খাল-বিলে বাঁধ, হুমকির মুখে দেশীয় মাছ

কান্ট্রি ডেস্ক, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মেহেরপুর: মেহেরপুরের নদী-নালা, খাল-বিলে অবাধে শিকার করা হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। কারেন্ট জাল ব্যবহার করায় মাছের সঙ্গে জলজপ্রাণীও মারা হচ্ছে। প্রশাসনের তেমন কোনো তদারকি না থাকায় দেশীয় মাছ ও জলজপ্রাণীর বংশ বিস্তার এখন হুমকির মুখে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলার প্রধান নদ ভৈরবের কিছু অংশ পুনঃখনন করা হয়েছে। এ অংশের বিভিন্ন জায়গায় কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার চলছে। অপরদিকে রসিকপুর গ্রাম থেকে কোমরপুর গ্রাম পর্যন্ত পুনঃখনন না হওয়া অংশে আড়াআড়ি বাঁধ রয়েছে ৫-৬টি। এতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। আর দেশীয় মাছ এবং জলজপ্রাণী অবাধে শিকার করছে মৎস্য শিকারিরা।

এদিকে গাংনী উপজেলার প্রধান মাথাভাঙ্গা নদীর কাজিপুর থেকে শুরু করে কেশবপুর পর্যন্ত প্রায় শতাধিক বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। একইভাবে ছেউটিয়া ও কাজলা নদীতে মাছ শিকার করা হচ্ছে কারেন্ট জাল দিয়ে। এছাড়াও নাগদার খাল, সরস্বতী খাল, ভরাট খালসহ বিভিন্ন খালে মাছ শিকারের চিত্র প্রায় একই রকম।

জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম ছিল। এতে খাল-বিল ও নদীগুলোতে তেমন পানি ছিল না। এ সুযোগে পানি সেচে মাছ শিকার করেছে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। শ্রাবণের প্রথম থেকে ভারী বর্ষণের ফলে নদ-নদীগুলোতে পানিতে ভরে উঠেছে। খালবিলেও পানি রয়েছে। ফলে স্থানীয় হাটবাজারে স্বল্প পরিমাণে হলেও দেশী প্রজাতির শিং, মাগুর, পুঁটি, বাইন, টেংরা, টাকি, খলিশা, চান্দা, মলা-ঢেলা ইত্যাদি মাছের দেখা মিলছে। কিন্তু দেশীয় মাছের বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না মৎস্য অধিদপ্তর।

মৎস্য সংরক্ষণ আইনে কারেন্ট জাল ও বাঁশের ঘের দিয়ে মাছ শিকার নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রজননের সময়ে ডিমওয়ালা মা মাছ শিকার নিষিদ্ধ। কিন্তু আইন উপেক্ষা করেই যত্রতত্র মাছ শিকার করা হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/01/2018-Aug-01_12_23_04_news_post.jpg

বাঁধ অপসারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে মৎস্য অধিদপ্তরকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে প্রস্তুত। অভিযানের সময় মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের লিখিত অভিযোগ (প্রসিকিউশন) দিতে হবে।’

মৎস্য শিকারির কয়েকজন জানায়, মুক্ত জলাশয়ে মাছ পাওয়া যাচ্ছে তাই শিকার করছে। মাছ ধরা অনেকের কাছেই পেশা না হলেও নেশার বশে প্রতি বছর কম বেশি মাছ ধরে তারা। অপরদিকে কিছু জেলে মাছ শিকার করে বিক্রিও করে। এতে বর্ষা মৌসুমে কিছু আয়ও হয় এসব মৌসুমী জেলেদের।

সরস্বতী খালে মানিকনগর গ্রামের মধ্যে বাঁধ দিয়েছেন আবুস উদ্দীন নামের এক ব্যক্তি। জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘অনেকেই বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছে, তাই আমিও করছি।’

মেহেরপুর জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মাছের চাহিদা রয়েছে বছরে ১২ হাজার ৪৩৯ টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয় ৯ হাজার ৮০৫ টন। এর মধ্যে ৯০ ভাগ জোগান আসে চাষকৃত মাছ থেকে। আর মুক্ত জলাশয় কিংবা নদ-নদী থেকে আসে মাত্র ১০ ভাগ। জেলার চারটি প্রধান নদ-নদী ও খাল বিলে যদি এ বছরের মতো পানি থাকে এবং দেশী প্রজাতির মাছ স্বাভাবিক বংশবিস্তার করতে পারে তাহলে চাহিদার ৮০ ভাগ এখান থেকে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

মেহেরপুর মৎস্য অধিদপ্তরের খামার ব্যবস্থাপক ড. আসাদুজ্জামান মানিক জানান, কোথায় কোথায় বাঁধ আছে তার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দুই এক দিনের মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হবে।