ছাগল পালন করলে জরিমানা করা হয় মালিককে

কান্ট্রি ডেস্ক, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঝিনাইদহ: ক্ষেত খাওয়া আর সংঘর্ষের অজুহাত দেখিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপার ৩০টি গ্রামে ছাগল পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে গ্রাম্য মাতুব্বররা। যে কারণে চরম বিপাকে পড়েছে ওইসব গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ। আর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ উন্নয়ন।

প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তারা বলছে, এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য গ্রাম্য মাতুব্বরদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। প্রয়োজনে প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া হবে।

প্রবাদ রয়েছে ‘গরিবের গাভি হচ্ছে ছাগল’। বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ছাগল পালন বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। গ্রামীণ জনপদের নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ের অন্যতম উৎস ছাগল পালন। ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছে অনেকেই। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু শৈলকুপার ৩০টি গ্রামে। ‘ছাগলে ক্ষেত খায় যে কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে’ এ অজুহাত তুলে শৈলকুপার ৩০টি গ্রামে ছাগল পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে গ্রাম্য মাতুব্বরা। তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় বন্ধ রয়েছে ছাগল পালন।

এদিকে মাতুব্বরদের এ অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না সাধারণ দরিদ্র মানুষ। শৈলকুপার কেষ্টপুর, বেষ্টপুর, বেড়বাড়ী, দহকোলা, হড়রা, ব্রহ্মপুর, মৌকুড়ী, নাদপাড়া, দিগনগর, হাকিমপুর, সারুটিয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ছাগল পালন চোখে পড়েনি।

এছাড়াও মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর, গোলকনগর, আলমডাঙ্গা, রাজনগর, চড়িয়ারবিল, যুগিপাড়া ও বালাপাড়া, দিগনগর ইউনিয়নের হারুনদিয়া, ইটালী, কৃষ্ণনগর, গোকুল নগর, হড়রা, দিগনগর, রতনপুর ও দহকোলা, ত্রিবেনি ইউনিয়নের শিতলীডাঙ্গা ও বসন্তপুর, দুধসর ইউনিয়নের ত্রিপুরাকান্দি ও টংবিলা, ফুলহরি ইউনিয়নের বৃত্তিপাড়া ও বেড়বাড়ী, বগুড়া ইউনিয়নের নাগিরাট, দোহানাগিরাট ও মকরামপুর, নিত্যান্দপুর ইউনিয়নের বুড়ামারা, সাহাবাসপুর ও পিড়া গাতি, উমেদপুর ইউনিয়নের বেষ্টপুর, কেষ্টপুর, লক্ষণদিয়া, বারইপাড়া, ধরহরাচন্দ্র ইউনিয়নের চরআউশিয়া, মাজদিয়া, কাশিনাথপুর, বন্দেখালী, মালিথিয়া, ছাইভাঙ্গা ও ধাওড়া হাকিমপুর ইউনিয়নের দোহারো, গোবিন্দপুর, বিপ্রবগদিয়া, নাদপাড়া, সারুটিয়া ইউনিয়নের সাহাবাড়িয়া, গাংকুল ও বড়মৌকুড়ি গ্রামে ছাগল পালন নিষিদ্ধ রয়েছে।

কোনো কোনো গ্রামে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে ছাগল পালন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়িতে ছাগল পালনের জন্য নিয়ে আসলেও মাতব্বরা তা জবাই করে খেয়ে নেন। এছাড়া জরিমানাও করা হয় ছাগল মালিককে।

ছাগল পালনে বাধা আসায় কমছে উৎপাদন। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে। বর্তমানে জেলার হাট-বাজারে খাসির মাংস প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে মাতুব্বরদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যদি তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করেন তাহলে প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া হবে।