Alexa

শর্ত না মানায় বিআরটিএ-এর লাইসেন্স পাচ্ছে না উবার-পাঠাও

শর্ত না মানায় বিআরটিএ-এর লাইসেন্স পাচ্ছে না উবার-পাঠাও

ঢাকা: রাইড শেয়ারিং নীতিমালার সব শর্ত না মানায় আপাতত উবার-পাঠাও সহ রাইড শেয়ারিং অ্যাপস গুলোকে লাইসেন্স দিচ্ছে না বিআরটিএ। যে শর্তগুলো মেনে আবার আবেদন করতে হবে- তা চিঠি দিয়ে এ সপ্তাহের শেষেই জানিয়ে দেবে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

সোমবার (২৩ জুলাই) বিআরটিএ কার্যালয় থেকে বার্তা২৪.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে একই বিষয় একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিআরটিএ।

রাজধানীর এলেনবাড়িতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে রাইড শেয়ারিং অ্যাপসগুলো যাচাই-বাছাই করতে একটি সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেলে ৪ থেকে ৫ জন কর্মকর্তা কাজ করেন। এসব কর্মকর্তা আবেদনকারী ১০ টি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯ টি পরিদর্শন করেছেন।

সবগুলো অ্যাপ বিআরটিএ-এর রাইড শেয়ারিং নীতিমালার পুরোপুরি মেনে চলতে পারছে না। এ কারণে তাদের নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় সহসা লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নীতিমালার সব শর্তপূরণ করে এলে তাদের লাইসেন্স দেবে বিআরটিএ।

বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. নুরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পাঠাও ও উবারসহ সবগুলো অ্যাপস প্রতিষ্ঠান নীতিমালার সব বিধিবিধান ঠিকমতো মানছে না। এ কারণে তাদের আবেদন বিবেচিত হয়নি। ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব ত্রুটি মিটিয়ে নীতিমালার সবগুলো শর্ত মেনে আসলে নিবন্ধন করা হবে বা লাইসেন্স দেওয়া হবে।’

এ সপ্তাহের শেষদিকে অ্যাপস প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে কোন শর্তগুলো লঙ্ঘন বা সম্পূর্ণ করেননি তা জানিয়ে দেওয়া হবে- জানান পরিচালক নুরুল ইসলাম।

বিআরটিএ রাইড শেয়ারিং সেল জানায়, পাঠাও উবারসহ রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো মনিটরিংয়ের জন্য বিআরটিএর কাছে ‘অনলাইন অ্যাকসেস’ ও ‘পাসওয়ার্ড’ দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু কোন অ্যাপ প্রতিষ্ঠান তা করেনি। আবার অ্যাপসগুলোর সার্ভারসহ দেশে থাকতে হবে সব কার্যক্রম-এমন তথ্য দেখাতে পারেনি উবার পাঠাও।

এছাড়া, মোটরযান চালকের তথ্যাদি ও যাত্রীর জিপিএস লোকেশন ‘ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক (৯৯৯) যাতে দেখতে পারে তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। কিন্তু সে শর্ত মানেনি কোন অ্যাপস। শুধু ৯৯৯ ফোন দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিআরটিএ রাইড শেয়ারিং সেল জানায়, উবার, পাঠাও, সহজ, রাইডার, আকাশ টেকনোলজি, রিং টেকনোলজি সহ ১০ টি অ্যাপস রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছে। নীতিমালার শর্ত মানলে চলতি মাসের মধ্যেই তাদের নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব হতো।

বাংলাদেশে ২০১৬ সালের শুরুতে প্রথম রাইড শেয়ারিং সেবা দেওয়া শুরু করে ‘স্যাম’ নামে অ্যাপ। তখন বিআরটিএ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এরকম সেবা অবৈধ আখ্যা দেয়।  এরপর ওই বছরের ২২ নভেম্বর বিশ্বের সবচেয়ে বড় অন-ডিমান্ড রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার ঢাকায় চালু হয়। তখনও একই বিজ্ঞপ্তি দেয় বিআরটিএ। তারপর ‘পাঠাও’১৫ ডিসেম্বর থেকে চালু করে মোটরসাইকেল রাইডশেয়রিং। এখন উবার পাঠাও ছাড়াও রাইড শেয়ারিংয়ে সক্রিয় আছে ‘সহজ রাইডস’, ‘ওভাই সহ কয়েকটি অ্যাপ। তবে প্রায় ৯০ ভাগ রাইডশেয়ারিং হয়  উবার-পাঠাও এ দুই অ্যাপে। প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে রাইডসংখ্যা সবচেয়ে বেশি উবারের। আর মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে রাইডসংখ্যা বেশি পাঠাও-এর- বিভিন্ন জরিপে এ তথ্য জানা গেছে।