রেলে ঝুঁকিপূর্ণ ঈদ যাত্রা!

মনি আচার্য্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম থেকে: ট্রেনের ভিতরে ঠাসাঠাসি অবস্থায় দাঁড়িয়ে যাত্রী। নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্যও একটু ফাঁকা জায়গা নেই। কি আর করা ঈদ উদযাপন বলে কথা, একটু কষ্ট সহ্য করাই যায়।

ট্রেনের ভিতরে নারী, পুরুষ ও শিশু এমন ঠাসাঠাসি করে গেলেও- তাদের যাত্রা মোটামুটি নিরাপদ। যত বিপত্তি ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের নিয়ে। ট্রেনের খোলা ছাদে সীমাহীন ঝুঁকি নিয়ে হাজারো যাত্রী ঈদ করতে যাচ্ছে আপনজনের কাছে।

এছাড়া দুই বগির সংযোগ স্থল, পাওয়ারকার ও ইঞ্জিনের বগিতেও মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে ঈদের যাত্রা শুরু করেছেন ঘরমুখো এই সব মানুষ। শুক্রবার (১৫ জুন)  চট্টগ্রাম মহানগরীর রেলওয়ে স্টেশনেরও চিত্র একই রকম। এখানে রেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়ত করছেন সাধারণ মানুষ।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পোশাক কারখানার শ্রমিক ও লবণ শ্রমিকদের ঈদ ছুটি হওয়ায় স্টেশনে যাত্রীদের উপচে পরা ভিড়। ট্রেনের ভিতরে সিট না পাওয়া ঝুঁকি নিয়েই ঈদ করতে রওনা দিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন সরেজমিনে দেখে যায়, চাঁদপুরগামী সাগরিকা এক্সপ্রেস ও ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ঈদ যাত্রীর চাপে ভয়াবহ চিত্র ধারণ করেছে।ট্রেন দুইটিতে স্বাভাবিক যাত্রীর তুলনায় কয়েকগুণ যাত্রী শুধুমাত্র ভিতরে অবস্থিত।

ট্রেন দুইটির ভিতরে দেখে যায়, নারী, পুরুষ ও শিশুসহ যাত্রীরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অস্বস্তিকর একটি পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছেন। এমনভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন পিছনে বা সামনের দিকে তাকানোর সুযোগটুকুও পযর্ন্ত নেই।

/uploads/files/crqLDUXjD5wAnKUjoF9o3dcQByhHOPmGNy6csAn8.jpegতবে ট্রেন দু‘টির ছাদের অবস্থা আরো ভয়াবহ। ভিতরে যেমন তিল ধারণের ঠাঁই নেই; ছাদেরও একই অবস্থা। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই ঈদ যাত্রায় সামিল হয়েছে নারী ও শিশু যাত্রীরাও।

ছাদের উপর এমন গাদাগাদি হয়ে বসা তাতে অল্প ঝাঁকুনিতেই ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। অবশ্য যাত্রীদের বসে থাকার চিত্র দেখ বোঝা গেল, তাদের মধ্যেও রয়েছে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

ট্রেনের দুই বগির সংযোগস্থল জায়গাটি যেখানে একজন মানুষের পক্ষ দাঁড়ানো সম্ভব না। সেখানে পর্যন্ত যাত্রীরা জিনিসপত্র নিয়ে বসে আছেন ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষায়। বগিগুলোর গেটেও দাঁড়ানো যাত্রী দিয়ে বোঝেই। একটু অসতর্কতাই ঘটে যেতে পারেন ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

সাগরিকা এক্সপ্রেসের ছাদে ঈদ করতে রওনা হয়েছেন যাত্রী সোহেল। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, টিকিট পাইনি, ট্রেনের ভিতরে দাঁড়াবার জায়গাও পাইনি। এখন একমাত্র ভরসা ট্রেনের ছাদ। ঝুঁকি তো আছেই, তবে মা বাবার সঙ্গে ঈদ কাটানোর আনন্দের তুলনায় এ ঝুঁকি কিছুই না।

ঝুঁকিপূর্ণ এই ঈদ যাত্রায় নীরব সমর্থন কেন দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের রেল পুলিশের সদস্য আলমগীর বার্তা২৪.কমকে বলেন, আজ চাঁদপুর, কুমিল্লা, লাকসাম ও ময়মনসিংহের যাত্রীদের চাপ বেশি। ফলে হাজার বারণ করলেও তারা আমাদের কথা শুনবে না। আর ঈদের যাত্রীদের কোনোভাবেই আটকানো যায় না।

 

আপনার মতামত লিখুন :