২ ঘন্টায় ২০ হাজার মানুষকে যাকাত দিল কেডিএস

চট্টগ্রাম: রোজার আগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইফতার সামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে ১০ জনের অকাল মৃত্যুর পর পুলিশ প্রশাসন দানের সামগ্রী বিতরণ করার ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক ছিল।

অসংখ্য লোক জড়ো করে ইফতার-যাকাত বিতরণ করার আগে প্রশাসনকে অবহিত করার কথা বলেছিল পুলিশ। এরকম এক পরিস্থিতিতে বুধবার সকালে চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাত্র দুই ঘণ্টায় ২০ হাজার নারীপুরুষকে যাকাত সামগ্রী বিতরণ করে দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান কেডিএস গ্রুপ।

নগরীর পাশের উপজেলা পটিয়ার জিরি গ্রামে নিজ বাড়িতে যাকাত সামগ্রী বিতরণ করেন সকাল ৯টা থেকে ১১টা। পার্শ্ববর্তী চার গ্রামের প্রায় ২০ হাজার নারীপুরুষকে অনেক আগেই নির্ধারণ করা হয়। সামর্থ্য অনুযায়ী এদেরকে লাল, হলুদ, সবুজ সহ বিভিন্ন রঙের প্লাস্টিকের টোকেন দেওয়া হয়। সেই টোকেন জমা দিয়ে শাড়ি, লুঙ্গি, গেঞ্জি, টি-শার্ট, নতুন কচকচে টাকা সংগ্রহ করেন।

/uploads/files/nnr5okxBOBoHICcWqtCTmS9UXacOKFxGH4rI7PO4.jpeg

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেডিএস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ও তার ছেলে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান। সঙ্গে ছিল প্রায় ১০০ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক।

এ প্রসঙ্গে সেলিম রহমান বলেন, ‘১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আধুনিক এই পদ্ধতি অনুসরণ করে সুশৃঙ্খলভাবে যাকাত দেওয়া হচ্ছে। কখনও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবার প্রশাসনের তরফ থেকে একটু বেশি সতর্কতা ছিল। আমরাও ছিলাম সচেতন। ১২টি বুথে মাত্র দুইঘন্টায় ২০ হাজার লোক যাকাত নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে গেছেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোটার তালিকা দেখে এলাকায় গিয়ে যাকাত গ্রহণকারীদের তালিকা তৈরি করা হয় আগেই। তারপর তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় টোকেন। এসময় বলে দেওয়া হয় কে কয়টার সময় যাকাত সংগ্রহ করবেন। যাকাত প্রদানকারী কেডিএস গ্রুপের এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে মানসিকভাবেও অভ্যস্ত হয়ে গেছে যাকাত গ্রহণকারীরা। তারা বেঁধে দেওয়া সময়মতো সুশৃঙ্খলভাবে যাকাত গ্রহণ করে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যান।

/uploads/files/4GpvbdznEDnUGXYIRDn9ydSEvFNdzgarI2RUE7QB.jpeg

এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে কম সময়ে সুশৃঙ্খলভাবে যাকাত দেওয়ার ঘটনা চট্টগ্রামে বিরল। এর আগে কয়েকটি শিল্পগ্রুপের দানসামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারায় হতদরিদ্ররা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা বলেন, ‘যাকাত সামগ্রী বিতরণের ক্ষেত্রে বহুসংখ্যক মানুষ একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা এই ব্যাপারে এবার বেশ সতর্ক ছিলাম।’

প্রায় ৫০ বছর আগে সামান্য চাকরি দিয়েই কর্মজীবন শুরু খলিলুর রহমানের। অসামান্য মেধা, নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা দিয়ে গড়ে তুলেছেন গার্মেন্টস, ঢেউটিন, প্যাকেজিং, কনটেইনার ইয়ার্ড, ব্যাংক-বীমাসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারি রয়েছে। কেডিএস-এ চাকরির ক্ষেত্রে পটিয়ার অধিবাসীরা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের তিনবারের সভাপতি।

বছরে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানের লেনদেন সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর সরকারকে রাজস্ব দেন সব মিলিয়ে ৫০০ কোটি টাকার মতো। 

জাতীয় এর আরও খবর