স্বপ্ন জয়ের চেষ্টায় ইন্দ্রজিত!

কান্ট্রি ডেস্ক, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নড়াইল: পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নেই একটুও। তবে স্বপ্ন তার আকাশ ছোঁয়ার। তাইতো কখনো মাছ ধরে, অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে বা টিউশনি করে লেখাপড়া করেন ইন্দ্রজিত। এবার নড়াইল সদর উপজেলার বল্লারটোপ আদর্শ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।

ইন্দ্রজিতের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার হোগলাডাঙ্গা গ্রামে। তার বাবার নাম গোবিন্দ বিশ্বাস। পেশায় তিনি একজন জেলে।

জানা গেছে, গোবিন্দ বিশ্বাসের তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় ইন্দ্রজিত। অন্য দুই ভাই স্কুলে লেখাপড়া করে। বাড়িতে বসবাসের ৬ শতক জমি ছাড়া অন্য কোনো জমি নেই। একটি মাত্র ঘরে ইন্দ্রজিতের দাদি, বাবা-মাসহ ৬ জন বসবাস করে। অভাবের সংসারে তাদের নুন আনতে পান্থা ফুরায় অবস্থা। বাবা গোবিন্দ বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় খাল-বিলে মাছ ধরে সংসার চালান। অন্য সময় নড়াইল শহরের আড়ত থেকে মাছ কিনে বাজারে বিক্রি করেন। একদিন মাছ বিক্রি না করলে তাদের ৬ জনের সংসারে ভাতের হারি জ্বলে না। এমন অবস্থায় ইন্দ্রজিত স্বপ্ন দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে ম্যাজিস্ট্রেট হবেন।

মেধাবী শিক্ষার্থী ইন্দ্রজিত বিশ্বাস বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করছি। আমি এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ পেয়েছি। কলেজে পড়ার সময় শিক্ষকরা ফ্রি বই দিয়ে এবং প্রাইভেট পড়িয়ে সাহায্য করেছেন। তারা আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। আমি ইংরেজিতে লেখাপড়া করে ম্যাজিস্ট্রেট হতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই। সমাজের কোনো বিত্তবান ব্যক্তি যদি আমাকে সাহায্য করত তাহলে হয়তো আমার স্বপ্ন পূরণ হতো।’

ইন্দ্রজিতের মা দিপ্তরাণী বিশ্বাস বলেন, ‘আমি লেখাপড়া জানি না। কিন্তু ছেলেটা অনেক কষ্ট করে ভালো রেজাল্ট করেছে। এখন কী করে সে ঢাকার বড় কলেজে পড়বে জানি না। হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে ওর লেখাপড়া।’

বাবা গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘ইন্দ্রজিত আগে মাছ ধরে সংসারের হাল ধরবে, তারপর তার লেখাপড়া। ছেলের ভালো রেজাল্ট দিয়ে কী হবে? আমার সামর্থ্য নেই তার লেখাপড়া চালানোর।’

বল্লারটোপ আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ইন্দ্রজিত অত্যন্ত মেধাবী এবং ভালো ছেলে। আমরা কলেজের প্রতিটি শিক্ষক ওকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছি। কিন্তু অভাবের সংসারে এখন সে কীভাবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করবে সেটা ভাবার বিষয়। দেশের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে ইন্দ্রজিতের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। তাই তাকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আপনার মতামত লিখুন :