নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর সিসিকের অলিগলি

সিলেট: নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর সিলেট নগরীর অলিগলি। পাড়া মহল্লার সর্বত্র এখন ভোটের আমেজ। তবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে কর্মী সমর্থকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (সিসিক) প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে প্রচারণা। মুহূর্তের মধ্যে পোস্টারে ছেয়ে যায় নগরীর অলিগলি। দেয়ালে সাঁটানো হয় মেয়র ও কাউন্সিলরদের পোস্টার। এছাড়া ১০ জুলাই প্রতীক বরাদ্দের পর পরই অনেক প্রার্থী তাদের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন। এখনো করছেন কেউ কেউ।

সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গাল এলাকায় প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধান কার্যালয় করেছেন নগরীর শাহী ঈদগাহে মিতা কমিউনিটি সেন্টারে। একই রোডের ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের নুরে আলা কমিউনিটি সেন্টারে কার্যালয় করেছেন জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এছাড়া বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান সেলিম শাহী ঈদগাহ এলাকায় কার্যালয় করেছেন। মূলত এসব কার্যালয় থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন প্রার্থীরা।

বুধবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে পুরো সিলেট শহর হয়ে উঠে নির্বাচনের নগরী। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বন্দরবাজারের লালবাজার এলাকা থেকে তার দিনের কার্যক্রম শুরু করেন। সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ নেতাকর্মী নিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনায় অংশ নেন তিনি। আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষের পক্ষে বন্দরবাজার-জিন্দাবাজার এলাকায় প্রচারণা চালান। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৪০ থেকে ৫০ নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন। জামায়াতের প্রার্থী জুবায়ের জিন্দাবাজার এলাকায় গণ সংযোগ করেন।

/uploads/files/GuHVHNmwxvbBVQDlYK2sUX2Qnd6OiLMG0SmWran9.jpeg

নগরীর দরগাহ মহল্লার বাসিন্দা সায়রা খাতুন বলেন, ‘প্রচারণা মাত্র শুরু হয়েছে, এরই মধ্যে মাইকিংয়ের শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। বাকি ১৮ দিন যে কীভাবে পার করব ভেবে পাচ্ছিনা। আমার এই ওয়ার্ডে সড়ক পথ খুব কম। এক পাড়ায় একসাথে একাধিক প্রার্থীর মাইকের শব্দে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।’

এদিকে বিএনপির প্রার্থী সদ্য সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী তার সময়ে করা উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে। তার দাবি, সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তিন বছর কারাগারে থাকায় পুরো সময় এবং শ্রম জনগণকে দিতে পারেননি তিনি। যা দিয়েছেন তা দৃশ্যমান রয়েছে। রাস্তা ঘাট প্রশস্তকরণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে তার গৃহীত পদক্ষেপের সুফল সাধারণ নাগরিকরা ভোগ করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি পুনরায় জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের দাবি, আরিফ যে উন্নয়ন করেছেন সেটি তার সরকার করেছে। পুরো উন্নয়নের অবদান সরকারের। তিনি পরিকল্পিত নগরী গড়তে সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। কামরান জানান, কেবল রাস্তাঘাট ও দৃশ্যমান উন্নয়ন করলেই উন্নয়ন হয়না। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম চালাতে হবে।

জাতীয় এর আরও খবর