স্কুলের কম্পিউটার এখন শিক্ষকদের বাসায়!

কান্ট্রি ডেস্ক, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চুয়াডাঙ্গা: উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিক পর্যায়েও শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে সরকার থেকে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য ল্যাপটপ-কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহ করা হয়। কথা ছিল সপ্তাহের একদিন মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হবে। কিন্তু নানা সমস্যা ও সংকটে ভেস্তে যাওয়ার পথে সেসব পরিকল্পনা। যদিও এ ধরনের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু শিক্ষকদের অদক্ষতা, অবকাঠামো সংকট ও জনবল অপ্রতুলের কারণে চুয়াডাঙ্গায় কাজে আসছে না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সরঞ্জাম। অকেজো হয়ে পড়ে আছে এ প্রকল্পের লাখ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ। ফলে জেলার প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকলেও এসব সমস্যার কারণে আধুনিক এ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য এসব ল্যাপটপ-কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর শিক্ষকরা বাসায় নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে ডিজিটাল এই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/01/2018-Aug-01_14_53_40_news_post.jpg

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল ল্যাবে ক্লাস করতে আগ্রহী সব শিক্ষার্থীরাই। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এগুলোর ব্যবহার হয় না। তালাবদ্ধ থাকে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে। জেলার অল্প সংখ্যক প্রাথমিক স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু থাকলেও তা নাম মাত্র। প্রতিদিন একটি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস পাওয়ার কথা থাকলেও সপ্তাহ জোটে একটি ক্লাস। ফলে চরম ভাবে হতাশা প্রকাশ করেছে জেলার অসংখ্য শিক্ষার্থীরা।

সদর উপজেলার হিজলগাড়ী সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বছরে একদিনও তাদের বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয়নি। ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র আবিদ বলে,‘আমাদের স্কুলের ল্যাপটপ স্যারেরা বাসায় নিয়ে গেছে। তাহলে ক্লাস করুম কেমনে।’

জেলা সদরের আরেকটি স্কুলে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষক সংকটের কারণে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের বেহাল দশা। ছোটশলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজেই তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের সরকারি ল্যাপটপ। তবে স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাদ আহমেদের দাবি তিনি নিরাপত্তার জন্যই স্কুলের ল্যাপটপটি তার বাসায় রেখেছেন।

 https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/01/2018-Aug-01_14_55_44_news_post.jpg

শুধুমাত্র কয়েকটি স্কুল না জেলার প্রায় সবকটি স্কুলের মাল্টিমিডিয়ার এমন বেহাল অবস্থা স্বীকার করে শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে আইসিটিতে তেমন দক্ষতা না থাকায় সঠিকভাবে ক্লাস করানো যাচ্ছে না। প্রতি স্কুলে দু’একজন করে শিক্ষককে সরকারি ভাবে মাত্র ১৪ দিনের আইসিটির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ক্লাস নেয়া বা মাল্টিমিডিয়া চালানোর জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। তাই শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন। তা না হলে ডিজিটাল পদ্ধতির এ শিক্ষা দেয়া সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি আগস্ট মাস থেকে জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলোর এই সমস্যা দূর হবে বলে আশা করা যায়।

জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন জানান, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।

তবে শুধুমাত্র আশার বাণী নয়, দ্রুত এই সমস্যা দূর করে জেলার অবহেলিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিয়মিত নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।