দুবাইয়ের ১৬৩ তলা ভবনে চোখ ধাঁধানো ‘আলোর ঝলকানি ও পানির নাচ'

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মধ্যপ্রাচ্যের হংকং হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর। প্রাকৃতিক সম্পদ জ্বালানি তেল ছাড়াও পর্যটন ব্যবসায় পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এমন সব উদ্যোগ আর উদ্যম শুরু করেছে আরব দেশের এ শহরটি- যা সত্যিই বিস্ময়কর। বাংলাদেশী টাকায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি খরচ করে  ৮২৮ মিটার উচ্চতা ও ১৬৩ তলার এমন এক দৃষ্টিনন্দন ভবন তৈরি করেছে যা সহজেই চমকে দেবে যে কাউকেই।

ভবনটির নাম ‘বুর্জ খলিফা’, নির্মাণকাজ শুরুর সময় এর নাম ছিল ‘বুর্জ দুবাই’। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি এর উদ্বোধন হয়। এটি ‘দুবাই টাওয়ার’ হিসেবেও পরিচিত।

বুর্জ খলিফার পুরো টাওয়ার পরিদর্শন করতে সর্বোচ্চ টিকেট ফি ১৪০ ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় ১২ হাজার, সর্বনিম্ন ৪৩ ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় ৩ হাজার ৬০০। প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার পর্যটক এই টাওয়ার পরিদর্শন করেন। তাদের অধিকাংশই হলো বিদেশি। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পর্যটকদের পরিদর্শনের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়।

দিনের চেয়ে রাতের বুর্জ আরবের রূপ একেবারেই অন্যরকম, আলো-আধাঁরি ও সঙ্গীতের মূচ্ছর্নার চোখধাঁধানো ব্যতিক্রমী এক আয়োজন। পুরো ভবনজুড়ে চলতে থাকে লেজার শো। ভবনের নিচে ওয়াটার ড্যান্সিংও বুর্জ আরবের আরেক আকর্ষণীয় দিক। লেজার শো এবং ওয়াটার ড্যান্সিংয়ের সময় চলতে থাকে সুরেলা আরবি গান। আবার লেজার শো আর ওয়াটার ড্যান্সিং এক সঙ্গে চলে না। একটি শেষ হলে বিরতি দিয়ে শুরু হয় আরেকটি। মনোমুগ্ধকর একই সঙ্গে বিস্ময়কর আলোক ঝলকানি আর পানিনৃত্য যে কাউকে বিমুগ্ধ করবে।

 

সে কথা বলছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪ বছর ধরে বসবাসকারী চট্টগ্রামের রাউজানের ছেলে মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই বদলে যাচ্ছে দুবাই। নতুন নতুন সব চমক এখানে।’

দুবাই ঘুরতে গেছেন চট্টগ্রামের দুই নামকরা সাংবাদিক সারোয়ার সুমন ও আসিফ সিদ্দিকী। দৈনিক সমকাল চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমন তার প্রতিক্রিয়ায় জানালেন, ‘রাতের দুবাই মনে হয় স্বপ্নপুরী। তার সাথে আলোর ঝলকানি। আলোর সঙ্গে সুন্দরের ঝলকানি।’

‘ছবিতে দেখেছিলাম দুবাই। বাস্তবে যে এতোটা সুন্দর হবে কল্পনাও চিন্তা করিনি। আসলে অসম দুবাই’- বললেন কালের কণ্ঠের বিজনেস ও পোর্ট রিপোর্টার আসিফ সিদ্দিকী।

পৃথিবীর বিখ্যাত এমার প্রপার্টিজ বুর্জ খলিফার ডেভেলপার। ভবনের গায়ে আলোর খেলায় তাই ইংরেজি অক্ষরে ভেসে উঠে এমারের নাম। পুরো ভবনে বাসা রয়েছে এক হাজারেরও বেশি। সুইমিংপুল দুটি। পাঁচতারকা হোটেল, রেস্টুরেন্ট কি নেই এতে ! সর্বোচ্চ দ্রুত গতির লিফট স্থাপন করা হয় এতে। যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। ২০০৪ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এর নির্মাণ কাজ করা হয়। নির্মাণকাজে প্রায় প্রতিদিন ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করারও নজির রয়েছে। তিনদিন পর পর ঢালাই হতো একেকটি ছাদ।

সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে বানানো পৃথিবীর বিখ্যাত এ ভবনটি থেকে বছরে পর্যটক ফি বাবদ আয় হয় হাজার কোটি টাকার বেশি, অন্যান্য আয় বাদ দিয়ে। ১৯৬৬ সালে প্রথম তেল আবিস্কৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতীয় ও ইরানি ব্যবসায়ীদের করবিহীন রপ্তানি বন্দর হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো এ দুবাই।

 

তলা

ব্যবহার

১৬০-১৬৩

কারিগরি

১৫৬-১৫৯

যোগাযোগ এবং সম্প্রচার

১৫৫

কারিগরি

১৪৯-১৫৪

কর্পোরেট স্যুট

১৪৮

দ্য নিউ ডেক পর্যবেক্ষণাগার

১৩৯–১৪৭

কর্পোরেট স্যুট

১৩৬-১৩৮

কারিগরি

১২৫-১৩৫

কর্পোরেট স্যুট

১২৪

অ্যাট দ্য টপ পর্যবেক্ষণাগার

১২৩

স্কাই লবি

১২২

অ্যাটমোস্ফিয়ার রেস্তোরাঁ

১১১-১২১

কর্পোরেট স্যুট

১০৯-১১০

কারিগরি

৭৭-১০৮

আবাসিক

 

৭৬

স্কাই লবি

৭৩-৭৫

কারিগরি

৪৪-৭২

আবাসিক

৪৩

স্কাই লবি

৪০-৪২

কারিগরি

৩৮-৩৯

আরমানি হোটেল স্যুট

১৯-৩৭

আবাসিক

১৭-১৮

কারিগরি

৯-১৬

আরমানি বাসস্থান

১-৮

আরমানি হোটেল

নিচতলা

আরমানি হোটেল

খোলা স্থান

আরমানি হোটেল

বি১-বি২

পার্কিং, কারিগরি

আপনার মতামত লিখুন :