম একটা ঝরঝরে অবস্থায় প্লেন কীভাবে আমাদের পাইলটরা চালায়। আমি বলতাম যে, আমাদের পাইলটদের বিশ্বসেরা পাইলট হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দেয়া উচিত এই ধরনের  প্লেন চালানোর জন্য। মাঝে মাঝে আমরা ঠাট্টা করতাম, আমাদের ঢাকা শহরে এক সময় যে বাসগুলো চলতো সেগুলো খুবই বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিল। সেগুলোকে আমরা ডাকতাম মুড়ির টিন বলে। এরকম একটা অবস্থা ছিল আমাদের বিমানে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অবস্থান থেকে উত্তোরণ ঘটানোর জন্য যখনই আমরা ক্ষমতায় এসেছি, আমরা প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আজকে বাংলাদেশ একটা উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি অর্জন অনেক বেশি। অনেক দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। এবং ইতিমধ্যেই আমাদের দশটি প্লেন চলে এসেছে। অরুণ আলো, গাঙচিল ও পালকী, হংসবলাকা, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত, আকাশবীণা, ময়ূরপঙ্খী ও রাজহংস। এসব নামকরণ আমি করেছি। আমরা চেয়েছি যে একটা সুন্দর নামকরণ হোক।

৭৮৭ বোয়িং চারটি এসেছে। আরও তিনটি বিমান আমরা কিনব। একটানা ক্ষমতায় থাকার কারণেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, সুফল পাচ্ছে জনগণ। আকাশপথে চলাচলের সময় যে রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট আছে, সেসব ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ বিমানে ভ্রমণ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এখন বিমানে উঠলে গর্বে বুক ভরে যায়। আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সরকারি অফিসাররা যে যেখানেই যান, বাংলাদেশ বিমানেই যেতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :